রেকর্ড গড়ে ফাইনালে কুমিল্লা

প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৫

রেকর্ড গড়ে ফাইনালে কুমিল্লা

এসবিএন ডেস্ক:
রূপকথার মতো ব্যাপার। এই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স নানা জটিলতায় সেরা ক্রিকেটারদের সেরা অবস্থা নিয়ে মাঠেই নামতে পারছিলো না। সেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পরপর দু’ ম্যাচে এবার বিপিএলে বড় জয়ের রেকর্ড দুবার নতুন করে লিখলো। সেই সাথে প্রথম দল হিসেবে তৃতীয় বিপিএলের ফাইনালে চলে গেলো।

গতকাল রংপুর রাইডার্সকে ৭২ রানে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালে উঠে মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন দলটি। এক ম্যাচ আগেই এবারের বিপিএলে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিলো কুমিল্লা ৭১ রানে; নিজেদের রেকর্ডটা আবার ভাঙলো তারা।

পরাজিত হলেও সাকিব আল হাসানের রংপুরের আশাহত হওয়ার কোনো কারণে নেই। ফাইনালে ওঠার জন্য তারা আরেকটি সুযোগ পাচ্ছে। এলিমিনেটর ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে আজ রবিবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জয় পেলে ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে রংপুর।

গতকাল আগে ব্যাট করে ১৬৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। জবাবে ৯১ রানেই অলআউট রংপুর রাইডার্স।

গতকাল শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় রংপুর রাইডার্স। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন কুমারকে সঙ্গে নিয়ে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ইমরুল কায়েস। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৯ রান সংগ্রহ করে দলকে সম্মান বড় সংগ্রহের আভাস দেন কায়েস। ৩৭ বলে ২৮ রান করে ফিরেন লিটন। আহমেদ শেহজাদের জায়গায় ব্যাটিংয়ে নেমে ওর্ডারে ১ রানেই ফিরেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলা ইমরুল কায়েস ফিরেছেন ৪৮ বলে সাত চার ও দুই চক্কায় ৬৭ রান করে। ব্যাটিং অর্ডারের প্রমোশন নিয়ে সুবিধে করতে পারেননি আন্দ্রে রাসেলেও। শূন্য রানে ফিরেছেন আহমেদ শেহজাদ। তবে আসহার জায়েদির ১৫ বলের ৪০ রানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে সাত উইকেটে ১৬৩ রান সংগ্রহ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ২৬ রানের খরচার একাই পাঁচ উইকেট শিকার করেন থিসেরা প্যারেরা।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে দেখে শুনে খেলে রংপুর রাইডার্স। তৃতীয় ওভারে শুভাগ হোমের উপর চরাও হন রংপুরের ওপেনার ল্যান্ডেল সিমন্স। আগের দুই ওভারে ৮ রান সংগ্রহ করা দলটি তৃতীয় ওভারে ১৭ রান তুলে নেয়। এরপর খেই হারিয়ে ফেলে রংপুর। আবু হায়দার রনির গতির শিকার হন সৌম্য সরকার ও সিমন্স। শুভাগত হোমের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন সৌম্য। ঠিক পরের বলে বোল্ড সিমন্স। শুধু বোল্ড বললে ভুল হবে! রনির করা বলটিকে সামলাতেই পারেননি সিমন্স। তার ব্যাট এবং প্যাডের মাঝখান দিয়ে বল গিয়ে লেগ স্টাম্পে আঘাত হানে। সিমন্স নিজের ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন। ক্রিকইনফো রনির এই ডেলিভারিটিকে বিপিএলের সেরা ডেলিভারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

পরপর দুই ওপেনারের উইকেট তুলে নিয়ে মূলত ম্যাচটি ঘুরিয়ে দেন আবু হায়দার। এরপর আর খেলায় ফিরতে পারেনি রংপুর। আসার জাইদিকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ মিথুন। ঠিক পরের বলে জায়েদিকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৪৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে রংপুর। ১২ ও ৩ রান করে ফেরেন মোহাম্মদ নবী ও আল-আমিন। ৯ রানেই ফিরে যাওয়ার কথা ছিলো থিসেরা পেরেরার। আবু হায়দার রনির বলে লংঅফে ক্যাচ তুলে দেন এই শ্রীলঙ্কান। কিন্তু আহমেদ শেহজাদ সহজ ক্যাচ নিতে না পারায় বেঁচে যান প্যারেরা। নতুন জীবন পেয়েও ভালো করতে পারেননি। এক বলের ব্যবধানে প্যারেরকে বোল্ট আউট করেন রনি।

কুমিল্লার বিপক্ষে সেরা খেলার কথা বললেও মাঠে তার প্রমাণ দিতে পারেননি ড্যারেন স্যামি। ফিরেছেন মাত্র ছয় রান করে। দলের আটজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ১৭ ওভারে ৯১ রানে অলআউট রংপুর। কুমিল্লার হয়ে চারটি করে উইকেট নেন আসহার জায়েদি ও আবু হায়দার রনি। ব্যাটে বলে নজর কাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেন কুমিল্লার পাকিস্তানী ক্রিকেটার আসহার জায়েদি।

ছড়িয়ে দিন