শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০১৮

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

আজ দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করছে ।
মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান লাভ এবং পরিনির্বাণ এ তিনটি ঘটনা এই দিবসে সংঘটিত হয়েছিল। তাই বৌদ্ধদের জন্য দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যময়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে দিবসটি উৎসবমূখর এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপনের জন্য দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কমৃসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল দশটায় বুদ্ধপূজা, মহাসংঘদান এবং সন্ধ্যে ৬টায় আলোচনাসভা । এতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম প্রধান অতিথি। শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত ক্রিসেন্ট ডি সিলভা রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। সভাপতিত্ব করবেন একুশে পদকে ভূষিত উপসংঘরাজ ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো।রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের চর্চা ও বুদ্ধের মহান আদর্শকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে কর্মপ্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান।
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমার সাথে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মহামতি বুদ্ধ ছিলেন জীবের মঙ্গল কামনায় সত্যসন্ধ। পৃথিবীকে সুখী ও শান্তিপূর্ণ করে গড়ে তোলার জন্য তিনি নিরন্তর প্রয়াস চালান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বুদ্ধের চেতনায় ছিল দুঃখ জয়ের মাধ্যমে জীবের মুক্তি কামনা। ‘চতুরার্য সত্য’ তত্ত্বে তিনি জীবনে দুঃখ, দুঃখের উৎপত্তি, দুঃখ ভোগের কারণ এবং তা থেকে মুক্তির পথ দেখান। তাঁর মতে ‘নির্বাণ’ লাভের মাধ্যমে মানুষ জীবনের পরমার্থ অর্জন এবং সকল প্রকার দুঃখ থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে। এজন্য তিনি অষ্টমার্গ তথা প্রজ্ঞা, শীল ও সমাধি চর্চার উপদেশ দেন। তিনি স্থান-কাল-পাত্রের ঊর্ধ্বে ওঠে পৃথিবীর সকল জীবের কল্যাণ ও সুখ কামনা করেন। ‘সব্বে সত্তা সুখীতা হোন্তু’-পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক, এ ছিল বুদ্ধের শাশ্বত দর্শন।
আবদুল হামিদ বলেন, মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আজকের এই সংঘাতময়, অশান্ত ও অসহিষ্ণু বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশের সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও আচার অনুষ্ঠানাদি অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করে আসছে। বিশেষ করে বাংলার জনপদের সাথে প্রাচীনকাল থেকেই বৌদ্ধ সভ্যতার ইতিহাস ও কৃষ্টি গভীরভাবে মিশে আছে। পাহাড়পুর ও ময়নামতি শালবন বিহার এ সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা সবার জন্য অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৌতম বুদ্ধের জন্ম, মৃত্যু ও বোধিজ্ঞান লাভের স্মৃতিবিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আগামীকাল শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ শনিবার দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই শুভেচ্ছা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ধারণ ও লালন করে সকলে বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করে আসছেন। এই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে সমুন্নত রাখতে বৌদ্ধ ধর্মের নেতাদের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বাণীতে শেখ হসিনা বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধ আজীবন মানুষের কল্যাণে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করেছেন। শান্তি ও সম্প্রীতির মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গঠনই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধ সত্য ও সুন্দরের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবজগতকে আলোকিত করতে কাজ করে গেছেন। মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর জীবনাদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
একই সাথে তিনি বুদ্ধ পূর্ণিমা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক- এ কামনা করেন।