যে কারণে খেলাপি ঋণের লাগাম টানা হচ্ছে

প্রকাশিত: ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

যে কারণে খেলাপি ঋণের লাগাম টানা হচ্ছে

খেলাপি ঋণের লাগাম টানা হচ্ছে । এর জন্য জরুরি বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক । গঠন করা হয়েছে একটি কমিটি। কিন্তু কেন? কিছু দিন আগেও দেখা গেছে স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল খেলাপি বান্ধব। তিনি সরাসরি খেলাপির পক্ষে কিছু উদ্যোগ নেবার কথা বলেছিলেন । কিন্তু সম্প্রতি খেলাপি ঋণের আকার বিশাল হয়ে যাওয়ায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয় ।এর পরই অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার খেলাপি ঋণ বেশি বেড়েছে এমন সাত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের ডেকে এই বৈঠক করেছে।

গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ খুঁজতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

যে সাত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠকটি হয়েছে, তার চারটি সরকারি ব্যাংক, এগুলো হচ্ছে সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। বাকি তিনটি বেসরকারি ব্যাংক, সেগুলো হচ্ছে আল-আরাফাহ, ইসলামী ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ ও ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বিভাগের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ আর ‘এক টাকাও বাড়বে না’।

সেজন্য ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর সে কথা ফলেনি, খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের (রাইট অফ) স্থিতি ছিল ৩৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ যোগ করলে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৫০ হাজার ১২২ কোটি টাকা।

বছরের পর বছর ধরে ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ মানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন-রাইট অফ বলে। যদিও এধরনের ঋণ গ্রহীতা পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।

খেলাপি ঋণ বাড়ার এই খবর প্রকাশের পর বেশ চাপের মধ্যে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালও নাখোশ হন।

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশেই জরুরি বৈঠকে আয়োজন করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে যে কোনো উপায়ে চলতি জুন মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

লাইভ রেডিও

Calendar

May 2024
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031