র‌্যাপিড কিটের ব্যবহার স্থগিত রাখছে ভারত। বাংলাদেশ কি করবে ?

প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২০

র‌্যাপিড  কিটের ব্যবহার  স্থগিত রাখছে ভারত। বাংলাদেশ কি করবে ?

সৌমিত্র দেব

র‌্যাপিড টেস্ট কিটের ব্যবহার আপাতত স্থগিত রাখছে ভারত।

করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় র‌্যাপিড টেস্ট কিটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার ।

বাংলাদেশকেও এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব বলেন, যদি

র‍্যাপিড কিটের মাধ্যমে কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে IgM অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পারি, সেক্ষেত্রে আমরা অনায়াসেই পিসিআর ছাড়াই রোগটি নির্ণয় করতে পারব। তবে এর জন্য একটি পূর্বশর্ত আছে আর তা হলো ওই IgM অ্যান্টিবডিটির পরিমাণের সাথে ওই ভাইরাসটির RNA অথবা DNA-এর

পরিমাণের কো-রিলেশন বা সহজ বাংলায় ‘পরিমাণগত সামঞ্জস্য’ থাকতে হবে। SARS CoV-2 একটি RNA ভাইরাস। সমস্যাটা হচ্ছে যে এখনও এই ভাইরাসটির IgM অ্যান্টিবডি এবং RNA-এর মধ্যে এ

ধরনের সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। প্রথমে আমাদের ভাইরাসটির অ্যান্টিজেন এবং ওপেন রিডিং ফ্রেমগুলোকে ভালোভাবে জানতে-বুঝতে হবে এবং শুধুমাত্র তারপরই আমরা এই ভাইরাসটি শনাক্ত

করার জন্য একটি কার্যকর র‍্যাপিড টেস্ট কিট তৈরি করতে পারব এবং এটাও মাথায় রাখতে হবে কোনো

কোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রে তেমনটি কখনোই সম্ভব নাও হতে পারে। যেমন হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে এখনও আমরা এটি করতে সমর্থ হইনি।
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে কেন এমনকি উন্নত বিশ্বের কোনো কোনো দেশেও SARS CoV-2-এর র‍্যাপিড টেস্ট

কিট ব্যবহার করা হচ্ছে। উত্তরটা ছোট্ট এবং সহজ। সামাজিক বিস্তারের পর দেশে রোগ সংক্রমণের মাত্রা বুঝার জন্যই মূলত এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর যদি এসব কিট SARS CoV-2 সংক্রমণ শনাক্ত করতে ব্যবহার করতেই হয় সেক্ষেত্রে দুটি ‘কিন্তু’ আছে। যাদের SARS CoV-2 IgG পজিটিভ আসবে, তাদের

ইনফেকশনটি আছে কিনা তা আবার পিসিআর করে নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে রোগের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও যাদের SARS CoV-2 IgM নেগেটিভ আসবে তাদের যে আসলেই রোগটি নেই সেটিও

পিসিআরের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। কাজেই এই ধরনের টেস্ট কিট প্রচলনে আদৌ কোনো লাভ হবে কিনা না, সেটি লাখ টাকা দামের প্রশ্ন। বরং এতে যা হবে তা হলো এর ফলে এমনিতেই এ রোগ নিয়ে

চারদিকে যত বিভ্রান্তি তাতে নতুন করে আরেকটি মাত্রা যোগ হবে মাত্র।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে কেন এমনকি উন্নত বিশ্বের কোনো কোনো দেশেও SARS CoV-2-এর র্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করা হচ্ছে। উত্তরটা ছোট্ট এবং সহজ। সামাজিক বিস্তারের পর দেশে রোগ সংক্রমণের মাত্রা

বুঝার জন্যই মূলত এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর যদি এসব কিট SARS CoV-2 সংক্রমণ শনাক্ত করতে ব্যবহার করতেই হয় সেক্ষেত্রে দুটি ‘কিন্তু’ আছে। যাদের SARS CoV-2 IgG পজিটিভ আসবে, তাদের ইনফেকশনটি আছে কিনা তা আবার পিসিআর করে নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে রোগের লক্ষণ থাকা

সত্ত্বেও যাদের SARS CoV-2 IgM নেগেটিভ আসবে তাদের যে আসলেই রোগটি নেই সেটিও পিসিআরের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। কাজেই এই ধরনের টেস্ট কিট প্রচলনে আদৌ কোনো লাভ হবে

কিনা না, সেটি লাখ টাকা দামের প্রশ্ন। বরং এতে যা হবে তা হলো এর ফলে এমনিতেই এ রোগ নিয়ে চারদিকে যত বিভ্রান্তি তাতে নতুন করে আরেকটি মাত্রা যোগ হবে মাত্র।


এরই মধ্যে ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এ পর্যন্ত মারা গেছে ৬২৫ জন, যাদের মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছৈ মঙ্গলবার এক দিনেই।

এ অবস্থায় ইনডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ ইতোমধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানিয়েছে দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

কোভিড-১৯ মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে করোনাভাইরাস পরীক্ষার গতি বাড়াতে চীন থেকে প্রায় দশ লাখ র‌্যাপিড কিট আমদানি করেছিল ভারত।

বিবিসি লিখেছে, ভারতের তিনটি রাজ্য ওই কিট সঠিক ফলাফল দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলার পর ইনডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার স্থগিতের নির্দেশনা দেয়।

এর মধ্যে রাজস্থান রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর বলেছে, চীন থেকে আমদানি করা কিট দিয়ে তারা মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ফল পেয়েছে।

ছড়িয়ে দিন