ঢাকা ১২ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


শিশুরা কতগুলো অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে জন্মায়

redtimes.com,bd
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩০, ২০২১, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
শিশুরা  কতগুলো অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে জন্মায়

মীরা মেহেরুন

মানবজন্মের প্রারম্ভেই প্রত্যেকটি শিশু কতগুলো অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে জন্মায়। কর্তব্যের যথাযথ পালন না করলে তার পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিকট জবাবদিহিতা বা বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু অধিকারের প্রশ্নে এসব প্রতিষ্ঠান সবসময় অনুকূলে থাকেনা। বিশেষত পিছিয়ে পড়া বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে এসব প্রতিষ্ঠান তেমন জোরদার হয়ে উঠতে পারে না নানা কারণে।
পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের সমানাধিকার বিষয়ক সামগ্ৰিক আইন ও নীতিমালা বিশ্লেষণ সাপেক্ষে বলা যায়, এখানে কন্যাসন্তানের অধিকার বৈষম্যপূর্ণ। আর এই বৈষম্যসহ সামগ্ৰিক বৈষম্য রদকল্পেই নারীবাদের জন্ম।
নারীবাদ সম্পর্কে একটু আলোকপাত করা যায়। নারী -বাদ হলো, সমাজের সর্বস্তরে সকল বয়সের, সকল ধর্মের নারীর সমানাধিকার সহ জেন্ডার সমতার সংজ্ঞা নির্ধারণ, প্রতিষ্ঠা ও প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে যে আন্দোলন ও আদর্শবাদ। যে কোনো লিঙ্গের সদস্য এ পদযাত্রায় সামিল হতে পারেন।এবং সেক্ষেত্রে পুরুষ সম্প্রদায় হবেন উপনারীবাদ বা প্রোফেমিনিষ্ট।
নারীর প্রতি বৈষম্যের বাস্তবতা অবলোকনের জন্যে কোনো পাওয়ারফুল লেন্সের প্রয়োজন হয় না। চিরাচরিত এ বৈষম্য রোধে নারীর পাশাপাশি পুরুষের ভূমিকা পালনের বিষয়টি এখন সুস্পষ্ট।
বৈষম্য রোধে বাংলাদেশ সহ ১৮৫টিরও বেশি দেশ সিডো সনদে স্বাক্ষর করেন। সিডো সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক।
CEDAW–Convention on the Elimination of all forms of Discrimination Against Women.
অর্থাৎ প্রতিটি নারীর প্রতি সকল বৈষম্য বিলোপ সাধন।
একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি একটি আন্তর্জাতিক দলিল বা চুক্তি।
১৮৫ টি দেশের মধ্যে প্রায় ১৬০টি দেশ এ সনদের ধারা গুলো সংবিধান ও আইনে যুক্ত করার সিদ্ধান্তগ্ৰহণে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ইউরোপীয় নারীরা যেখানে সম্পদে সমানাধিকার ভোগ করেন ৮৪.৭ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে ৪৩.২ শতাংশ।
১৯৭২ সালের সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,”রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।”
২৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,”নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোনো অনগ্ৰসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছু রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবেনা।”
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে অগ্ৰসরগামী। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্ৰহণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি পিতার সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের সমানাধিকার প্রসঙ্গে একাধিকবার বৈঠক এবং মন্ত্রীপরিষদে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন।
হিন্দু ধর্মে উত্তরাধিকার প্রশ্নে পিতার সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের কোনো অধিকার নেই। এ মর্মে তিনি ২০১৬ সালে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নিকট একটি খসড়া তৈরি করতে বলেন।এবং সম্মানিত সংসদ সদস্য জনাব সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা ভাবতে বলেন।
জাতীয় আইন সহায়তা দিবস–২০১৯ এ এক বক্তৃতায় তিনি বলেন,”আপনারা জানেন যে, আইয়ুব খান একটি আইন করে যান-আগে আমাদের শরীয়া আইনে ছিল যে, বাবার সামনে ছেলে মারা গেলে মৃত ছেলের সন্তানরা কোন সম্পত্তির ভাগ পেত না। সেই আইনটি আইনগত ভাবে আইয়ুব খান একটি সংশোধনী এনে মৃত বাবার সন্তানরা যেন সম্পত্তির ভাগ পায় সেই ব্যবস্থাটা করে দিয়ে যান। তা না হলে দেখা যেত কত পরিবার একেবারে অসহায় হয়ে যেত।(Bangladesh Today, 29 April 2019)
প্রবাদ বলে, “প্রয়োজন আইন জানে না।” পূর্বে যেহেতু কোরানিক আইন পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত রয়েছে সেহেতু এ প্রশ্নে সংবিধান সংশোধনীর পথে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।
২০১১ সালে প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতিমালা বিশ্লেষণ সাপেক্ষে দেখা যায়, নীতিমালার প্রত্যেকটি ধারা নারীর সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার অনুকূলে।
সর্বোপরি, ১৯৭২সালের সংবিধান, সিডো, নারী উন্নয়ন নীতিমালা সর্বক্ষেত্রে নারীর সমানাধিকার নিশ্চিত করতে একটি অকাট্য সামগ্ৰিক দলিল।
সুতরাং পিতার সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি এখন একদফা এক দাবি। যে দাবি কোনো ব্যক্তির নিকট নয়। পিতা-মাতার নিকট সন্তানের দাবি, রাষ্ট্রের নিকট নাগরিকের দাবি। এ দাবি ভিক্ষার দাবি নয়, জন্মের অধিকারের দাবি। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে জীবনের দাবি। জাতি,ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আসুন আমরা একযোগে শ্লোগান তুলি, “সকল সম্পত্তিতে কন্যাসন্তানের সমানাধিকার আমার জন্মগত অধিকার।
সুতরাং তা নিশ্চিত করতে হবে।”

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031