রথ দেখার পাশাপাশি কলাবেচা চলছে

প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২১

রথ দেখার পাশাপাশি কলাবেচা চলছে

 

লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী

সাধু সাবধান! কারন, আমাদের চোখ কিন্ত খোলা আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনায় অবশ্যই অধিকার রয়েছে তবে একের দোষ অপরের উপর চালানোর চেষ্টা কিন্ত অন্যায়। সেটা কিন্ত ষড়যন্ত্র। সব ঘটনাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শেখ হাসিনার দোষ হিসেবে প্রমান করতে গেলেতো পাঠশালায় কোনরকমে গরুর রচনা লেখার মতো কান্ড হয়ে যাবে। তখন জনগুরুত্ব হ্রাস পাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই, সাধু সাবধান। কথায় কথায় ঔপনিবেশিকতার প্রসঙ্গ টেনে হেচড়ে সরকার প্রধানের উপর চাপিয়ে গোলমাল পাঁকানোর অপচেষ্টা কিন্ত আত্মঘাতি পরিকল্পনা। আজ তাদের মুখে এটা মানানসই না ঔপনিবেশিক শাসক শ্রেনী অথবা সরকারের দালাল গোষ্ঠী বলে যেভাবে তারা পথে-ঘাটে বলাবলি করছেন। কারন তারা বাংলাদেশের উন্নয়নের শুধুমাত্র সাক্ষ্য বহন করছেন, তাদের এই উন্নয়ন সহ্য করার হ্রদয় নাই। তাই পথে-ঘাটে বিভিন্ন বক্তব্য রাখতে তাদের সংকোচ থাকে না। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘটনা কোন স্বাভাবিক ঘটনা না। এটা গণমাধ্যমের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ ছিল। ঘটনাটির সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। ঘটনাটি একটি ক্লাস্টার অনিয়মের মধ্য দিয়েই ঘটেছিল। ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্ক্রিয় করার কোন উইং সে সময়ে মন্ত্রণালয়ে ছিল না। একটি ক্লাস্টার অনিয়মের মধ্য দিয়েই ঘটনাটি মহামান্য আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। এই সব কিছু যখন ঘটে চলতে থাকলো তার মাঝে ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে গণমাধ্যম ও মন্ত্রীবৃন্দ সকলেই অবহিত হয়েছেন। আজ সাংবাদিকদের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছেন। মাননীয় আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন এই ঘটনার জন্য সরকার ও গণমাধ্যমের মাঝে যাতে কোন দূরত্ব সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এবং রোজিনা ইসলামের মুক্তির ব্যাপারেও সরকার গণমাধ্যমের পাশেই রয়েছে। তাহলে এখন রোজিনা ইসলামের মুক্তির বিষয়টি সময়ের উপর নির্ভর করছে। হয় তিনি বৃহস্পতিবার মুক্তি পাবেন অথবা রবিবার। এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিরা ঘটনার তদন্তের দাবি করেছেন আইন মন্ত্রীর কাছে। এই তদন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দেয়া যাবে না এই বিষয়টি সাংবাদিক প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন মন্ত্রীর কাছে। আইন মন্ত্রী সাংবাদিক প্রতিনিধি সদস্যদের কাছেও আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্তের। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র নিয়ে বিতর্ক নতুন সংকট না। ঘুষ-দূর্নীতির সাথে আমলাতন্ত্রের সুসম্পর্ক দেখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ভাষণে এর বিরুদ্ধে গনআন্দোলনের আদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশ আজও বাংলাদেশ পূরণ করতে পারেনি। তবে ঘুষ-দূর্নীতির বিরুদ্ধে গনআন্দোলনটি বাংলাদেশে চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটিও ঘুষ-দূর্নীতিকে কেন্দ্র করেই। বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনিয়মের বিরুদ্ধে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত পালন করে দেশ ও মানুষের পাশে রয়েছেও। দূর্নীতি দূর করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার একটি কমিশনও গঠন করেছে। দুদক এর প্রতিষ্ঠায় দূর্নীতি অনেক হ্রাস পেয়েছে। কিন্ত নির্মূল হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেলো দুদক এর সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে দূর্নীতির ইতিহাস স্বাধীনতার পরেই জন্ম লাভ করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদিও দূর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তবে তাকে হত্যার পর এদেশে দূর্নীতির জাল আরও বিস্তৃত হয়েছিল। সামরিক শাসনামলে এই দূর্নীতির সাথে ভয় সংযুক্ত করা হয়েছিল। গণমাধ্যমের দূর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার সুযোগ আজকের মতো এতটা সহজ ছিলনা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত এতটাই দূর্নীতিগ্রস্ত ছিল সামরিক শাসনামলে তার প্রভাব এখনো রয়ে গিয়েছে। এই হরিলুটের অভ্যাস এখনো বাংলাদেশ থেকে দূর হয়নি। দূর্নীতি দূর করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রচলন ঘটিয়েছেন। যার ফলে এখন আর কোন মন্ত্রণালয়ে উন্মুক্ত টেন্ডার এর সুযোগটি নাই। এই পদ্ধতির পরিবর্তনের ফলেই টেন্ডার চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বর্তমান সরকারের শাসনামলে। দূর্নীতির প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু এক ভাষণে বলেছিলেন চোরায় না শোনে ধর্মের কথা। কথাটি সত্য। দূর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণমাধ্যম যতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সরকার স্বয়ং দূর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। করোনা মহামারীর সময়েই দূর্নীতির জন্য শীর্ষ কতিপয় দূর্নীতিবাজদের কারাগারে প্রেরণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন দূর্নীতির সাথে যাদের সম্পর্ক থাকবে তাদের দল মতের পরিচয়ে কোন কাজ হবেনা। দূর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে যেয়ে রোজিনা ইসলামের ক্ষেত্রে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেটা দূর্নীতিবাজদের একটি ক্লাস্টার প্রোগ্রাম ছিল। সরকার অবশ্যই বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত করবে। সরকার অবশ্যই রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিবে। কিন্ত এই অস্বাভাবিক ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রথ দেখার পাশাপাশি কলা বেঁচাও চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা বিষয়টিকে এমন ভাবে প্রকাশ করতে চেষ্টা করছেন যেনো এটি শেখ হাসিনার দূর্নীতি। একটি ক্লাস্টার অনিয়মের মধ্য দিয়ে যখন একটি ঘটনা ঘটছে ঠিক তখনই তারা পথে-ঘাটে সক্রিয় হয়ে উঠলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দূর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে প্রমানের জন্য। বাংলাদেশে একদিকে দুষ্কৃতীকারীরা একেকটি ঘটনা যেমন সংগঠিত করে তেমনি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাঠকর্মীরা শুরু করে দেয় রথ দেখার পাশাপাশি কলা বেঁচা। এই কলার ছালে পাছে তাদেরই পা পিঁছলে যাবার বিষয়টি কি তারা চিন্তা করছে। তাদের হাওয়া ভবনের দূর্নীতির কথা এদেশের মানুষের স্মৃতি থেকে এখনো মুছে যায়নি। হাওয়া ভবনের দূর্নীতির টাকা বাংলাদেশ আজও উদ্ধার করতে পারেনি। অদূর ভবিষ্যতে উদ্ধার হবে কিনা তাও সন্দেহের বিষয়। এজন্যই রাজনৈতিক কারনেই যারা এখনো রথ দেখার পাশাপাশি কলা বেঁচার আত্মতৃপ্তিতে রয়েছেন তাদের উচিত হাওয়া ভবনের ইতিহাসটি আবার একবার পর্যালোচনা করা। দূর্নীতিকে প্লিজ বাই বলুন, উস্কে দিবেন না।

উৎসাহিত করবেন না। দূর্নীতি কিন্ত আপনার, আমার ও সবার শত্রু। তাই, রথ দেখার পাশাপাশি কলা বেঁচাটা বন্ধ করেন।

লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক।

ছড়িয়ে দিন