শীত মোকাবেলার ১০ কৌশল

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

শীত মোকাবেলার ১০ কৌশল

ডাঃ আব্দুল্লাহ আল-নোমান

শীত নিয়ে আসে খেজুর রস পিঠা, পুলি ও নতুন নতুন সবজি। আবার এই শীত মানুষের জনজীবনকে ভোগান্তিতে ফেলে।

বিভিন্ন এলাকায় শীতের কারণে ব্যহত হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম। বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিন্মআয় ও ছিন্নমূল মানুষ। হাসপাতাগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। শীতের সময় কমন অসুখ হলো সর্দিজ্বর, ডায়রিয়া, কাশি। এ ছাড়া নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা, অ্যালার্জি, চোখ ওঠা, খুশকি, খোসপাঁচড়া বা চর্মরোগ প্রভৃতিরও প্রকোপ বেশি দেখা দেয়।

সর্দি-কাশি-জ্বর বা কমন কোল্ড শীতের সময়কার একটি সাধারণ রোগ। সর্দিজ্বর হলে প্রথমে নাকে ও গলায় অস্বস্তি লাগে, হাঁচি হয়, নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। নাক বন্ধও থাকতে পারে। মাথাব্যথা, মাথা ভারী বোধ হওয়া, শরীরে ব্যথা, জ্বর, গলাব্যথা প্রভৃতি উপসর্গও দেখা যায়। শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে। শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়। ফলে এতে ত্বক আস্তে আস্তে শুষ্ক, ফাটল ধরে ও দুর্বল হয়। একসময় ত্বক ফেটে যায়। শীতের সময় হতে পারে নানা ধরনের চর্মরোগ।

অন্যান্যবারের চেয়ে এবার ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এছাড়া শিশু সহ অন্যান্য বয়সের রোগীদের শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা যাচ্ছে।

শীতের কারণে বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুরা। হাসপাতাগুলোতে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি।

শীতকালে আমাদের করনীয়-

শীতকাল উপভোগ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিয়ম মাফিক চলতে হবে। মানতে হবে কিছু বিষয়।

১) শীতে পর্যাপ্ত জামা-কাপড় সাথে রাখুন। প্রয়োজনে একাধিক কাপড় পরিধান করুন।বিশেষ করে তীব্র শীতের সময় কান ঢাকা টুপি, গলায় মাফলার এবং পায়ে মোজা ব্যবহার করুন।

২) তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শীতে পানি খাওয়া কম হয় যে কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। সেই জন্য পানি জাতীয় গরম খাবার পান করুন।

৩) হাত ও পায়ের তালু এবং ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। ত্বকের সুরক্ষায় ময়েশ্চারাইজার (ভ্যাসলিন, গ্লিসারিন, অলিভ অয়েল,লোশন) ব্যবহার করুন।

৪) শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠার পর গলা ব্যথা অনুভব হতে পারে। তাই শীতে মাঝে মাঝে হালকা গরম লবনযুক্ত পানি দিয়ে গড়গড়া কুলিকুচি করুন।

৫) এই শীতে ধুলাবালি, সিগারেটের ধোঁয়া, সকালের কুয়াশা থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন।

৬) অযু, গোসল সহ যে সব কাজে পানি প্রয়োজন আছে সে সময় গরম পানি ব্যবহার করুন।

৭) নাক বন্ধ থাকলে রাতে নেজাল ডিকনজেসটেন্ট ব্যবহার করুন। মেনথল দিয়ে গরম পানির ভাব (স্ট্রিম) নিতে পারেন।

৮) অন্যের ব্যবহৃত রুমাল বা গামছা ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখুন। হাঁচি দেওয়ার সময় বা নাকের পানি মুছতে রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন।

৯) শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার রোগীদের শীতের আগেই চিকিৎসককে দেখিয়ে ইনহেলারের ব্যবহার শিখে নিন এবং প্রয়োজনে নেবুলাইজার ব্যবহার করুন।

১০) খুশকি থেকে দূরে থাকতে হলে অন্য সময়ের চেয়ে শীতে চুলে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

সাধারণত ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশি ৭ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এক সপ্তাহের বেশি সময় থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডাঃ আব্দুল্লাহ আল-নোমান, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)। মেডিকেল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

March 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

http://jugapath.com