শিরিণ ওসমান এর কবিতা

প্রকাশিত: ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৭

শিরিণ ওসমান এর কবিতা

শিরিণ ওসমান এর কবিতা

জিঞ্জির

মানুষ মানুষকে ঘৃনা করে।
ধর্ম কী ঘৃনা শেখায়?
মমতা,ভালবাসা রক্তাক্ত করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা হয়?
পৃথিবী অভিভাবকহীন।
তাই শয়তানরা রাজত্ব করছে।
পৃথিবীর কোন প্রান্ত থেকে
কোন পবিত্র রুহের ধ্বনি ভেসে আসেনা
শান্তির বারতা নিয়ে।
কোন আযানের ধ্বনিতে শান্তির বাণী নেই।
আতঙ্ক ছডায় শুধু। যেন
ভৌতিক গর্জনের ধ্বনি কানে গরম শিসা ঢেলে দেয়।
কেউ কোথাও নেই।
এই যে পাশাপাশি বসে সালাত আদায় করে
তারাও পাশাপাশি নেই।
পাখীর কুজনে আতঙ্ক।
গাছের শেকড়ে আতঙ্ক।
সমুদ্রের ঢেউয়ে আতঙ্ক
সিংহের গর্জনে আতঙ্ক।
এই মুহুর্ত যে শিশুটি ভূমিষ্ট হলো
দেখো,সে কান্নার চেয়ে আতঙ্কিত বেশী।
ধর্ম কী?
মানুষের আত্মা?
না ধর্ম মানুষের বর্ম।
ধর্ম থাক,ভালবাসা বিদায় নিক!
মহামানবরা ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে যান নাই।
তারা শান্তির অন্বেষণ করে গেছেন ,
সে পথে কেউ হাঁটে না।
তারা নিজেদের তৈরী ধর্মের পথে হাঁটে,
কিংবা বাধ্য করে হাঁটতে।
তারাই পৃথিবীর ধর্মগুরু
বহু হাজার বছর ধরে তারা
এমনি করেই ধর্মের বেস্টনিতে
মানুষকে শেকলে বেধে নেয়।
তারপর তারা মানব-দাশে পরিচিতি পায়।
মানব-দাশরা বেষ্টনির বলয়ে চলতে থাকে,
এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে যায়।
ধর্ম আর আত্মার মেলন্ধন হয় না।
ধর্ম আর ভালবাসা পাশাপাশি বাস করা যায় না।
আত্মা ভালবাসার সন্ধানে ব্যাকুল
কিন্তু হায়! কোথা পাবে ভালবাসা?
ভালবাসা ধর্মের জিঞ্জিরে বন্দি।

ছড়িয়ে দিন