ঢাকা ১৯শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

শীতকালে গ্রামে গ্রামে চলে পিঠাপুলির উৎসব

abdul
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৯, ২০২১, ০২:২৭ অপরাহ্ণ
শীতকালে গ্রামে গ্রামে চলে পিঠাপুলির উৎসব

Exif_JPEG_420

নিয়ামতপুর(নওগাঁ)প্রতিনিধিঃ শীতকালে পিঠা-পুলি বাঙালীর আদি খাদ্য সংস্কৃতির একটা বিশেষ অংশ। প্রতিবছর শীতকালে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে পিঠা তৈরির উৎসব রীতিমত চোখে পড়ার মত।
শীত আসতেই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই ধুম পড়ে পিঠা তৈরীর।কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে গাছিরা ছুটছে রস সংগ্রহে। গাঁয়ের বধূরা চুলার পাশে বসে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শত কাজের ব্যস্ততায় সন্ধ্যায় চুলার পাশে বসে পিঠা খাওয়ার লোভ সংবরণ করতে না পেরে ছেলে-বুড়ো সব বয়সীরাই গরম গরম ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে চুলা ঘিরে বসে পড়ে গোল হয়ে।
এখনও গ্রামাঞ্চলে মেয়ে-জামাইদের দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ানোর রেওয়াজ চালু আছে। দেশে শতাধিক রকমের পিঠার প্রচলন থাকলেও গ্রামাঞ্চলের কয়েকটি পিঠা আজও প্রচলন রয়েছে।
সেগুলো হলো ভাপা পিঠা, নকশি পিঠা, চিতই পিঠা, রস পিঠা,পাটিসাপটা, পাকান, চাপড়ি পিঠা, পাতা পিঠা, চাঁদ পাকান, সুন্দরী পাকান, মালপোয়া, কুশলি, ক্ষীরকুলি, গোলাপ ফুল, নারকেলি, সিদ্ধপুলি, ভাজা পুলি ও দুধরাজ।
চালের গুঁড়া, নারকেল, খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো হয় ভাপা পিঠা। গুড় গোলানো চালের আটা তেলে ছেড়ে দিয়ে বানানো হয় তেলের পিঠা। চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে তৈরি হয় চিতই বা সাত পুলি পিঠা। চিতই বা সাত পুলি পিঠাকে দুধে বা চিনির রসে ভিজিয়ে তৈরি হয় রসপিঠা। পিঠার গায়ে বিভিন্ন ধরনের নকশি আঁকা হয় বলে একে নকশি পিঠা বলা হয়। শুকনো সুজি, ডিম আর চিনি দিয়ে তৈরি হয় রস পাকান। গুড় ও হালকা বাদামি অথবা চিনির তৈরি সাদা রঙের পাটি সাপটা আরেকটি সুস্বাদু পিঠা।
গ্রাম বাংলায় ধানের মৌসুম অনুযায়ী নানান পিঠা তৈরি হয়। কোনো কোনো পরিবার অনেক আগেই পিঠা তৈরির প্রয়োজনীয় চালের গুড়াসহ অন্যান্য উপকরণ ঘরে মজুদ রাখে।
গ্রামাঞ্চলে এক সময় ঢেঁকিতে গুড়া তৈরি করতো গ্রামীণ গৃহবধূরা। তবে কালের বিবর্তনে ঢেঁকির শব্দ এখন শুধুই স্মৃতি। গ্রামাঞ্চলে শীতের পিঠা তৈরিকে যেমন উৎসব হিসেবে গণ্য করা হয় সে তুলনায় শহরে পিঠাপুলির ব্যবহার খুব কমই চোখে পড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30