শিক্ষামন্ত্রীর আহবান শিক্ষকরা মানলেন না

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৮

শিক্ষামন্ত্রীর আহবান শিক্ষকরা  মানলেন না

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আন্দোলনরত শিক্ষকদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালে অনশনে থাকা শিক্ষকরা  মানলেন না ।

সরকারি অনুমোদনে কার্যক্রম চালানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা নিতে অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ।

এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায়।

সরকারি অনুমোদনে কার্যক্রম চালানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ শিক্ষক। গত রোববার সকাল থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন।

তাদের অনশন ভাঙাতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনস্থলে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডজনখানেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মন্ত্রীর গাড়ি বহর দেখে তাকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষকরা। মন্ত্রীকেও দেখা যায় ভিড় ঠেলে ঠেলে অসুস্থ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক চেষ্টার পর তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে সম্মতি আদায় করতে পেরেছেন।

গত রাতে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সম্মতি দিয়েছেন, এমপিওভুক্ত যারা হননি তাদের এমপিওর ব্যবস্থা করা হবে। এটা আমাদের বিজয়, প্রথম স্বীকৃতি। নীতিমালা বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা নেব, কাজ শুরু করেছি।

আন্দোলনে থাকা শিক্ষকরা এ সময় ‘কবে, কবে’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। কেউ কেউ এ বছরের শুরু থেকেই এমপিওভুক্তির দাবি কার্যকরের দাবি জানান। অনেকে স্লোগান দেন- ‘এমপিও না নিয়ে/ঘরে ফিরে যাব না’, ‘শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা/মানি না মানব না।’

হট্টগোলের এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নীতিমালা করে এমপিওভুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য সময় লাগবে। শিক্ষকরা যেন আর এভাবে কষ্ট না করে বাড়িতে ফিরে যান।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর শিক্ষকরা হৈ-হল্লা শুরু করলে সচিব সোহরাব বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) বাছাই করে এমপিও দেওয়া হবে, একটু সময় লাগবে।

এরপর শিক্ষক নেতা বিনয় ভূষণ মাইকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। মন্ত্রী আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাব।

শিক্ষক নেতার মুখ থেকে এই ঘোষণা পেয়ে আরও জোরে স্লোগান ধরেন শিক্ষকরা। মন্ত্রী আসার পরও যে শিক্ষকরা শুয়ে ছিলেন, তারাও কয়েকজন দাঁড়িয়ে স্লোগান ধরেন।

এমন পরিস্থিতিতে আর কোনো কথা না বলে কর্মকর্তাদের নিয়ে গাড়িতে ওঠেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি চলে যাওয়ার পরও বেশ খানিকক্ষণ শিক্ষকদের স্লোগান চলতে থাকে।

সবশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। এরপর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ আছে।