শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ৯০তম জন্মদিন ছিল আজ

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২১

শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ৯০তম জন্মদিন ছিল আজ

আনহার  সামসাদ 

শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ৯০তম জন্মদিন ছিল আজ ।

তিনি জন্মেছিলেন ১মে ১৯৩১ খৃষ্টাব্দ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জালালসাপ গ্রামে ।
বাবা মরহুম শাহ ইমতিয়াজ আলী,(ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর অব স্কুল) ছিলেন ।
মাতাঃ মরহুমা যাহেদুন্নেসা।
স্ত্রীঃ মরহুমা আসমা কিবরিয়া।( প্রখ্যাত চিত্র শিল্পী)
শিক্ষা জীবন ঃ প্রাথমিক শিক্ষা শুরু পিতার কর্মস্থল মৌলভীবাজারে। ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দে হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এস এস সি পাশ করেন। ১৯৪৯ খৃষ্টাব্দে সিলেট এম সি কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্হান অধিকার করে আই এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
অতঃপর যথাক্রমে ১৯৫২ ও ১৯৫৩ খৃষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে বি. এ অনার্স ও এম.এ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্হান অধিকার করেন। অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্হায় ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করায় একমাস ও তার অধিক কাল কারাবরণ করতে হয়।
চাকুরী জীবনঃ ১৯৫৪ খৃষ্টাব্দে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সুপিরিয়র সার্ভিস পরিক্ষায় প্রথম স্হান অধিকার করেন এবং পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকুরীতে যোগদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় চাকুরীর বিধানুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফল কুটনৈতিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ খৃষ্টাব্দের ৪ আগাষ্ট পাকিস্তান দূতাবাস ত্যাগ করে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে প্রংশনীয় ভুমিকা পালন করেন।এই সময় রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে সংরক্ষিত একটি আঞ্চলিক সংবাদ বুলেটিন প্রকাশ করেন। ১৯৭২ খৃষ্টাব্দের জানুয়ারিতে তিনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের নবগঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক(রাজনীতি) পদে যোগদান করেন। ১৯৭২ খৃষ্টাব্দের ১১মার্চ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদন্নোতি পান। এ সময় তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানো এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস সংগঠিত করার গুরু দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ খৃষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের ইউরোপীয় দপ্তরে রাষ্ট্রদূত এবং স্হায়ী প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়। ১৯৮১র ১লা মে থেকে ১৯৯২র ৩১মার্চ পর্যন্ত জাতিসংঘের উপ-মহাসচিবের পদমর্যাদায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাতিসংঘ কমিশন (এসকাপ)এর নির্বাহী সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। জাতিসংঘের দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯২ খৃষ্টাব্দের এপ্রিলে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং এ বছরই সক্রিয় রাজনীতি পক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগে যোগদান করেন এবং দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন।১৯৯৪ তে তিনি আওয়ামীলীগ প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা’র রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।
১৯৯৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির কো- চেয়ার দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামিলীগ সরকার গঠন করলে তিনি সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন এবং ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতা ও সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।২০০১ সালের ১লা অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ -৩ (হবিগঞ্জ -লাখাই) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যরবাজার আওয়ামীলীগের এক জনসভায় বক্তব্য শেষে তিনি নির্মম গ্রেনেড হামলার শিকার হন এবং চিকিৎসার্থে সড়কপথে ঢাকা যাওয়ার সময় শাহাদাত বরণ করেন ।