ঢাকা ১৮ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

শাবি ভিসির বিরুদ্ধে মামলা করা উচিৎ

redtimes.com,bd
প্রকাশিত জানুয়ারি ২২, ২০২২, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
শাবি ভিসির বিরুদ্ধে মামলা করা উচিৎ

 

ড.গোলসান আরা বেগম

সত্যি আমি মর্মাহত,শিক্ষক বলে আহত।চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। দেশের সর্ব উচ্চ বিদ্যাপিঠের উপাচার্য কি করে একটি অশুভ বাণী উচ্চারণ করলেন।

কি করে বললেন – জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদেরকে কেউ বউ করতে চায় না।কারণ সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা সারারাত বাইরে ঘুরঘুরি করে।

বক্তব্যটি মোটেও সত্য নয়। এমন বাজে কথা বলে শুধু নারী জাতি নয়, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান মর্যাদায় কালি লেপন করে দিয়েছেন । এই বক্তব্যের জন্যা শাবি ভিসির বিরুদ্ধে মামালা করা উচিৎ। আমি সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলাম।সে কারণেই গাত্র দহনটা আমার বেশী। আমি মনে করি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলেকেই আরো কঠোর ভাবে প্রতিবাদের ঝড়  তুলতে হবে । ইতিমধ্যে জাবির শিক্ষার্থীরা উক্ত উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করছে, পদত্যাগ চেয়েছে।দেরীতে হলেও শিক্ষকরাও সে প্রতিবাদে একাত্বতা ঘোষণা করেছে। এমন কোন তথ্য আছে কি, উক্ত কারণে জাবির কোন মেয়ের বিয়ে হয়নি। তাহলে কেন এই কুরুচির অবতারণা।

 

 

জাবির উপাচার্য পদে রয়েছেন একজন নারী,বেশ কিছু গুরুত্বপুণ পদে কাজ করছে নারী, বৃহৎ অংকের নারী শিক্ষক তো আছেই, তাদের আত্মসন্মানে বক্তব্যটি আঘাত দেয়নি?  তারা কেন প্রতিবাদ করেনি।এই বিশ্ববিদ্যালয় কি তাদের রুটি রোজগারের অমূল্য সম্পদ নয়!

 

এই প্রশ্নটি নিজেকে করে ব্যথিত হই।ইচ্ছে করে প্রতিবাদের মিছিলে যেতে, মানব বন্ধনে শিক্ষার্থীদের সাথে অংশ গ্রহন করতে।বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে রয়েছে বাঘা বাঘা শিক্ষক নেতা, এলামনাই এসোসিয়েল, সাংবাদিক ফোরাম, সিনেট পরিবার, গ্রেজুয়েট সদস্য কেউ তো এগিয়ে এসে মুখ খুলছে না।পাছে ভয় যদি গদি নড়ে যায়। আমি উড়ে এসে মায়া কান্না করছি কেন। আমার দিকে ইট পাটকেল ছুড়ে আসবে নাতো।আসলে আসুক।পদ, সুনাম, খ্যাতি হারানোর ভয় নেই। সত্যের পাশে থাকবোই।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশে জানুয়ারী ২০২২ রাজু ভাসস্কর্ষের সামনে ছাত্ররা প্রতিবাদ সভা করছে ।১১টি ছাত্র সংগঠন সে আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।তারপরও এ সমস্যার সমাধান হয় না কেন। সে উপাচার্যের অপশক্তির খুটির জোড় কোথায়। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ রাখছি বিষয়টির সুরাহা করার জন্য।কেন না মহামারী করোনা ও তীব্র শীতে শিক্ষার্থীরা কষ্ট পাচ্ছে। শিক্ষার ভাবমূর্তিও সংকটের মোকাবেলা হচ্ছে। আমরা অস্থির পরিবেশ চাই না। ব্যক্তি স্বার্থে সরকারের ইমেজ নষ্ট হউক তাও চাই না। কেন না এই সরকারই সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে।বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত করেছে। এতো অর্জনকে তুচ্ছ অজুহাতে মলিন হতে দেয়া যাবে না। পক্ষ বিপক্ষ সবাইকে মিমাংসার সফল পথ খুঁজে বের করা হবে উত্তম সিদ্ধান্ত।

তাঁর নিজের কর্মস্থল সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাগাতার মানব বন্ধন ও প্রতিবাদের পর আমরণ অনশনে বসেছে । অনশণ রত শিক্ষার্থীদের দুই জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভিসির পদ ত্যাগের দাবীতে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। এতো প্রতিবাদের পরও কেন প্রকাশ্যে ভিসি বা সরকার কিছু বলছে না, তা বোধগম্য নয়। একুশ শতকে দাঁড়িয়ে কিভাবে মেয়েদের হলে তিনি পুলিশী অভিযান চালিয়েছেন। নারী সমাজ জাতীয় উন্নয়নে, কর্মে, ধর্মে কোন যোগ্যতায় পিছিয়ে নেই। সে কথাটি কি একবারও ভিসি মহোদয় ভাবেননি।

একান্ন বছর পুর্বে ১৯৭১ এ আবাসিক বিশ্ববিদ্যাল হিসেবে ঢাকা থেকে বিশ মাইল দুরে সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়। আন্তর্জাতিক দরবারে জ্ঞানে,মর্যাদায়,সুনামে কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। লাল মাটিতে গড়ে ওঠা বতর্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে আছে অবকাঠামোগত নান্দনিক সৌন্দর্য। ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা, কলরর বেড়েছে, বেড়েছে প্রাতিষ্ঠানিত মুল্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যলয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। দেশে বিদেশের মাটিকে মেধা, কর্ম দক্ষতা দিয়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা ধন্য ও গৌরবান্নিত করছে। অথচ বিতর্কিত ভিসি মহোদয় কেন ইর্ষান্নিত হয়ে এমন কলঙ্কজনক তর্কের সুচনা করলেন। তারঁ রোষানলের কারণটা খোঁজে বের করা দরকার।তিনি ধর্মান্ধ বা নারী বিদ্ধেষী কি না সে তথ্যও জানতে হবে।

সৃস্টির আদিকাল থেকে নারীরা নির্যাতিত, অবহেলিত, নিগৃহীত হয়ে আসছে। এখনও সেই আদিকালের কায়দায় নারীহত্যা,গুম, খুন, পুড়িয়ে মারা,যৌননির্যাতন কোনটাই থেমে নেই। যদিও আমাদের দেশে জাতীয় উন্নয়নসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারীকে কর্মের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে। তারপরও নারীর মর্যাদা বাড়েনি, সামাজিক দৃস্টি ভঙ্গির পরিবতর্ন গঠেনি।একারনেই কুরুচিপুর্ণ মন্তব্য করতে পারলো মানুষ গড়ার কারিগড় ও বিশ্ববিদ্যালের রক্ষক প্রধান। এ হলো নারী সমাজের দুর্ভাগ্যের লিখন।

বিশ্বের সর্ব উচ্চ সংস্থা জতিসংঘ, বাংলাদেশ সরকার, দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা নারী উন্নয়নে বিধি বিধান প্রনয়ণ ও মনোজগতের সংষ্কারে কাজ করে যাচ্ছে। নারী পুরুষের সমযোতা,সহযোগিতা ছাড়া কোন সভ্যতার কোন কালেই উন্নতি হয়নি,হবেও না। আমরা শিক্ষিতরা যদি কুসষ্কারাচ্ছন্ন হই। সিংহের তর্জন গর্জন মুখে রেখে নারীর মাথায় লাঠি ঘুরানোর চর্চা করি, জাতি হিসেবে সমস্টি গত ভাবে আমরা পিছিয়ে যাবো। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে সফল করতে হলে আদর্শিক মূল্যবোধ দুর দৃস্টি সম্পন্ন হতে হবে। উচু পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু চাটুকারদের প্রাধান্য দিলে হবে না। সে বঙ্গবন্ধু আদর্শের প্রকৃত সৈনিক কি না, অসম্প্রদায়িক চেতনার ধারক বাহক কি না সে দিকে দৃস্টি রাখতে হবে।

পরিশেষে বলবো উচ্চ শিক্ষার পাদপীঠ হলো দক্ষ মানব গড়ার সর্বশেষ শিক্ষা স্তর।এ স্তরকে কলুষিত হতে দেবো না। সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এখানেই হবে সোনা ফলানোর আবাদ।আসুন নারী জাতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে বিভ্রান্তির অবয়ব থেকে উদ্ধার ও রক্ষা করি।

লেখকঃ কবি,কলামিস্ট,সিনেটর (জাবি).০১৭১৭৭৬২৭৪৫.

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30