ঢাকা ২৫শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন ডন-মান্নান 

Red Times
প্রকাশিত মে ২৬, ২০২৪, ০৬:২৯ অপরাহ্ণ
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন ডন-মান্নান 
মোঃ ওবায়দুল হক মিলন:
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট দুই নেতা। এরা হলেন- সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন। এখানে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমএ মান্নানের পুত্র উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি অর্থনীতিবিদ সাদাত মান্নান অভি (আনারস)। আজিজুস সামাদ ডন প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালামকে (মটর সাইকেল)।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এমএ মান্নান প্রায় ১৬ বছর ধরে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। এলাকায় প্রচার আছে নিজের সংসদীয় আসন পুত্র অর্থনীতিবিদ সাদাত মান্নান অভিকে ছেড়ে দিতে চান এম এ মান্নান।
অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত জাতীয় নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ ডনও এই আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আসছেন।
এই কারণে এমএ মান্নান ও আজিজুস সামাদ ডনের দ্বন্দ্ব পুরনো। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে এমএ মান্নানের নৌকার সঙ্গে লড়ে পরাজিত হন ডন। এরপর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দুই নেতার সমর্থন বা আশীর্বাদ নিয়ে দুই প্রার্থী ভোটে লড়ে আসছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখানে হচ্ছে আওয়ামী লীগে- আওয়ামী লীগে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে দুই নেতার (মান্নান-ডন) ঐক্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কিংবা কোন কোন গণমাধ্যমে প্রচার হলেও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের অনেকে বলেন, ‘এসব কেবল আইওয়াস’।
এবার শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই নেতা দুই প্রার্থী নিয়ে নামায় ভোট উৎসব জমে ওঠেছে এখানে। দুইজনেই এই ভোটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। শুক্রবার দিনভর শান্তিগঞ্জে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে আবুল কালামের মোটর সাইকেলের পক্ষে প্রচারণায় ছিলেন আজিজুস সামাদ ডন।
আজিজুস সামাদ ডন বললেন, দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সরকারের মন্ত্রী বা দলের এমপি’র আপন বা স্বজন কেউ দাঁড়াতে পারবে না। এখানে (শান্তিগঞ্জে) এই নির্দেশনা মানা হয় নি। এমএ মান্নানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একজন সারাজীবন পেয়েছেন, কিন্তু নেত্রীর সামান্য নির্দেশনা মানতে পারছেন না, এটি মেনে নেওয়া যায় না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আমি মনে করেছি, আবুল কালাম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, বৃহত্তর সদর উপজেলার (এক সময়ের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ বা শান্তিগঞ্জসহ, সে সভাপতি ছিল) দলের সভাপতি আবুল কালামই প্রার্থীদের মধ্যে পুরোনো- জ্যেষ্ঠ কর্মী, এজন্য তার পক্ষে প্রচারণায় নেমেছি আমি। এই উপজেলায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কী-না এ নিয়ে শঙ্কা ছিল। আমি প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ায় এবং প্রচারণায় যোগ দেওয়ায় শঙ্খা দূর হয়েছে ভোটারদের। নির্বাচন সুষ্ঠু করার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছি আমি।
তিনি বললেন, প্রচারণার সময় আমি বলেছি, শান্তিগঞ্জের উন্নয়ন কোন ব্যক্তির কারণে হয় নি। এটি সরকারের উন্নয়ন। কালামও সরকারি দলের দায়িত্বশীল নেতা। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমাদের সহযোগিতা করুন।
অন্যদিকে এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী লন্ডনের বার্কলেস ব্যাংকের সাবেক এমডি অর্থনীতিবিদ সাদাত মান্নান অভি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতিও। তবে বাবা এমএ মান্নানের পরিচয়েই উপজেলার ভোটারদের কাছে অধিক পরিচিত তিনি।
সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বললেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার হবে, ভোট সুষ্ঠু হবে না। এ ধরনের শঙ্কার কথা আমি কারও কাছ থেকে শুনি নি। এমনটা হলে দায় আমাদের সকলের উপর বর্তায়। আজিজুস সামাদ ডন দলের কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁর উপর আরও বেশী বর্তায়।
তিনি বললেন, আমি কখনোই দলের নির্দেশনার অমান্য করি নি। আজীবন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনুগত কর্মী। আমি ভোটের মাঠে যাচ্ছি না। দলীয় নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকছি। ১৬ বছরের এমপি হওয়ায় নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক আমার। আমি ঘরে থাকলেও মানুষ নিজেদের সমস্যা নিয়ে আসে, তদবির, সুপারিশ করাতে আসে। যতটুকু পারি সান্তনা দিয়ে দেই। আমি মন্ত্রী থাকার সময়ও সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়িতে এসেই থেকেছি। এখনও বাড়িতেই থাকি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কোন সিদ্ধান্ত আমার কাছে আসে নি। এমকি জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমেও কোন নির্দেশনা পাঠানো হয় নি।
শান্তিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তিনজন। অপর প্রার্থী হচ্ছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন। উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে দোলনের প্রচার বেশী। এর আগে দুইবার উপজেলা নির্বাচনে প্রতিন্দ্বিতা করেও তিনি ওই এলাকায় ভালো ভোট পেয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঠে আসেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30