রংপুরে জয় মোস্তফার লাঙ্গলের, বিএনপির নির্বাচনের ফল প্রত্যাখান

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৭

রংপুরে জয় মোস্তফার লাঙ্গলের, বিএনপির নির্বাচনের ফল প্রত্যাখান

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৮ থেকে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ১১২২টি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টার দিকে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গ্রহণকৃত ভোটের গণনা চলছে।  মোট ১৯৩ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে প্রাপ্ত ৮১ টি কেন্দ্রের মধ্যে এগিয়ে আছে জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থী  মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

এবারের রসিক নির্বাচনে সবগুলো কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ করা হলেও শুধুমাত্র ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথেই নারী ভোটারের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মেয়র পদে প্রতিদন্ধিতা করছেন সদ্য সাবেক মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিধন্ধিতা করছেন কাওসার জামান বাবলা ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা । সকালে তারা নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোটা দিয়েছেন। রংপুর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন।

নির্বাচন কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারিভাবে ঘোষিত ১২৪টি কেন্দ্রের ফল অনুযায়ী লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছেন এক লাখ ৭ হাজার ৭৬৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯০৭ ভোট। বিএনপি দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা পেয়েছেন ২০ হাজার ৬০৭ ভোট।

অপর দিকে,  রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বর্জন করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা।

কাওসার জামান বাবলা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। এই সরকারের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমার বিজয় নিশ্চিত ছিল কিন্তু ষড়যন্ত্র করে আমাকে হারানো হয়েছে। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ মুদ্রার এপিট-ওপিঠ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটির বিভিন্ন মহল্লায় আমার যে জনপ্রিয়তা ছিল তা একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র করে হারানো হলো।

কী কারণে ফলাফল বর্জন করলেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বকশিকেন্দ্রে দিনেরবেলা সিল-স্বাক্ষরবিহীন ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এর মানে কী হতে পারে ? আমার কর্মী ও তাদের পরিবারের ৬০ হাজারেরও বেশি ভোট রয়েছে। কিন্তু ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এছাড়াও ২০১২ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বাইরে থেকে নির্বাচন করে এর চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছি। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে যেখানে আরও বেশি ভোট পাওয়ার কথা, সেখানে উল্টাটা হয়ে গেল। এসব কিছুই প্রমাণ করে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি রইস আহমেদ, মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম মিজু, জেলা ছাত্রদল সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।