রক্ত কথা বলে

প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২১

রক্ত কথা বলে

মোহাম্মদ নুর খান


ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।জাতির পিতা সাড়ে তিন বছরের মাথায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত এ’ দেশটিকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন।তাঁর দেশ গড়ার দৃঢ়তা ,প্রত্যয় ও অগ্রযাত্রার রূপ দেখে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতাকারী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শত্রুরা নড়েচড়ে উঠলো।ষড়যন্ত্র করতে থাকে কেমন করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামানো যায়। তারা পরিকল্পনা করে এ দেশের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ করতে হলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে হবে। তাদের পরিকল্পনা মতো ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।ভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা তখন দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যায়। ৭৫’র পর এ’ দেশটির উপর দিয়ে ঝড়ঝঞ্ঝা কম যায়নি। খুনি মোসতাক, জিয়া,এরশাদ আবার কখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তকমা লাগিয়ে দুই বছরের আর্মি রেকর্ড সরকারের কবলে ছিল এ দেশ।এ সময় এ’ দেশের জনগণ নানাভাবে শোষিত হয়েছে ,বঞ্চিত হয়েছে আপন অধিকার থেকে। শোষণ, নিপীড়ন, দুর্নীতি গ্রাস করেছিল এ সময় আমাদের এ সোনার বাংলাদেশকে। এ সময়গুলোতে অনেক ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে গেছি । ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে জননেত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করে শুরু করলেন নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা।

 

 

তিনি দায়িত্ব নিয়ে দেখলেন বিদ্যুৎ,পুল- কালভার্ট, ব্রিজ কিছুই নেই। স্কুল কলেজগুলো তখন যেন চিৎকার করে বলছিল আমাদের ভবন দাও, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা দিতে পারছি না। রাস্তাঘাট বলতে কিছু নেই। এ যেন জরাজীর্ণ একটি গৃহকে নতুন অবয়ব দেওয়ার দায়িত্ব নেয়া। পাঁচ বছর তিনি দ্রব্যমূল্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখলেন। এ সময় দশ টাকা ছিল চালের কেজি । সয়াবিন তেলের কেজি ছিল ত্রিশ টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেন। স্কুলকলেজ ও মাদরাসায় নতুন ভবন দেওয়া হলো । নতুন নতুন সড়ক উন্নয়ন, ব্রিজ নির্মাণ করা হলো। বয়স্ক ভাতার মতো মানবিক ব্যবস্থা চালু করলেন। ১৯৯৮’র ভয়াবহ বন্যার মোকাবিলা করলেন দৃঢ়তার সাথে। একজন মানুষও খাবারের অভাবে মারা যায়নি। বিশ্ব তখন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল কিভাবে শেখ হাসিনার সরকার এ কঠিন বিপদকে জয় করে নিলেন। আবারও এ দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা নিয়ে ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসলেন। শুরু হলো নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ এর নির্বাচনেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসলো আওয়ামী লীগ। ২০০৮ থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে অনেক দূর বিস্ময়করভাবে।

 

 

আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মৎস্য উৎপাদনে ৩য় ,সবজি উৎপাদনে ৩য়, আম উৎপাদনে অষ্টম, ইলিশ উৎপাদনে ১ম। ২০০৮ এ যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করছিলো তখন আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪৯০০ মে.ওয়াট। আর উৎপাদন হতো ৩২০০ মে.ওয়াট। আজ আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫০০০+ মে.ওয়াট। আর বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪০০০ মে. ওয়াট। বিদ্যুৎ সেক্টরে আমাদের এ এক বিস্ময়কর সাফল্য । সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ভাতা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা (জনপ্রতি বিশ হাজার টাকা) এ যেন বিস্ময় । বিদেশে কর্মরত আমাদের একজন শ্রমিক মারা গেলে সরকার ওয়েজ আর্নার থেকে তার পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করে। এয়ারপোর্টে মরদেহ আসলে দাফনের জন্য সেখানেই ত্রিশ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। এমন মানবিক সিদ্ধান্ত সত্যিই অভাবনীয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের দেশ ঈর্ষণীয়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ,গভীর সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু ট্রাই টাওয়ার এসব আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। আজ আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশের সারিতে। উন্নত বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন নয় মহান আল্লাহর কৃপায় আমরা তার দ্বারে পৌঁছে গেছি। এ দেশের মানুষের জন্য ছোট্ট একটি আনন্দের সংবাদ। ৩ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মিরপুরে বস্তিবাসীদের জন্য নির্মিত ৩০০ টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেছেন।

 

 

সারাদেশে পর্যায়ক্রমে বস্তিবাসীদের জন্য এভাবে ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। এমন সময় আসবে আমাদের আর বস্তি থাকবে না। এসব ফ্ল্যাটে সাধারণ ফ্ল্যাটের মতো সকল প্রকার সুযোগসুবিধা থাকবে। বস্তিবাসীরা থাকবে ফ্ল্যাটে! । শেখ মুজিবের মেয়ে শেখ হাসিনার পক্ষেই এটি সম্ভব। অবশ্য এ জন্য আরেকজন মানুষকে ধন্যবাদ দিতে হয়। তিনি হচ্ছেন সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী জননেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। মন্ত্রী থাকাকালে প্রথম এ চিন্তাটি তাঁর মাথায় আসে। তিনি তার কর্মকর্তাদের নিয়ে চট্টগ্রামসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন যেখানে এ প্রকল্প গ্রহণ করা যায়।

 

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্পটির কথা জানাতেই তিনি রাজি হয়ে গেলেন। আর যোগ্য মানুষের হাতে কোনো দায়িত্ব পড়লে যেমন হয় আর কি। এ জন্য মোশাররফ স্যারকেও ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এ রকম একটি প্রকল্প উপস্থাপন করার জন্য । এখন আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা EFT মাধ্যমে তাদের বেতন ভাতা গ্রহণ করছে । এমআরপি’র পর এখন আমরা e-passport- এ প্রবেশ করেছি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে পুরো পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়।

 

 

মহাকাশে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। সকল মন্ত্রণালয় বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় এসেছে। সকল উন্নয়নমূলক সংস্থায় বা অধিদপ্তরে ই-টেন্ডার কার্যক্রম চালু হয়েছে। যার ফলে টেন্ডারবাজি এখন নেই বললেই চলে। এই যে করোনা ভ্যাকসিন এর জন্য আমরা ঘরে বসেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারছি। দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদে তথ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণ একশ’টিরও বেশি সেবা পাচ্ছে। নিরন্তর চেষ্টা করে যিনি আমাদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশের পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন তিনি হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্যপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।

 

বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা আমাদের বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল ও নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। এখন প্রত্যাশা উন্নত বাংলাদেশের। সজীব ওয়াজেদ জয় পেছনে থেকে এ দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করছেন। বঙ্গবন্ধুর রক্ত জননেত্রী শেখ হাসিনার ধমনিতে আর শেখ হাসিনার রক্ত জয়ের ধমনিতে। বঙ্গবন্ধু জীবদ্দশায় বলেছিলেন “দেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণ উচ্ছেদ করার জন্য দরকার হলে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করবো”। তাই হলো। তিনি শত্রুদের হাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ইচ্ছাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একে একে পূরণ করছেন। সাহস যোগাচ্ছেন যোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে পৌঁছে যাবে উন্নত বাংলাদেশে। এ লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ছড়িয়ে দিন