রাস্তাঘাটে মানুষকে হয়রানি করা ঠিক নয় – তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০২০

রাস্তাঘাটে মানুষকে হয়রানি  করা  ঠিক নয় – তথ্যমন্ত্রী

সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে রাস্তায় বের হলে হয়রানি করা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। । তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে হয়রানি না করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে তথ্যমন্ত্রী ঢাকায় মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবন থেকে ফেসবুক লাইভে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। রাস্তায় পুলিশের লাঠিচার্জ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় অহেতুক ঘোরাফেরা না করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় যে কেউ প্রয়োজনে যেতেই পারেন এবং গেলেই হয়রানির শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি করার জন্য পুলিশকে বলা হয়নি।’

‘গতকালও পুলিশ সদর দফতর বলা হয়েছে, মানুষ প্রয়োজনে অবশ্যই রাস্তায় বের হতে পারে, কিন্তু অপ্রয়োজনে নয়’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ অপ্রয়োজনে বের হয় তাহলে তাদের বুঝিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে, লাঠিচার্জ বা হয়রানি নয়।’

‘বিএনপি’র জমায়েত দায়িত্বহীনতার পরিচয়’

বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির সময় জমায়েতের সমালোচনা করে ড. হাছান বলেন,
‘বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতে ১৫ আগস্টে বেগম জিয়ার মিথ্যা জন্মদিনের কেককাটা, কোকোর মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে গেলে বাসার দরজা না খোলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা -সমস্ত কিছু ভুলে গিয়ে যখন বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করলেন, সমস্ত দেশের মানুষ যখন করোনার বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ঘরের মধ্যে অবস্থান করছেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন, তখন আমরা দেখতে পেলাম বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিলাভের সময় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সামনে, পথে ও গুলশানের বাড়িতে বহু মানুষের জমায়েত।’

‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে যেখানে স্বাধীনতা দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠানমালা এমনকি জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে এই ধরনের জমায়েত করা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করব বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে থাকব এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সমর্থ হবো।

‘প্রধানমন্ত্রীর আহবানে দেশবাসীর সাড়া স্বতঃস্ফূর্ত’

তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ‘গত পরশু (২৫ মার্চ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণে বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবং একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশবাসী কার্যত ঘরেই অবস্থান করছেন এবং সরকার ও ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যেসব ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন সেগুলোতে ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছেন।’

এই দুর্যোগের কারণে অর্থনীতির যে পরিস্থিতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে সে বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতির কথা প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন এবং ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন জানিয়ে এসময় করোনা মোকাবিলায় নিম্নবিত্তের মানুষের জন্য কেজিপ্রতি ১০ টাকা হারে চাল বিক্রয়ের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথাও জানান ড. হাছান মাহমুদ।

একটি জীবাণুর কাছে মানুষ কত অসহায়

সামরিক খাতে ব্যায়ের তুলনায় চিকিৎসার গবেষণায় ব্যয় কম হওয়াকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, “আজকে সারা পৃথিবী দেখছে, একটি জীবাণুর কাছে মানুষ কত অসহায়। সমস্ত পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ আজ ‘লকডাউন’ অবস্থায়, পৃথিবী থমকে গেছে। শত্রুটা কি? একটি জীবাণু। আমরা একটি জীবাণু মোকাবিলা করতে পারি নি, পরাস্ত করতে পারি নি।’

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীতে মেডিকেল রিসার্চের জন্য সরকারি ব্যায় হচ্ছে প্রতিবছর ২.৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার, যা মাত্র কয়েকটি সামরিক বিমানের মূল্যের সমান।’

আর অন্যদিকে আমরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য ক্রমাগত ভাবে ব্যয় বাড়িয়ে যাচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে সামরিক ব্যায় বেড়েছে ২.১৭ ভাগ এবং এই ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। পৃথিবীর বড় পাঁচটি দেশ পৃথিবীর মোট সামরিক ব্যায়ের ৬০ ভাগ ব্যায় করে, এবং সেটা প্রতি বছর বাড়ছে।’

এখন ভাবার সময় এসেছে আমরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করার ব্যায় বাড়াবো, নাকি মানুষকে স্বাস্থ্যগত ভাবে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যায় বাড়াবো, বলেন পরিবেশ গবেষক ড. হাছান মাহমুদ।

ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য সতর্কতাবাণী উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতেও এ ধরণের জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে। সুতরাং সেটি থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য গবেষণা বরাদ্দ বাড়ানো আজ সময়ের দাবি। আমি মনে করি, যেভাবে একটি জীবাণুর কাছে আমরা মানবজাতি অসহায় হয়ে পড়েছি, এতে করে যারা অস্ত্র বা যুদ্ধ প্রতিযোগিতার মধ্যে আছেন তাদের বোধোদয় হবে।’

ছড়িয়ে দিন