রংপুরে শান্তিপূর্ণ ভোট শেষে ফলের অপেক্ষা

প্রকাশিত: ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৭

রংপুরে শান্তিপূর্ণ ভোট শেষে ফলের অপেক্ষা

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে একযোগে ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। রসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোট কেন্দ্রে আসা ভোটাররা জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন।রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে ভোট গণনা। আর কয়েক ঘণ্টা পরেই জানা যাবে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের নাম।

এছাড়া ভোটগ্রহণ সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ মাঠে ছিল আইন-শৃংখলাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। পুরো শহরে আইন-শৃংখলাবাহিনী মোতায়েন করা ছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যে কোনো বিশৃংখলার তাৎক্ষণিক বিচার করতে কাজ শুরু করেছে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও নজরদারি করতে প্রতি তিনটি কেন্দ্রের জন্যে একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, হেলিকপ্টার টহল ইত্যাদি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে গত ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গললবার থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় ২১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়ে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি এসব বিজিবি সদস্য নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত সংশ্রিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন। এছাড়া ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) বিল, ২০০৯-এর মাধ্যমে রংপুর পৌরসভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুর সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়। পরে ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার ভোট পেয়ে নবগঠিত সিটির প্রথম মেয়র হয়েছিলেন আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ঝন্টু দলীয় সমর্থন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

ঝন্টুর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও হাঁস প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট। এবার তিনি দলের সমর্থনে লাঙ্গল প্রতীকে লড়ছেন।

রংপুর মহানগর বিএনপির সহসভাপতি কাওছার জামান গত নির্বাচনে প্রার্থীও আগের রাতে ভোট বর্জন করেন। তারপরও ২১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন তিনি। বিএনপির সমর্থন নিয়ে কাওছার জামান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস (মই), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি থেকে সেলিম আখতার (আম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য বহিষ্কার এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতি) মেয়রপদে নির্বাচন করছেন।