লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকলে অগ্নিকাণ্ডে এত মানুষ মারা যেতো না ঃ বিএনপি

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২১

লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকলে অগ্নিকাণ্ডে এত  মানুষ মারা যেতো না ঃ বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৫২ জনের প্রাণহানি ও অনেক মানুষ আহত হওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন ।

শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মহাসচিব এই শোক প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবার-পরিজনদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই, আমি তাদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্য সরকার একদিকে লকডাউন ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে কল-কারখানা চালু রেখেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে এসে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নির্মমভাবে জীবন দিতে হলো খেটে খাওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে।’

‘যদি লকডাউনে কল-কারখানা বন্ধ থাকত, তাহলে এতো নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হতো না। একদিকে লকডাউন নিয়ে সরকারের দ্বৈত নীতি, অন্যদিকে কর্মস্থলে অনিরাপদ পরিবেশ ও উদাসীনতার জন্যই এতগুলো জীবন ঝরে পড়ল।’

 

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে কল-কারখানা, বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, মার্কেট, অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড, গ্যাস বিস্ফোরণসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রাণ দিচ্ছে নিরীহ মানুষ। অথচ, এসব দুর্ঘটনা রোধে সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। কারখানায় কাজের নিরাপদ পরিবেশ নাই। শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবনের নিরাপত্তা নাই। দুর্ঘটনা ঘটার পর সরকার তদন্ত কমিটি করে, বিভিন্ন আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরে তা আর আলোর মুখ দেখে না। মর্মান্তিক এসব দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারে না।’

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে নিহতদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়েছে। মর্গের ভেতর থেকে ভেসে আসছে পোড়া লাশের গন্ধ। মর্গের বাইরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। ছবি : স্টার মেইল
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন লাগার পর পরই গোটা ভবনে লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনজন এবং আজ শুক্রবার দুপুরের পর আরও ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ছড়িয়ে দিন