যে কারণে খালেদা ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত: ২:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮

যে  কারণে খালেদা ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে ।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে হওয়া মামলায় বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ এই আদেশ দিয়েছেন ।

বিচারক আগামী ৭ অগাস্ট পরোয়ানা তামিলের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন রেখেছেন বলে বাদীর আইনজীবী রওশন আরা সিকদার ডেইজি জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আলী গত ১ জুলাই খালেদা ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় খালেদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।”

অন্যদিকে মামলার অপর আসামি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন, তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন? আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দিই। আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে?’

এসব বক্তব্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বিএনপি খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির এই মামলা করেন।

বিচারক মামলাটি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন।

এদিকে স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী করে জাতির মানহানি ও ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে’ জন্মদিন পালনের অভিযোগের দুই মামলায় বুধবার জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

এর মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী করে বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবমাননার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর করা মামলার বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী।

আর মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ অগাস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য মামলাটি দায়ের করেন।