ঢাকা ১৯শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

শীত এলেই তাড়াইলে পিঠা বিক্রেতাদের ভাগ্য খোলে

abdul
প্রকাশিত জানুয়ারি ৯, ২০২২, ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
শীত এলেই তাড়াইলে পিঠা বিক্রেতাদের ভাগ্য খোলে

 

 

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ জ্বলছে মাটির চুলা। চুলার ওপরে বসানো রয়েছে ‘খোলা’। একটু পরপর খোলার ঢাকনা তুলে ঢেলে দেয়া হচ্ছে চালের গুঁড়ার ‘গোলা’। কয়েক মিনিট রেখেই গরম গরম ভাপা পিঠা নামিয়ে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে ক্রেতাদের হাতে। এমন দৃশ্য কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সদর বাজারের থানার সামনে।

 

সরেজমিন উপজেলার সাত ইউনিয়নে শতাধিক স্থানে দেখা যায়, শীত এলেই যেন ভাগ্য খুলে যায় এসব মৌসুমি পিঠা বিক্রেতাদের। প্রতিদিন পিঠা বিক্রি থেকে আয় হয় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। পিঠা বিক্রেতাদের প্রত্যেকেই নিম্ন আয়ের মানুষ। আর্থিকভাবে খুবই অসচ্ছল। শীত এলেই তারা স্বল্পপুঁজি নিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় পিঠা বিক্রি করেন। শীতের তিন থেকে চার মাস এই পিঠা বিক্রিই তাদের জীবিকা। বিকেল থেকেই শুরু হয় পিঠা বানানোর ধুম।

 

 

একাধিক পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের রাতে গরম গরম পিঠার সঙ্গে পরিচিত তাড়াইলের প্রতিটি স্থানীয় মানুষ। এখানে চিতই পিঠা খুবই জনপ্রিয়। সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিঠাপ্রেমীরা ভিড় জমান এই ফুটপাতে বসা পিঠার দোকানে। লাইন দিয়ে পিঠা খান তারা। কেউ কেউ খেয়ে আবার বাসার লোকজনের জন্যও নিয়ে যান।

 

 

 

উপজেলার সদর বাজারের চারপাশেই রয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি পিঠার দোকান। শুধু শীত মৌসুমেই দোকানগুলো দেখা যায়। এ ছাড়া নানা স্থানে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান রয়েছে। এখানে প্রতিটি ভাপা পিঠা বিক্রি হয় ১০ টাকায়। বিকেল থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি। কথা হয় তাড়াইল সদর বাজারের থানার সামনে পিঠা বিক্রেতা সাচাইল গ্রামের ইনসান এর ছেলে রায়হান এর সাথে।

 

 

 

তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০ টা ও বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করে থাকি। চালের গুড়া, গুড় ও লাকড়ি খরচ বাদে ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা থাকে। পিঠা কিনতে আসা সাররং গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক বলেন, বাসায় পিঠা তৈরি করা এখন অনেক কষ্টের। তাই বাজার থেকে পিঠা কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। বাড়িতে বানাতে যে কষ্ট আর আর্থিক খরচ, তার চেয়ে এটাই ভালো।

 

আরেক ক্রেতা হাবুল মিয়া বলেন, সন্ধ্যার পর হালকা কুয়াশায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। তখন ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান থেকে আমি পিঠা খাই। ভাপা পিঠা আমার খুব পছন্দের। শীতের ভেতর উনুনের পাশে দাঁড়িয়ে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা।

 

 

 

পিঠা বিক্রেতাগণ বলেন, শীতের মৌসুম এলেই আমরা পিঠা বিক্রি করি। অন্য মৌসুমে দিনমজুরের কাজ করি। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতা থাকে। গত বছরের চাইতে এবার চাল, লাকড়ির দাম অনেক বেশি, তাই আগের মতো তেমন লাভ হয় না। সন্ধ্যা থেকেই পিঠার দোকানে ভিড় বাড়ে ক্রেতাদের। অনেকেই আবার পিঠা নিয়ে যান বাসায়। তারা আরো বলেন, আমরা অনেকেই দিনমজুর। সংসারের কিছুটা হাল ধরতে আমরা পিঠা বিক্রি করি। তা ছাড়া শীতে আমাদের তেমন কোনো কাজ থাকে না।

 

 

এ ব্যাপারে তাড়াইল বাজারের সচেতন মহল
বলেন, স্বল্প আয়ের এসব মানুষের শীত এলে ভাগ্য খোলে। তাই তারা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা করা উচিত। কেউ বাধা দিলে কাজটা অমানবিক হবে।

 

 

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, কিছু স্থানে উন্মুক্তভাবে পিঠা তৈরি করতে দেখা যায়। তবে অনেক সময় তাদের অসাবধানতায় বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই তাদের উচিত নির্দিষ্ট স্থানে পিঠা তৈরি করা। তাদের কেউ বিরক্ত করার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30