শিলং এ রবীন্দ্র নাথ ও কিছু তথ্য

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

শিলং এ রবীন্দ্র নাথ ও কিছু তথ্য
                 

সৈয়দ শাকিল আহাদ

বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর কে নিয়ে কিছু লিখতে পারবো এই রকম দূশসাহস কখনই ভাবিনি , শ্রদ্ধেয় রউফ ভাই এর মাধ্যমে জানতে পারলাম কূলাউড়ায় রবীন্দ্রনাথের আগমন ও রাত্রি যাপন উপলক্ষে অনূষ্ঠান পালনের আয়োজন চলছে তাই পূরোনো কিছু তথ্য দেয়ার দরকার মনে করেই আমার এই চেষ্টা ।


রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর তার জীবদ্দশায় আসাম রাজ্যের শিলং শহরের প্রাকতিক রূপে মুগ্ধ হয়ে তিন বার শিলং ভ্রমন করেন ।১৯১৯ সালে তিনি শিলং এর মুসলিম অধুষ্যিত রিলবং “লাবান” এলাকায় খান বাহাদুর মৌলবী আমজদ আলীর কাঠের বাংলোয় বসে তার বিখ্যাত রচনা “শেষের কবিতা”র একাংশ ও “শিলং এর চিঠি “ রচনা করেন !
কাঠের তৈরী সেই বাংলোটি “মেঘালয় আর্ট এন্ড কালচার” সযত্নে সংরক্ষন করেছে ।
কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন সুরম্য বাংলোটি “কূইনী স্ট্যান্ডার্ড স্কুল “ এর প্রধান ভবন হিসাবে শিলং এ রবীন্দ্রনাথ এর গৌরবজনক অধ্যায় স্মরনীয় করে আছে । বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য এই মৌলবী আমজদ আলী যিনি খাসিয়া ভাষার কবি ছিলেন এবং “থামপ “প্রথার প্রবরতক ও বিশেষজ্ঞ । ব্রিটিশ সরকার তাঁকে খান বাহাদুর উপাধীতে ভূষিত করেছিল যা তিনি সম্মানের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন ।


তার মূল বাড়ি ছিল কুলাউড়ার আমতৈল ্গ্রামে , এবং বর্তমান এ উছলাপাড়ায় তার বড় ছেলে এম আশরাফ আলীর বংশধর ও আত্নীয়দের অবস্থান । এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুলাউড়ার গর্ব ৫২র ভাষাকন্যা “রওশন আরা বাচচু “এবং তার বোন অপর ভাষাসৈনিক ছালেহা বেগম এর সন্তান বাংলাদেশে ২০১৬ সালের পুরষ্কার প্রাপ্ত সেরা গায়ক “ সৈয়দ ওয়াকিল আহাদ ।

খান বাহাদুর মৌলবী আমজাদ আলির নাতনির এলবাম থেকে সংগ্রহিত সেই বাংলোর ছবি (২০০২ সালের তোলা )।


রবীন্দ্র নাথ এর সাথে এই বাংগালি খাসিয়া ভাষার কবি কুলাউড়ার সন্তান “মৌলবী আমজদ আলির “ সখ্যতা ছিল প্রগাড় ।এই আমজদ আলীর নামে শিলং এর লাবান এলাকায় “আমজদ আলী রোড” নামে একটি রাস্তা আছে ।
পরবর্তী তে রবীন্দ্রনাথ ১৯২৩ সালে ২য় দফায় শিলং সফর করেন এবং নিজের প্রাসাদ তৈরী করেন ।
রবীন্দ্র নাথ অসংখ্য কবিতা , ছোট গলপ, নাটক , নভেল এই শিলং এ রচনা করে গেছেন ।


তার লেখায় শিলং এর রূপ,শোভা এত সুন্দর ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে যা ভারত বর্ষের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং শহর কে আরও গৌরবজনক ও আকর্ষনীয় করে তুলেছে বিশ্ব বাসীর নিকটে ।
রবীন্দ্রনাথ ১৯৩৬ সালে সর্ব শেষ শিলং আসেন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাব্য রচনা করে অমর হয়ে আছেন !

ছড়িয়ে দিন