রাজশাহীতে,পদ্মার তীরে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা “ছোট্ট স্বপ্ন”

প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৩

রাজশাহীতে,পদ্মার তীরে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা “ছোট্ট স্বপ্ন”

রহমতউল্লাহ আশিক, নওগাঁ, রাজশাহী।

দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের শহর রাজশাহীর বুক চিরে বয়ে চলা পদ্মানদী, নদীর একপ্রান্তে ভারতের সিমান্ত ঘেঁষা- অপরপ্রান্তে গড়ে ওঠা সবুজের শহর রাজশাহী মহানগরী যেখানে অবস্থিত দেশের দেশ বরেণ্য কয়েকটি সরকারি – বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ। যার আরেক নাম শিক্ষা নগরী। তার মাঝে আলাদা নজর কেড়েছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সেচ্ছাসেবী সংগঠন “ছোট্ট স্বপ্ন”।

২০১৫ সালে ৮ এপ্রিল,” স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন দেখাই,শিক্ষার আলো ছড়াতে চাই “প্রতিপাদ্য কে ধারণ করে প্রতিনিয়ত রাজশাহী মহানগরীর সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে চলেছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এর সেচ্ছাসেবী সংগঠন ছোট্ট স্বপ্ন। সমাজের পিছিয়ে পড়া সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের ও পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দের নিজেস্ব  অর্থায়নে সুনিশ্চিত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের ক্লান্তি লগ্নে কাজ করেছে সংগঠনটি। বিশ্ব-ব্যাপী করোনা মহামারি দেখা দিলে- দেশে তার সংক্রামন বৃদ্ধি পেলে সংগঠনটি তাদের অর্থয়নে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ  মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে  অবদান রেখেছে। সুরক্ষার জন্য মাক্স বিতরণ ও খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছে।

সংগঠনটির অষ্টম কার্যনির্বাহী সভাপতি ফার্মেসী বিভাগের ছাত্র- মেহেদী হাসান (বাবু) বলেন, আমাদের সংগঠনটি কে নিয়ে আমাদের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে চাই, আমরা  ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি- বৃক্ষ রেপন কর্মসূচি, বিনামূল্য ব্লাড গ্রুপ নির্নয় ও রক্ত দান, দুই ঈদে  অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী প্রদান  ছাড়াও মহানগরীর ফুলতলা ঘাটে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করছি আমরা একটি “ছোট্ট স্বপ্ন স্কুল” খুলেছি যেখানে প্রায় অর্ধশত শিশুকে পাঠদান করানো হয় তাছাড়া তাদের বই, খাতা, কলম সহ  নতুন  জামা বিতরণ করি , এছাড়া ও  আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন রকম সেবা প্রদানে অংশ গ্রহণ করি।

ছোট্ট স্বপ্নের প্রতিষ্ঠাতা এবং আহ্বায়ক- সহকারী অধ্যাপক  ড.সুলতানা রাজিয়া সংগঠনটির বাণী দিয়ে বলেন,স্বপ্ন দেখি,স্বপ্ন দেখাই শিক্ষার আলো ছড়াতে চাই – স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৫ সাল থেকে এই সংগঠনটি যাত্রা শুরু করার পর থেকে সমাজের বহু সুবিধা বঞ্চিত শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা বিতরণের মাধ্যমে  মূল স্রোতে ফিরিয়ে দোওয়ার কাজটি এখন পর্যন্ত সুচারুরূপে সম্পন্ন করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও বরেন্দ্র উঞ্চলের বিভেন্ন প্রকৃতিক ও সামাজিক সংকটে এগিয়ে আসার জন্য সংগঠনটি প্রশংসার দাবিদার।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ছাত্রজীবনের শিক্ষা ব্যক্তিকে সব থেকে বেশি প্রভাবিত করে। সংগঠনটি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত বিধায় এটি ছাত্রের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রেখে চলেছে। এই আলোকিত মনোলোক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনকে ইতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করার সাথে সাথে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে অপরাধ মুক্ত বাংলাদেশে পরিণত করবে বলে আমি আশা রাখি।

ছোট্ট স্বপ্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত সকল ছাত্রছাত্রীকে আন্তরিক অভিবাদন জানাই। সংগঠনের উওরোওর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করি।

ছোট্ট স্বপ্নের সহ- অর্থ সম্পাদক সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র রহমতউল্লাহ আশিক বলেন আমরা এ সংগঠনে কাজ করতে পেরে  আনন্দিত। আমাদের সংগঠনটি অবহেলিত মানুষের  পাশে দাড়িয়ে কাজকরে চলেছে তাছাড়া বিভিন্ন রকম সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার কাজ করি। ছোট্ট স্বপ্নের মাধ্যমে আমাদের  শিক্ষার মান প্রসারিত হচ্ছে যা পরবর্তী আমাদের অনেক প্রয়োজনে আসবে। আমি আমাদের “ছোট্ট স্বপ্ন ” সংগঠন এর সর্বাত্মক মঙ্গল কাননা করছি।