শপথ নিলেন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৬

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি

এসবিএন ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে নতুন নিয়োগকৃত তিন বিচারপতিকে শপথ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তারা হলেন- বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

সোমবার সকাল ১০টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে নবনিযুক্ত বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।

এর আগে প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এ তিনজনকে নিয়োগ দেন। এরপর আইন মন্ত্রণালয় রবিবার গেজেট জারি করে। এই ৩ জন বিচারপতি নিয়োগের ফলে মোট ৯ জন বিচারপতি পেল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বিগত বিএনপি আমলে প্রায়শই আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে কার্য তালিকায় ১নং রয়েছেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন। মির্জা হোসেন হায়দারের অবস্থান দ্বিতীয়।

অন্য দু’জন বিচারকের অবস্থান আরো অনেক নিচে। তবে বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি বজলুর রহমানকে বিএনপি সরকার সেসময় স্থায়ী নিয়োগ না দেয়ায় তাদের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন হয়।

তারা স্থায়ী নিয়োগ পেলে বিএনপি আমলে (২০০১ সালে) নিয়োগকৃত বিচারকদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় উপরে থাকতেন। তবে বিচারপতি দস্তগীর হোসেন আপিল বিভাগে নিয়োগ না পাওয়ায় আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলেছেন, জ্যেষ্ঠতা লংঘন করলে বিচারকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়। যেহেতু আপিল বিভাগে আরো দুটি পদ শূন্য রয়েছে সেহেতু রাষ্ট্রপতি বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারেন।

জন্মবৃত্তান্ত
মির্জা হোসেইন হায়দার ১৯৫৪ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মির্জা আশরাফউদ্দিন হায়দার ও মাতা মৃত আমিনা খাতুন। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৯ সালে জেলা আদালতে, ১৯৮১ সালে হাইকোর্ট এবং ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০১ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। ২০০৩ সালে তাকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ট্রেনিং প্রোগামে বিভিন্ন সময়ে অংশ নিয়েছেন এই বিচারপতি। এছাড়া ভ্রমণ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

বিচারপতি মো. নিজামুল হক ১৯৫০ সালের ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম নূরুল হক ও মাতা মৃত আছিয়া খাতুন। বিচারপতি নিজামুল বিএসসি (সম্মান), এমএসসি এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৭ সালে জেলা আদালত, ১৯৭৯ সালে হাইকোর্ট এবং ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তিনি তালিকাভুক্ত হন।

২০০১ সালের ৩ জুলাই তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

তাকে স্থায়ী বিচারক নিয়োগ দেয়া হয় ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বিচারপতি নিজামুল হককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৯৯৩ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটির অধীনে প্রিভেনটিভ ডিটেনশন ল এর উপর প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এবং ১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ডের হেগে ইন্টারন্যাশনাল ল বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা নেন।

মালয়েশিয়া ট্রায়াল কোর্টে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে তিনি আটবার অংশ নেন। এছাড়া ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, নেপালে রিফিউজি ল, মাইনরিটি রাইটস, প্রিভেনটিভ ডিটেনশন ল, মানবাধিকার বিষয়ে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। ভ্রমণ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান ১৯৫৫ সালের ১২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার মরহুম মো. ইউনূস বিশ্বাস ও মাতা মৃত বদনূর নেসা।

বিচারপতি বজলুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। জেলা আদালতে ১৯৮৪ সালে এবং ১৯৮৭ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০১ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বজলুর রহমান।

ছড়িয়ে দিন