মৌলভীবাজারে রাস্তায় যানবাহন, দোকানপাট খোলা

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

মৌলভীবাজারে রাস্তায় যানবাহন, দোকানপাট খোলা

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম,মৌলভীবাজার:

শীতল লকডাউন,শহর ও শহরমূখী রাস্তায় একরকম বিনাবাঁধায় চলছে যাত্রীবাহী সিএনজি চালিত অটোরিক্সা,টমটমসহ ছোটখাটো যানবাহন। সাপ্তাহখানিক পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাতে কি যায় আসে যায়, জীবন আগে নয়, প্রয়োজন ও জীবিকাই যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এমন ভয়ংকর মানসিকতাই সামনে দ্রুত ডেকে আনছে জেলাবাসীর জন্য মহাবিপদ!

কেউ মানছেন না করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিধি কিংবা শারীরিক দূরত্ব। সবমিলিয়ে দেখা যায় প্রতিনিয়ত প্রাণঘাতী করোনা ঝুঁকি নিয়ে মৌলভীবাজারে বাঁড়ছে শহরমূখী মানুষের শ্রোত।
দেখে মনে হয় কারো যেন বাঁচার কোন তাগিদ নেই।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা অনুযায়ী গত ১০ মে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেশ কয়েকটি শর্ত জুরে দিয়ে ব্যবসায়ীদের দোকান খোলার অনুমতি দিলেও সরেজমিন গিয়ে মৌলভীবাজার শহরের বেশ কয়েকটি সড়কে দেখা যায় প্রশাসনের দেয়া নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কাই অনেকে করছেন না। আর শহরের সবকটি
সড়কে দেদারছে চলছে ছোট-বড় যানবাহন। সামনে ঈদ থাকলেও শহরের সাইফুর রহমান সড়কের সবচেয়ে বড় দুটি অভিজাত বিপনী বিতান এমবি ক্লথ ষ্টোর ও বিলাস ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর কর্তৃপক্ষ করোনা বিস্তার রোধে সর্তকতামূলকভাবে গত ৮ মে বৈঠক করে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসা বন্ধ রাখার। তবে এ-দুটি বিপনী বিতান বন্ধ থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে সাইফুর রহমান সড়কের অন্যসব দোকান খোলা রয়েছে। দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্তে সোস্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। আবার কেউ কেউ দোকান খোলা
রাখার পক্ষেও নানা যুক্তি দেখানোর চেষ্ঠা চালিয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম সাইফুর রহমান সড়ক করোনা পরিস্থিতেও ঈদকে সামনে রেখে পুরাতন রূপেই যেন ফিরছে। যেমন চলছে যানবাহন
তেমন সড়কটির দু’পাশ ঘীরে অবস্থিত ছোট-বড় কাপরের দোকান গুলোতে চলছে জমজমাট
কেনাবেঁচা। অধিকাংশ দোকান গুলোতে তীব্র ভির যেমন লক্ষণীয় তেমনি মানা হচ্ছেনা প্রশাসন নির্ধারিত স্বাস্থ্য নীতিমালা। দোকান গুলোতে ক্রেতাদের
মধ্যে কেউ মাস্ক পড়ে আবার কেউ কেউ মুখে মাস্ক না পড়েই কেনাকাটা করছেন। আর করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক ও শারীরিক দূরত্বও মানা হচ্ছেনা । প্রশাসনের দেয়া শর্ত অনুযায়ী প্রতিটি দোকানের প্রবেশ পথে জীবাণুনাশক স্প্রে থাকার কথা থাকলেও কয়েকটি অভিজাত দোকান ছাড়া অনেক দোকান মালিকরাই তা মানছেন না।

শহরের সাইফুর রহমান সড়কের আর’কে কমপ্লেক্সে অবস্থিত পালকি নামক অভিজাত কাপরের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ওই দোকানের স্বত্তাধিকারী গিয়াস আহমেদ নিজে মাস্ক ছাড়াই বসে আছেন। স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না এমন প্রশ্নে তিনি হাসি মুখে ক্যাশ টেবিলে রাখা মাস্কটি হাতে নেন।

ওই দোকানটিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা যায়,কোন শারীরিক দূরত্ব না মেনেই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। শুধু পালকী নয় এই সড়কে অবস্থিত নুর ব্রাদার্স,আশরাফ সেন্টারসহ অনেকগুলো মার্কেটেও একি চিত্র দেখা যায়।

এদিকে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬১ জন। শুধুমাত্র মৌলভীবাজার
শহরেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ। গত দু’দিনেই ৮জন করে শহরে ১৬জনের শরীরে করোনা
পজেটিভ ধরা পড়েছে। আর এভাবেই এগুচ্ছে শহরের ভয়ংকর করোনা পরিস্থিতি।
স্থবির নাগরীক জীবনে আতঙ্ক আর উদ্বেগ থাকলেও অধিকাংশ লোকজন লকডাউন অমান্য করে শারীরিক দূরত্ব না মানার মাত্রা অনেকটাই বাড়িয়ে তুলেছেন। এতে করে মৌলভীবাজার শহরে দ্রুততার সাথে বাঁড়ছে করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি।

জেলায় ইতিমধ্যে করোনায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী,পুলিশ ও ব্যংকারসহ নানা পেশার লোকজন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ রোধে নিজেরা আক্রান্ত হয়েও জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে শক্ত হাতে কাজ করছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য করোনা রোধে ভয়কে জয় করতেই হবে।

মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে মাঠে কাজ করছে পুলিশ,ঈদকে সামনে রেখে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা কর্তৃপক্ষ এবং পৌর মেয়রের সাথে কথা হয়েছে,আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি, কাল থেকেই মাঠ পর্যায়ে অভিযান জোরদার করবো। যেসব দোকানপাট নিয়ম মানছেনা বা নিরাপত্তামূল ব্যবস্থা নেই তাদের বিরুদ্ধে আমরা এ্যকশনে যাবো। পুলিশ প্রশাসনের মেধাবী চৌকস এই কর্মকর্তা আরো বলেন, জেলা শহরের প্রবেশ পথের সবগুলো সড়কেই চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। আমরা স্বাধ্য অনুযায়ী মানুষকে নিয়ম মানাতে সর্বত্মক বুঝানোর চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, মানুষজন আতঙ্কিত না হয়ে সবাই সম্মিলিতভাবে জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন,পৌরসভা,জনপ্রতিনিধি,সাংবাদিক,ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে নিয়ে করোনার যে ভয়াল প্রাদূর্ভাব সেটাকে মোকাবেলা করে আমাদের ভয়কে জয় করতে হবে।

বিশেষজ্ঞমহল মনে করছেন,এই সময়ে ব্যাপক হারে ভাইরাসটির সামাজিক সংক্রমণ ঘটতে পারে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের নেই নির্দিষ্ট কোন ওষুধ, ভ্যাকসিন, তাই সে ক্ষেত্রে জনসচেতনার কোনো বিকল্প নেই। বাঁচতে চাইলে সবারই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু লকডাউন শিথিলের পর ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসেছে মানুষ। রাস্তাঘাট এবং বাজারগুলোতে যে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে তাতে করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করতে পারে বলে মত তাদের।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও এমবি ক্লথ ষ্টোরের স্বত্তাধিকারী ডা: এম,এ আহাদ মুঠোফোনে এ-প্রতিদেককে বলেন, দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার প্রথম দিকে সরকার বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছিল, তখন মৌলভীবাজার অনেকটা ফ্রী ছিল,কারন তখনো জেলায় কেউ আক্রান্ত হননি। এখন দিনদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা জেলায় বাড়ছে, সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন,পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে,পড়বে জনবল সঙ্কটে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সরকার শর্ত সাপেক্ষে দোকান খোলার অনুমতি দিলেও অধিকাংশ দোকান গুলোর আয়তন বিবেচনায় সামাজিক ও শারীরীক দূরত্ব মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা ব্যবসায়ীদের পক্ষে অনেক কঠিন হবে, কাজেই সংক্রমণ বাড়বে বলে আমি মনে করি।  তিনি আরো বলেন, গ্রাম থেকে শহরে প্রয়োজন ছাড়াই অসংখ্য মানুষ আসছেন,এসব কারনে সামনে করোনা
সংক্রমণ বেড়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছি।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031