শীতার্ত রাত্রির গল্প

প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৯

শীতার্ত রাত্রির গল্প

বদিউজ্জামান নাসিম

[ দ্বৈতপ্রেক্ষিত : মার্কিন-প্রবাসী-কবি দিলারা হাশেমের ‘আলোয়ান’,
এবং নির্মলেন্দু গুনের কবিতা ‘তোমার চোখ এতো লাল কেনো’ ? ]

এখন শীত এদেশে । তীব্র শীত বহুদূরের এই শহরে ।
তুষার-ঝড়ে কেঁপে ওঠে মধ্যরাত, অকস্মাৎ –
কোনো কোনো রাতে । তখোন কাঁপন লাগে সবখানে
সবখানে । তবু দুয়ার খোলে না ।

একজন কবি এসেছেন দেশ থেকে ; আমাদেরই ক্ষনিকের অতিথি ।
লম্বা পাঞ্জাবী তাঁর গায়ে, খদ্দরের চাদর । এতে শীত মানে না ।
কবি কাঁপছেন ঠান্ডা হাওয়ায় আপনারই ঘরের বাইরে ।
দরোজাটা খুলে দেবেন ?

গুনদা, নাম্বারটা কি মনে পড়ে ? এপার্টমেন্ট নাম্বার ?
আমি বলছি, লিখে নিন । আপনি লিখবেন কি করে !
আপনার হাত ডুবে আছে পাঞ্জাবির অতলান্ত পকেটে
একটু উষ্ণতার আশায় । কোনোমতে এই বোতামটি টিপুন
‘তিন-ছয়-তিন’ । দেখবেন, নিঃশব্দে খুলে যাচ্ছে দরোজা –
দূরদেশী এক আরশিনগর আপনার সামনে –
ধীরে-ধীরে । ধী..রে । ধী…রে ।

অতঃপর, যিনি এসে দাঁড়ালেন আপনার মুখোমুখি
তিনি আপনার অনেক যুগের চেনা । তবু, কেনো যেনো
চমকে উঠলেন আপনি ! অকস্মাৎ কি ভেসে উঠলো
দূর কোন স্মৃতি, বহু পুরাতন দুঃখজাগানীয়া ?

তিনি কিন্তু একটুও অবাক হননি আপনাকে দেখে –
একটুও না । যেনো কথাই ছিলো একদিন এমন হবে –
তিন-ছয়-তিন… ওই বোতামে আপনার পরশ লাগতেই
তিনি জেগে উঠবেন – অনাদি অপেক্ষায় আর্ত শীতার্ত এক
একেলা কবি দূর শহরে । আর তখোনই খুলে দেবেন
রুদ্ধ দুয়ার, বন্ধ দুয়ার, সকল দুয়ার – একে একে ।
গুনদা, আপনি যা’ ভেবেছিলেন, তা কিন্তু ঘটলো না ।
একবারও তিনি জানতে চাইলেন না –
“তোমার চোখ এতো লাল কেনো ?”
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে তিনি শুধালেন অন্য কথা :

“কবি, আমার আলোয়ান কই – দূর বাংলার” ?