শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন ফকির আলমগীর

প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২১

শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন ফকির আলমগীর

বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কিংবদন্তি গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরকে শ্রদ্ধা জানাতে এলেন ভক্ত অনুরাগীরা। রাজনীতি, সংস্কৃতি অঙ্গন ও রাজধানীর সাধারণ মানুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রিয় শিল্পীকে।

শনিবার (২৪ জুলাই) সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও দেশবরেণ্য গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের মরদেহ। এর আগে বেলা ১২টার দিকে তার মরদেহ জাতীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়

প্রয়াত শিল্পীর ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব জানান, তার বাবার (ফকির আলমগীর) মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয় থেকে ১টা পর্যন্ত।

এর আগে আজ সকাল ১১টা খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদ মাঠে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জোহরের পর খিলগাঁও মাটির মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার পর ফকির আলমগীরকে তালতলা কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

গত ১৪ জুলাই করোনা পজিটিভ হন ফকির আলমগীর। এরপর ১৫ জুলাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৮ জুলাই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ফকির আলমগীর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।

১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তার শ্বাসকষ্ট অনেক বেড়ে যাওয়ায় তাকে রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ না থাকায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফকির আলমগীর ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলনে তাকে বহুবার দেখা গেছে। তিনি ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেব ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন এ গণসংগীত শিল্পী। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

ছড়িয়ে দিন