যশোর থেকে বিশ্বভুবনে- কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন

প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২১

যশোর থেকে বিশ্বভুবনে- কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন

 

মোজাফফার বাবু

সুদর্শন আকর্ষনীয় চেহারা ও চমৎকার বাচনভঙ্গি অসম্ভব মেধা শক্তিধর ও সাহসী কবি যাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তার নাম প্রিয় কবি “রেজাউদ্দিন স্টালিন।” জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ক্ষুরধার কাব্যশৈলীর স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য কাব্যাামোদীদের দৃষ্টি
কেড়েছে।
তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে যশোর মাহমুদুর রহমান হাই স্কুল ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলেজে (এমএম কলেজ) ।
মাথার উপর সুনীল আকাশ ভেসে ভেসে চলে মেঘ।যেন কোনো রং তুলি দিয়ে সুনিপুন কারুকার্য এক দিগন্ত থেকে অন্য দিগন্তে ছুটে চলেছে ।কখনো কালো মেঘ ঝমঝমে বৃষ্টি আবার ভ্যাপসা গরম আবার ধবধবিয়ে ধবল আকাশ দূর থেকে আরো দূরে মেঘ আর কাশফুলের যেন মিলনমেলা।
অবারিত মাঠে সুশীতল বাতাসে কাশফুলের দোলার শেষ নেই।নিশিরাতে হাল্কা হিমের ছোয়া ,আবার কুসুমবাগে শিশিরভেজা তৃণ প্রভাতের সূর্যের আলোয় চিকচিক করে।গাছ গাছালির নতুন সজীবতা ফিরে পায়।কবি যেন প্রকৃতি তার তুলি দিয়ে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করেছে হেমন্ত কালকে ।তাই প্রকৃ্তি প্রেমিক কবি তার মাঝে খুঁজে পায়
মনোমুগ্ধকর কবিতা , নান্দনিক রুপ প্রকাশিত হয় রেজাউদ্দিন স্টালিনের
কবিতায়ঃ
হেমন্তের এ রাত্রি আরো গভীর হলো গানে,
রবীন্দ্রসংগীত ও ছিলো, আকাশের উদ্যানে
চাঁদের সভায় শ্রোতা ছিলো সহস্র জোছনারা,
বাউল ছিলো বৃক্ষরা আর তারার একতারা।
প্রকৃতি প্রেমিক কবি যেন প্রকৃতির তুলি দিয়ে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করেছে হেমন্তকালকে।
আবার দেখেছি সাম্প্রাজ্যবাদী পূঁজিবাদী ব্যবস্হায় সারাবিশ্বের অর্থনীতি যখন টালমাতাল , আশির দশকের তিন জন প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেপভ, চেরনেনকো, আন্দপোভের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বিশস্ত খলনায়ক মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারকবাহক গর্ভাচেভ ক্ষমতায় আসিন হয় চারিদিকে অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত থেকে আর ও ঘনীভূত। পশ্চিমা আইনের শাসনে মানবতা ধূলোয় গড়াগড়ি খায় ।- এই বামমনা , বিজ্ঞান মনস্ক প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী
মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় শিক্ষার চলমান প্রক্রিয়ায় সাথে সাথে প্রাণবন্ত বস্তুবাদী আলোচনা তার এবং দ্রোহের কবিতা ঘুনেধরা রাজনৈতিক অঙ্গনে শিশর ভেজা নতুন সকালের বার্তা দেয় ।
সুন্দর পরিছন্ন ফনিক্স সাইকেলে চড়ে নলডানা গ্রামের সেই সাদামাটা কবি মাঠে পথে প্রান্তে ঘামে ভেজা খনিশ্রমিক, ক্ষরা বন্যায় দরিদ্র্য লড়াকু কৃষকের পাশেই সব সময় দাঁড়িয়েছিল। মমতাবোধ প্রজ্ঞা মেধা বস্তু‘ নিষ্ট চেতনা শানিত কবি তাদের জন্য লিখেছেন।
পৃথিবীর সব সংগ্রামী কবির সাথে মিল একই অবয়বের চিত্তে কর্মে রেজাউদ্দিন স্টালিনের। ভেসে উঠে , ল্যাটিন আমেরিকার কিংবদন্তির কবি পাবলো নেরুদা,রুবেন দারিও,লোরকার অবয়ব। সাইকেলে চড়ে ঘুরে ঘুরে অসহায়ত্ব দারিদ্র যাযাবর পথহারা মানুষের জন্য , শত প্রতিকুলতার মধ্যেও আন্তর্জাতিক জাতীয়তাবাদের লক্ষে অটুট ছিলেন চে গুয়েভারা – তাঁর প্রতি স্টালিনের ভালোবাসা।আরো তিনি ভালোবাসেন
রুশ কবিদের।
কবি রেজাউদ্দিন মা মাটি মানুষের পক্ষে থেকে তার পতিটি কবিতায় আলাদা আলাদা স্বাদ ঘ্রাণ রয়েছে মহাসাগরের তলদেশ থেকে কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্ব সব রহস্য পিপাসুদের হাতে এনে দিয়েছেন এটাই তার অনাবদ্য স্বপ্ন।তিনি বিশ্বের পথে প্রান্তে মা মাটি মানুষ সমানাধিকারের কথা ভাবেন, ভোগ বিলাস সুবিধাবাদী আখের গুছানো পরিহার করে – কবিতার লেখনীর চেতনার মশাল জালিয়েছেন ।
সাম্য ও মানবতার সামগান করেছেন।বিশ্বের সাতশ কোটি মানুষ একটি পরিবার। আমি ঘরের নয় পরের, আমি নিজের নই দেশের।
এই বিজ্ঞানমনস্ক চেতনা ও মানবতাবাদী আলোকিত কবির সাফল্যের পিছনে যে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছেন যশোরের সমাজ বিনির্মানের কারিগর গর্ভধারিনী জননী সেই শ্রদ্ধেয়া রেবেকা সুলতানা। তার মিষ্টি শাসন আদর সোহাগ কবির যাত্রা কন্টকমুক্ত করেছে।- আবারো ও কবির আবির্ভাব দিবসে গর্ভধারিণী জননীর প্রতি শ্রদ্ধা ।
হেমন্তে প্রকৃতি যেমন নতুন রূপে পেখম মেলে। গাছে গাছে হলদে পাখি শালিক, শ্যামা দোল খায়।গাছ গাছালি পাখপাখালি পরস্পর পরস্পরের সাথে সুখ প্রকাশ করে, স সন্ধ্যায় আকাশের চাঁদটা জ্বলজ্বল করে। আলোকিত করে বিশ্ব নিখিল।ক্ষণিকের জন্য কবি যশোরের উদার আকাশ আর কৈশোরের স্মৃতিতে
সম্মোহিত হন।
বৈশ্বিক মহামারিতে গোটা বিশ্ব স্তব্ধ তারই মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরের মধ্যে নীরবে নিভৃতে পত্রিকা ফেসবুকের মাধ্যমে দেশ বিদেশের খবর ও সাহিত্য নিয়ে সময় কেটেছে তার।
এরই মাঝে পড়লাম প্রিয় কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনের “বৈপ্ররীত্য” কবিতাটির প্রত্যেকটি লাইন শক্তিশালী বার্তা বহন করে।কতো চমৎকার ভাবে তিনি লিখেছেন। বর্তমানকালের দোলাচল।এক অসামান্য কবি তিনি।এপার বাংলা ওপার বাংলায় অনন্য। নাড়া দেয়।খুব সহজ সরল মিষ্টভাষী , খুব সহজে মানুষকে আপন করে নেবার শক্তি তার। মনোমুগ্ধকর কবিতা বাংলার কবিতা পিপাসু প্রেমিকদের নাড়া দেয় ও আলোর পথে নিয়ে যায়। সততা স্বকীয়তা মানবিক মূল্যবোধ মানুষকে আপন করে তেমনই খুবই সহজে জয় করেন পাঠক হৃদয়।
বর্তমান সময়ে কিছু কবিতা ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। যেমন ফেসবুক, হালখাতা, অভয়, তদন্ত রিপোর্ট, হেমন্তের রাত্রি, ব্যবচ্ছেদ,মৃত্যুদেশ। কবির প্রতি নিরন্তর শ্রদ্ধা রেখে
পরিশেষে এই শক্তিধর বিজ্ঞানমনস্ক নান্দনিক কবি পথ চলা হোক বাঁধা মুক্ত। মসৃণ হোক স্বপ্নযাত্রা, ফুলে ফুলে বিকশিত হোক তার কবিতার ভুবন। কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন হোক তার জীবন।প্রকৃতি পেখম মেলুক। গাছে গাছে হলদেটে পাখি শালিক, শ্যামা দোল খাক ।গাছ গাছালি পাখপাখালি পরস্পর পরস্পরের সাথে সুখ প্রকাশ করুক। সাঁঝো সন্ধ্যায় আকাশের চাঁদটা জ্বলজ্বল করে কবিকে ভালোবাসা দিক।নক্ষত্রের কিরণে আলোকিত হোক বিশ্ব নিখিল।
পরিশেষে এই শক্তিধর বিজ্ঞানমনস্ক নান্দনিক কবির জয় হোক। মসৃণ হোক তার পথ। আজ তার আবির্ভাব দিবসে ফুলে ফুলে বিকশিত হোক তার কবিতার ভুবন। কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন হোক তার জীবন।মাইকেল থেকে স্টালিন এই হোক যশোরের যশ।