শব্দের অধরা দেশ

প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

শব্দের অধরা দেশ

নাজমীন মর্তুজা

দূর্গম পাহাড় থেকে প্রায় শূন্যে ঝুলে আছে , এই এডেল এইড । জোয়ারে ফুলে ফঁসে ওঠা সমুদ্র তাকে ছোঁয় কি না ছোঁয় । এখানে একনাগাড়ে মেঘ বৃষ্টির মত আবছা গাছ লতাগুল্ম , পশুপাখির অনগর্ল কলকাকলি , গুন্জরণ , গর্জন , কারো খিলখিল হাসি , কারো ঝরঝর কান্না। এই জায়গাটা পৃথিবীর হয়েও যেন এখানকার নয় । কেমন যেন এক কবিতার রাজ্য । এখানে যেন মন কেমনের উৎসব রোজই । এখানকার রাস্তায় যখন আমি চলি … আমার কোন গাইড নাই । পাখিরাও আমার গাইড । পাখিরা যখন ইতিহাসের সিঁড়িতে বসে তা দেখতে একান্তই ছবির মতন । কবিতায় তাদেরকে মুখোমুখি বসালে অলিক জানালার আড়ালে ডেকে ওঠে অচিন পাখি , অচেনা রঙে ভরে যায় শহর ! আকাশের হৃদে মেঘ জমলে বৃষ্টি হয় । এখানে যেদিন আমার মন ভাল থাকে আমি শাড়ি পরি , নীল শাড়ি ।রাত্রি ঘন হলে জয়ের কবিতা পাঠ করি । আমার বন্ধুরা বলে আমার নাকি আষ্টেপৃষ্টে কবিতা , জোনাকীরাও জেনে গেছে আমার গোপনতা । পৃথিবীর অঘোর ঘুমে অচেতন হলে দেবতারা শিয়রে দাঁড়ান চুপিচুপি,আমাকে অপাথির্বতায় আচ্ছন্ন করে ফেলে , যদিও অনেক কিছুর মানে বুঝি না , বলেই বুঝি এর দাম । আমার সকল অন্বেষণ খুলে যায় অন্তপুরের। এক বৃষ্টির রাতে আমি অনুভব করলাম , শহর তো ভাসেনি শুধু প্রতিবিম্ব ভেসে গেছে জলে । গাছের ছায়ার পাশে দুপুরের নিজর্নতা ।সেখানে একদিন নদী ছিল , এখন শান্ত শ্যাওলার ভেতর অসমাপ্ত জল। ভাবি সেই জলের কাছে পরে থেকে বেড়ে ওঠা আমার বালিকা বেলার স্বপ্নের কথা । যে শহরে আমি আছি এখানে ঘনঘন রেলগাড়ি আসে । জনহীন লেভেলক্রসিং । রেললাইন পার হতে গিয়ে দেখি লাইনের মাঝখানে যে সূক্ষ্ম ফাটল থমকেছে , তা কি আমার মনজগতের সৃষ্টি , হয়ত বিমূতর্ চিন্তা আমার । রসকষহীন বর্তমান যুগে , আমি যেন এক নিষ্ঠাবতী কড়া ধাঁতের প্রেমিকা । যদিও জানি লেখায় বলায় সকল বাস্তবতা কে বর্ণনা করা আমার দায় নয় । অথচ আমি সমাজ কে সময় কে অস্বিকার করতেও পারবো না । তাহলে?
জীবনের অস্থির সময় গুলোর সঙ্গে থাকে এক মায়া ঘোর । তবুও নতুন করে কাঁপা কাঁপা পায়ে উঠে দাঁড়াই ভাঙা আঙিনায় । প্রত্যাশা ভরে আঁকছি শেষ বাঁচার আশ্রয়। খুঁজছি নিজের মত করে চলার উপায় । সৃষ্টির নিয়মেই পথ জন্ম নেয় আমার মাঝে । আমি তখন আদি অনাদিতে একাকার ।