রেস্তোরাঁয় খেয়ে পয়সা না-দেওয়ার ১০টি উপায়

প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৬

রেস্তোরাঁয় খেয়ে পয়সা না-দেওয়ার ১০টি উপায়

এসবিএন ফান পোষ্ট: রেস্তোরাঁয় গিয়ে পেটপুরে খান। চিন্তা করবেন না। অর্ডার দেওয়ার সময়ে এবার থেকে মেনু কার্ডে খাবারের মূল্য লেখা স্থানটি দেখার পরোয়া করার প্রয়োজন নেই। কারণ, এই টিপসগুলো জানা থাকলে আপনার আর টাকা দেওয়ার প্রয়োজনই হবে না।

১. খেতে থাকুন। খেতে খেতে পেট যখন একেবারে অফিস টাইমের লোকাল বাসের মতো ঠাসাঠাসি অবস্থা, তখন আচমকা আপনার মোবাইলে একটা কল আসবে। মোবাইলটা অবশ্য আগেভাগেই সুইচড অফ বা সাইলেন্ট করে রাখতে হবে। এমনভাবে কলটা রিসিভ ধরুন, যেন সাংঘাতিক একটা খবর এসেছে। বলতে থাকুন, ‘অ্যাঁ! কী বললি! কখন! তোর কথা ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছি না। বাইরে গিয়ে শুনছি।’ এই বলে এঁটো হাত চাটতে চাটতে রেস্তোরাঁর বাইরে আসুন, এবং সুযোগ বুঝে চম্পট। 😀

২. গুলিস্তান থেকে সস্তায় একটা ঘড়ি কিনুন। ঘড়িটির গায়ে ‘Rado, Rolex, Omega, Tissot, TAG Heuer’-এর মতো বিখ্যাত কোম্পানির নাম লেখা থাকতে হবে। এইবারে রেস্তোরাঁয় খান। আপনাকে দেখতে ভদ্দরলোকের মতোই মনে হয়। খাওয়ার পরে ম্যানেজারের কাছে চলে যান। বলুন, ‘মানিব্যাগটা হারিয়ে ফেলেছি। এই ঘড়িটা রাখুন। এখুনি টাকা নিয়ে আসছি।’ অতঃপর……….

৩. একটা অচল ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড সাথে রাখুন। খাওয়া পরে বিল দেয়ার জন্য কার্ডটি ওয়েটারের হাতে দিন। ওয়েটার নিশ্চিতভাবেই ফিরে আসবে এবং বলবে, ‘স্যার, কার্ডটা রেসপন্স করছে না।’’ আপনি বলবেন, ‘‘সরি। কাছাকাছি এটিএম বুথ কোথায়?’ ওয়েটার ঠিকানা জানালে বলুন, ‘জাস্ট আ মিনিট।’ বেরিয়ে পড়ুন। জীবনে আর ও-মুখো হবেন না।

৪. সেই পুরনো ফর্মুলাটা ট্রাই করতে পারেন। একটা মাকড়সা বা তেলাপোকার ঠ্যাং জোগাড় করুন। পেটপুরে খাওয়ার পরে যে কোনও একটি প্লেটে সেই ঠ্যাং চালান করে দিন। তারপরে ওয়েটারকে ডেকে হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিন। ভোক্তা অধিকার কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুমকি দিন। দেখবেন, হাতেনাতে কাজ দেবে।

৫. খাওয়া যখন প্রায় শেষের দিকে, তখন ওয়েটারকে ডেকে বাথরুমটা কোথায় জানতে চান। সোজা চলে যান সেখানে। বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান। তারপর সুযোগ বুঝে সোজা উল্টো পথ ধরে বেরিয়ে যান।

৬. খেতে খেতে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ুন। বুকে হাত চেপে ধরে একেবারে যা-তা কাণ্ড করুন। আশেপাশের কাউকে বলুন একটা ট্যাক্সি বা সিএনজি ডেকে দিতে। এবার ট্যাক্সি বা সিএনজি চড়ে সোজা বাড়ি।

৭. খেতে খেতে আচমকা পাশের টেবিলের লোকের সঙ্গে বেমক্কা ঝগড়া শুরু করে দিন। অবশ্য একটু আগে থেকেই তাঁকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করুন। ‘এটা কী হল?’, ‘‘কী যা-তা বলছেন!’’- এই ধরণের কথা বলতে থাকুন এবং বেশ কষে ঝগড়া করুন। গলা সপ্তমে চড়িয়ে একেবারে লঙ্কাকাণ্ড! তখন কোথায় বিল, কোথায় ওয়েটার, আর কোথায় রেস্তোরাঁর ম্যানেজার। তবে মনে রাখবেন, যার সাথে ঝগড়া করবেন, তিনি যেন মহিলা না হন। তা হলে কিন্তু বেদম দুঃখ আছে আপনার কপালে।

৮. এই টিপস মানতে গেলে একটু অভিনয় লাগবে। পাশের টেবিলের লোকটির সঙ্গে আলাপ জমিয়ে ফেলুন। একেবারে গলায় গলায় বন্ধু। এইবারে তাঁকে বলুন, আপনিই তাঁর বিল মেটাবেন। তারপরে বলুন, ‘দাঁড়ান, ম্যানেজারকে কথাটা বলে আসি।’ চলে যান ম্যানেজারের কাছে। সেখানে গিয়ে বলুন, ‘আমার বিল উনি মেটাবেন।’ নতুন বন্ধুর দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ুন। এবার একবার আঙুল তাঁর দিকে করুন, একবার নিজের দিকে। তিনি নিশ্চিতভাবেই হাত তুলবেন। আপনি এবার বুড়ো আঙুল তুলে থাম্বস আপ দেখান। আর রেস্তোরাঁর দরজা দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে বেরিয়ে যান।

৯. প্লেট ভর্তি করে খাবার নিন। যতটা খেতে পারবেন, তার চেয়েও অনেকটা বেশি। এবার খাওয়ার শেষে ওয়েটারকে ডেকে বলুন, ‘বাকিটা প্যাকেট করে দিন।’ ওয়েটার খাবার প্যাকেট করতে গেলে আপনি চলে যান ম্যানেজারের কাছে। বলুন, ‘‘আমার খাবারটা প্যাকেট করতে নিয়ে গিয়েছেন ওয়েটার। আমি বাইরে একটা সিগারেট খাচ্ছি। খাবারটা প্যাকেট করা হলে কাইন্ডলি একটু ডেকে দেবেন।’’ বাইরে এসে সিগারেট ধরান এবং পগারপার।

১০. অন্তিম এবং নিরুপায় ফর্মুলা। খাওয়ার শেষে নিজের প্লেট, বাটি, চামচ ইত্যাদি তুলে নিন। এবার ঘুরে ঘুরে বাকিদের টেবিল থেকেও সেই সব সংগ্রহ করে ফেলুন। ওয়েটার বা ম্যানেজারকে আত্মবিশ্বাসের সাথে জিজ্ঞাসা করুন, ‘কোথায় প্লেট ধোওয়া হয়?’ চলে যান সেই দিকে।

পেটপুরে খান, সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।

[ইহা একটি ফান পোস্ট, টিপসগুলো কেহ প্রয়োগ করিতে চাহিলে পরিনাম সম্পর্কিত ঝুঁকিসমূহ উক্ত ব্যক্তিকেই বহন করিতে হইবে]

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

May 2022
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031