শিক্ষার্থীদের বোঝাতে ব্যস্ত ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০১৮

শিক্ষার্থীদের বোঝাতে ব্যস্ত ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ

সাদ্দাম হোসেন

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে ঘরে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে বোঝানোর জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার (২রা জুলাই) সারাদিন ব্যস্ত ছিল ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ। সকাল থেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করার কর্মসূচি শুরু করে। এসময় ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ সভাপতি সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা কর্মীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসা এবং সহিংসতা না করার বিষয়ে বোঝাতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সাভার সিটি সেন্টারের সামনে জড়ো হয়। পরে তারা সকাল ১১ টায় রাস্তা অবরোধ করে এবং বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় তারা যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে শুরু করে। ফলে রাস্তায় তীব্র যানজট ও জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়। পরে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দলনে সহিংসতা, জনদূর্ভোগ সৃষ্টি ও যানবাহন ভাংচুর না করার ব্যাপারে বুঝিয়ে বলে।

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার ফাঁকে রেডটাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে আমরাও সংহতি প্রকাশ করেছি। তাদের সকল দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। কিন্তু তারা এখনও বুঝতে পারছে না যে তাদের সকল দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। আর তাই তারা এখনও রাস্তায় তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ বিষয়টি তাদের নিকট স্পষ্ট করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রলীগের শান্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনেছে। শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়নি। তাদেরকে ইতিবাচকভাবে সবকিছু বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে আর কোনো বাস ভাংচুর না করে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে তাদের বোঝানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির ব্যাপারে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, সব গুলো দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। খুব শীঘ্রই সরকার এ দাবিগুলোর বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের সব প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

কুর্মিটোলায় বাস চাপায় নিহত ২ শিক্ষার্থীর ব্যাপারে তিনি বলেন, তাদের অকাল মৃত্যুতে আমরা সকলেই শোকাহত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে তাদের শান্তনা দিয়েছেন। নিহত ২ শিক্ষার্থীর প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন তিনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোঝাতে অন্যান্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মনিরুজ্জামান দীপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ নুর আলম, জেলা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ ওহিদুল ইসলাম, তুশার পারভেজ, পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আর এইচ এম রবিনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য নিরাপদ সড়ক চাই ব্যানারে ৯ দফা দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীরা টানা কয়েকদিন ধরে রাস্তা অবরোধ করে আসছে। শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক বিবেচনা করে সরকার তাদের সকল দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু দাবি মেনে নেয়ার পরও শিক্ষাথীরা আন্দোলন থেকে সরে আসছে না। তাই তারা তাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়েই যাচ্ছে। তবে আজকের পর আন্দোলন অনেকটা শিথিল হয়ে যাবে বলে ধারণা করছে অনেকে।