রোবট তৈরি করলো লালমনিরহাটের যুবক

প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ৬, ২০২২

রোবট তৈরি করলো লালমনিরহাটের যুবক

মোঃমাহসিনুল হক,আদিতমারী,লালমনিরহাট:  লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের সুন্দ্রাহবি গ্রামের মজু মিয়ার ছেলে আহসান হাবীব কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন সরকারি কলেজের এইসএসচি মানবিক বিভাগে পড়ে যুবক সে রোবট বানিয়েছেন।নাম দিয়েছেন চিটি।রোবট চিটিকে ঘিরে তার গ্রামে চলছে উৎসব,উদ্দিপনা।শত শত লোক ভিড় করছেন চিটি ও তার আবিষ্কারক আহসান হাবিবকে দেখার জন্য।

দীর্ঘ ৭ মাস চেষ্টার পর শুক্রবার( ৩ জুন) চিটির পূর্ণতা দিয়েছেন মানবিকের এই ছাত্র।তবে, শুরুর গল্পটা কয়েক বছর পুরনো এবং চেষ্টা,ত্যাগ ও কষ্টের।
২০১৭ সালে স্কুল থেকে বিজ্ঞান মেলায় রকেট বানিয়ে বাগিয়ে নেন পুরষ্কার।তার পরের বছর ২০১৮ সালে হাবিবের বাবা মজু মিয়া মারা যান।মজু মিয়া ছিলেন টিভি মেকানিক্স ।দোকানও ছিলো।সেখানেই তাতাল আর স্ক্রু ড্রাইভার নিয়ে মেতে উঠতেন এই খুদে বিজ্ঞানী।তবে,তাতালে জন্য মারও খেয়েছেন বাবার হাতে।বাবা চাইতেন এসব কাজ থেকে দূরে থেকে লেখা পড়ায় মনোনিবেশ করতে।বাবার ইচ্ছাও অপূর্ণ রাখেন নি।এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ গ্রেড  পান।অল্পের জন্য এ+ পান নি।লেখা পড়া করেছেন টিউশনি করিয়ে।ঘরে বিধবা মা।দুই ভাইয়ের সংসারের বড় ভাই পৃথক থাকেন।মা ছেলের সংসার।অভাব অনটন সব সময়ের নিত্যসাথী।ধার দেনা আর আত্মীয়দের উপহারের টাকা জমিয়ে আমেরিকান,চাইনিজ,ভারতীয় সার্কিট ব্যবহার করে বানিয়েছেন রোবট চিটি।দিয়েছেন সম্পূর্ণ মানুষের অবয়ব।কথাও বলতে পারে চটপট।চিটি পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষদের নাম মূখস্থ রেখেছে।দেশের প্রধান মন্ত্রী ও তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নাম সহ মানছে সব আদেশ।
যুবক এই বিজ্ঞানীর দাবি,চিটি একবার কাউকে দেখে ভুুলে যাবেনা।তার ম্যামরিতে সব জমা থাকবে।চোখে লাগানো হয়েছে লেন্স।
আহসান হাবিব বলেন,আমি দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।একটি সিনেমাতে রোবটকে খাবার পরিবেশন করতে দেখেছি।চায়নাতে রোবট রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে।ওরা পারলে আমি কেনো পারবোনা।এটাই ছিলো অনুপ্রেরণা।এ পর্যন্ত চিটিকে তৈরি করতে এক লক্ষটাকার বেশি খরচ হয়েছে।যা সবই ছিলো প্রায় ধার করা টাকা দুই লক্ষ টাকা হলে খুব ভালো মানের রোবট তৈরি করতে হবো।
প্রতিবেশি ছবির মিয়া বলেন,আর্থিক অবস্থা নাই।নিজে টিউশনি করে লেখা পড়া করেছে।তার বাবা ছোট কালেই মারা গেছে।সে একদিন অনেক বড় হবে।আল্লাহ যেনো তার চলার পথ সুগম করে।
এশরাফুল হক বলেন,খুব ভালো লাগতেছে।খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে ।তার বাবা প্রথমে মাদ্রসায় ভর্তি করিয়েছিল।পরে সে স্কুলে ভর্তি হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমাম আলী বলেন,সে আমার ছাত্র।আমি আজ গর্বিত।প্রথমে একটি রোবট আবিষ্কার করেছিলো।এখন আবার একটা করলো।
টাকার সংস্থান,অনুমতি পেলে তিনি নতুন নতুন আরও রোবট তৈরি করতে চান। দেশকে তখন ভালো কিছু দিতে পারবো বলে তার আশা।
মা বলেন,সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাবিব এগুলোই করে।আমি চাই,যদি কোনো বড় কোস্পানি বা সরকারে প্রধানমন্ত্রী যতি সহোযোগিতা করে,তবে আমার ছেলেটার একটি কর্মসংস্থান হত।
সরজমিনে দেখা গেছে,আহসান হাবিবের ঘরের মাত্র এবটি চৌকি।একটি চেয়ার টেবিল আর কিছু বইপত্র। বাহিরে টিনের বাড়ির সামান্য জায়গা।এর বাহিরে হাবিবদের সম্পদ বলতে কিছুই নেই।

লাইভ রেডিও

Calendar

February 2024
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
2526272829