শূন্যের যোগফল

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২২

শূন্যের যোগফল

-লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী

প্রত্যাশাবাদীদের পৃথিবীতে প্রতিযোগিতার বলয় থেকে বেড়িয়ে আসারও একটা কৌশল থাকে কারও কারও।

আমার দেখা এমন অনেকেই রয়েছে। তাদের মাঝে রাইনের বৈশিষ্ট্যগুলোকে আমার পক্ষে অবহেলা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক বিভ্রান্তি থেকে শুরু করে সামাজিক জটিলতার কঠিন বুননে বেড়ে উঠেছে রাইন। বয়স যত বেড়েছে তার অভিজ্ঞতার ওজনটা শরীরের ওজন ছাড়িয়ে গেল।

অভিজ্ঞতার কি ওজন হয়। এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সে গভীর ভাবে চিন্তামগ্ন হয়েছে। রাইনের মতে অভিজ্ঞতার ওজন হবে হয় সুখ অথবা দূঃখের অবয়বে। রাইনের সবচেয়ে বড় পরিচয় এই মুহূর্তে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ। তবে আমি তাকে আবিষ্কার করেছি আমার কিছু বিশেষ আগ্রহের প্রভাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে তাকে খুব স্বাধীন একজন যুবক মনে হয়েছে আমার। এজন্যই তার সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়ে গেল একদিন। অতঃপর ফেইসবুকে বন্ধুত্ব।

আমার একটি প্রকাশনা অফিস রয়েছে ঢাকা শহরে। সেখানে অনেকের আড্ডা মানেই শুভ সন্ধ্যার কথা মনে করিয়ে দেয়। রাইন এই আড্ডার একজন নিয়মিত সদস্য। খুব সাধারন যুবক। শারীরিক গঠন বেশ আকর্ষণীয়। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে তার বিকাশলাভের ঈঙ্গিত রয়েছে পোশাকে।

এই ঢাকা শহরে যত বইয়ের দোকান রয়েছে মোট জনসংখ্যার অনুপাতে সেটা একপ্রকার সৌজন্যতার খাতিরেই চলছে বলা চলে। বই পাঠে মানুষের তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। বাংলাদেশের কেউ কোনদিন সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার পাননি। কিন্ত সাহিত্যের চর্চা এই দেশে অনেক নোবেল লরিয়েটের দেশের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। সাহিত্যের ধ্রুপদী পথ চলার সাথে ভৌগলিক ভাবেই বাংলাদেশের মানুষের গভীর যোগাযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি রাইনের

জীবনে আবির্ভাব ঘটিয়েছে কার্ল মার্ক্সের পাঠ। সে নিজেকে একজন মার্ক্সবাদী ভাবছে ধীরে ধীরে। তবে সে জানে বিগত শতাব্দীর শেষ প্রান্তের ইতিহাস। কিভাবে সমাজতন্ত্র ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে । সে মার্ক্স এর চর্চা করছে শুধুই উপলব্ধির জন্য।