রাশিয়ার টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন ঔষধ প্রশাসনের

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২১

রাশিয়ার টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন ঔষধ প্রশাসনের

ভারত থেকে করোনাভাইরাসের টিকা আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দেশে টিকা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রাশিয়ার টিকা ‘স্পুটনিক-ভি’ জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন ঔষধ প্রশাসন অধিপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এই টিকা ব্যবহার ও উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও রাশিয়ার এই টিকার অনুমোদন দেয়নি। সুতরাং আমাদের দেশের ব্যবহার ও উৎপাদনে একটি সমস্যা ছিল। কারণ, এতদিনে আমাদের পলিসি ছিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন না দিলে আমরাও তা গ্রহণ করতে পারব না। সেজন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি করে আমরা পলিসি পরিবর্তন করেছি। তারপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত জরুরি জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ওষুধ, পরীক্ষামূলক ওষুধ, টিকা ও মেডিকেল সরঞ্জামবিষয়ক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই বিষয়ে।’

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, ‘এই অনুমোদনের পর এখন বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে আমরা টিকা আনতে পারব। এমনকি আমরা উৎপাদনও করতে পারব। যদি সেটা আমাদের দেশের জন্য ব্যবহার উপযোগী হয়। এই অনুমোদনের ফলে রাশিয়ার করোনা টিকা আমদানি ও ব্যবহারে আইনগত বাধা থাকলো না। এখন কিনতে চাইলে রাশিয়া বাংলাদেশকে আগামী মাস থেকেই টিকা দিতে পারবে।’

রাশিয়ার এই টিকার বিষয়ে গত গত ২২ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, রাশিয়ার টিকা আনার ব্যাপারে সেদেশের লোকজনের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। তারা কিছু কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। কী করতে হবে না হবে, সেসব জানিয়েছেন। ফর্মুলা গোপন রাখার শর্তে রাশিয়ার আবিষ্কৃত স্পুটনিক-ভি টিকার উৎপাদন দেশে করা যায়-এ বিষয়ক একটি সমঝোতা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশন। তারা আমাদের কাছে কিছু ব্যাপারে জানতে চেয়েছে। চুক্তির অর্থের ব্যাপারে কথা হয়েছে। বলে-ব্যাটে মিলে গেলে কার্যক্রম শুরু হবে। নতুবা চীনের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা হচ্ছে।’

দেশে ভারত থেকে টিকা আসা অনিশ্চয়তায় পড়ায় গতকাল থেকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার জন্য মজুত সরকারের হাতে নেই।