শামসুদ্দীন আবুল কালাম, ১ এপ্রিল তাঁর জন্মদিন

প্রকাশিত: ১:১৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০১৯

শামসুদ্দীন আবুল কালাম, ১ এপ্রিল তাঁর জন্মদিন

শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১ এপ্রিল তাঁর জন্মদিন । বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের ইতিহাসে ড. শামসুদ্দীন আবুল কালাম অনেক বড় অবদান রেখেছেন । যা শুধু বাংলাদেশের সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কীত যারা তাঁরা জানেন তা নয়, অবিভক্ত বাংলার সাড়া জাগানো ছোটগল্পকার হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল তুঙ্গে। সমকালীন লেখকদের মধ্যে যা ঈর্ষার বিষয় ছিল । তাঁর থেকে বয়সে বড় লেখকদের লেখা থেকে তিনি ছিলেন এগিয়ে । শাহের বানু, অনেক দিনের আশা, পথ জানা নাই, দুই হৃদয়ের তীর, মনের মত ঠাঁই ইত্যাদি তাঁকে অনন্য করে তুলেছে । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আবু সয়ীদ আইয়ুবের বাসায় থার্সডে এ্যাট সিক্স নামে নিয়মিত একটা সাহিত্য অনুষ্ঠান পরিচালিত হত । সেখানে দেশ বিভাগের ঠিক আগে মামা পথ জানা নাই পাঠ করে শোনান যাতে তিনি প্রশংসিত হন। পরে গল্পটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত হয়। আমাদের ছোটবেলায় তাঁর লেখা মেঘনায় কত জল গল্পটি বাংলা শ্রুতলিপি হিসেবে পাঠ্যসূচিতে সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত ছিল ।তার আগে পাকিস্তান আমলে হাই স্কুলে তাঁর লেখা কলম নামে আর একটি ছোটগল্প পাঠ্য ছিল ।
পাকিস্তান‌ আমলের সরকারের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক চেতনার বিরোধ ছিল কিন্তু তাঁর সাহিত্যকর্ম সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত ছিল , বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও তিনি অর্জন করেন ১৯৬৪ তে। পরবর্তী সময়ের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি আর কোনো পুরস্কার পাননি । সাহিত্যে স্বাধীনতা পদক বড় বড় লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী, কবি, আরো যাঁরা পদক পাওয়ার যোগ্য সবাই যা পাওয়ার তা পেয়েছেন । বিশেষ করে এই সরকারের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় এবং উৎসাহে সবাই কিছু না কিছু পেয়েছেন মরণোত্তর হলেও । কিন্তু বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকে তিনি কেন যেন কিছুই পেলেন না যদিও বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর একটা বিশেষ অবদান ছিল । সুভাস বসুর ফরোয়ার্ড ব্লকের তিনি নেতা ছিলেন । সোস্যালিস্ট রেভ্যুলেশনারি পার্টির তিনি নেতা ছিলেন যা নির্মল সেনের বইতে লেখা আছে । ব্রিটিশ হটানোর আন্দোলনে তিনি সুভাষ বসুর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন ।
আবুল কালাম ১৯২৬ সালের আগষ্ট মাসে বরিশাল জেলার নলছিটি উপজেলার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ১৯৪১ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৪৩ সালে ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস করেন। এরপর তিনি এমএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, কিন্তু পাঠ শেষ না করেই বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ১৯৫৯ সালে শামসুদ্দিন আবুল কালাম আলোকচিত্র, সেট ডিজাইন, সংগীত ও চলচ্চিত্র সম্পাদনা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী গ্রহণের উদ্দেশ্যে ইতালির রাজধানী রোম গমন করেন এবং সেখানকার সরকারি প্রতিষ্ঠান সিনেসিত্তায় যোগ দেন। ষাটের দশকে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রী অর্জন করেন।