শেখ হাসিনার কারা মুক্তি ও গনতন্ত্রের পুনর্যাত্রা

প্রকাশিত: ১:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০২১

শেখ হাসিনার কারা মুক্তি ও গনতন্ত্রের পুনর্যাত্রা

তাপস হালদার
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। সেনা সমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চারদলীয় জোট সরকার যখন সংবিধানকে লংঘন করে নিজেদের পছন্দ মত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে এক তরফা নির্বাচন করার যাবতীয় পরিকল্পনা নিয়েছিল, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট জনগনকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুসংহত করাই ছিল দেশরত্ন শেখ হাসিনার মূল টার্গেট। নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি।সেই আন্দোলনের ফসল ১/১১ সরকার।খুব অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেয়াই তাদের দায়িত্ব ছিল।কিন্তু তারা ক্ষমতার লোভে পড়ে নির্বাচন দিতে নানা ধরণের তালবাহানা শুরু।নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে বলে কমপক্ষে দুই বছর পর নির্বাচন হবে।তখনই সাধারণ মানুষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে।একদিকে জরুরী অবস্থার অজুহাত দেখিয়ে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল গুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করে,অন্যদিকে পতিত আদর্শচ্যুত এক শ্রেনীর লোক দ্বারা নতুন নতুন দল গঠনের পায়তারা শুরু করে।‘দুদক’কে ব্যবহার করে রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালায়।জনগণের কাছে রাজনীতিবিদদের বিতর্কিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে সরকার।শীর্ষ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।

কিন্তু তারা প্রধান টার্গেট করে শেখ হাসিনাকে।কারণ শেখ হাসিনাকে সরানো না গেলে তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করা যাবেনা,সেটা বুঝে যায়।এজন্যই শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য হাজির করা হয় ‘মাইনাস-টু’ তত্ত্বের ফর্মুলা।সরকার প্রথমে কথিত একজন ব্যবসায়ীকে দিয়ে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করে।সরকার ভালো করেই জানতো, শেখ হাসিনা কারো কাছ থেকে কোনোদিন চাঁদা নেন নি। তিনি তাঁর জীবনে কোনোদিন কারও কাছে কোনো টাকা চাননি। তারপরও মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারেন সেই ব্যবস্থা করার জন্যই যাকে তাকে ধরে নিয়ে জোর পূর্বক মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হতো।শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে রাজি না হলেই তাকে জেলে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। একটা ভয়াবহ আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল,যাতে নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে যায়।সরকার জানতো শেখ হাসিনা ডাক দিলে লক্ষ লক্ষ কর্মী মাঠে নেমে পড়বে।তখন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না।
দেশরত্ন শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে আসতে চাইলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারি নিষেধাজ্ঞা, যড়যন্ত্র ও মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে ২০০৭ সালের ৭ মে দেশে ফিরে আসেন।কিন্তু দেশে ফেরার দুমাস পর ১৬ জুলাই বিনা পরোয়ানায় নিজ বাসভবন সুধাসদন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাতীয় সংসদ এলাকায় একটি অস্থায়ী কারাগারে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়।
গ্রেফতারের পর সংসদ ভবনে স্পেশাল ক্যাঙ্গারু কোর্ট বসানো হয়েছিল। তারপর একটার পর একটা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে কোন মূল্যে শেখ হাসিনাকে দুর্নীতিবাজ প্রমানে উঠে পড়ে লেগেছিল।তাদের একমাত্র টার্গেট শেখ হাসিনাকে যেকোন ভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা।সেজন্য পরিকল্পনা মাফিক প্রথমে দেশের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সেটা যখন সফল হয়নি।পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা,জনগনের কাছে দুর্নীতিবাজ সাজিয়ে জনগন থেকে দূরে রাখা সহ এমন কোন কাজ নেই যে তারা করেনি।
কারাগারে দেশরত্ন শেখ হাসিনার জীবননাশের ষড়যন্ত্র চলে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।ব্যক্তিগত চিকিৎসকগনেরা অভিযোগ তোলে স্লো-পয়জনিংয়ের মাধ্যমে নেত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।সমগ্র বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মুক্তির লক্ষ্যে প্রতিবাদ মূখর ওঠে উঠে।আন্তর্জাতিক বিশ্বেও চাপে পড়ে যায় সরকার।আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তির লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সকল মানুষ ঐক্যবন্ধ ভাবে দাবি জানায়।শত চেষ্টা করেও সরকার আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করতে পারে নি,বরং শেখ হাসিনা প্রশ্নে আরো ঐক্যবন্ধ হয়ে উঠে তৃনমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত।চারিদিকে আওয়াজ ওঠে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন নয়। তুমুল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সরকার।মুক্তি পেয়েই তিনি উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান ।২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর দেশে ফিরে আসেন।

২৯ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে মহাজোট।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।সেই থেকে টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থ বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।গনতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মানে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশকে নিয়ে গেছেন উন্নত সমৃদ্ধ মর্যদাশীল দেশের কাতারে।
১১ জুন, শুধুমাত্র ব্যক্তি শেখ হাসিনাই মুক্তি পায়নি, যাত্রা শুরু হয়েছিল গনতন্ত্রের।মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি ব্যক্তি কিংবা সংগঠন দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যদায় পালন করে থাকে।কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে জনসমাগমপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়তো পরিহার করা হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ স্ব-স্ব উপাসনালয়ে গিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রার্থনা করবে।আজকের দিনে প্নার্থনা থাকবে জয হোক গনতন্ত্রের,জয় হোক শেখ হাসিনার।

লেখক:সদস্য,সম্প্রীতি বাংলাদেশ ।
ইমেইল:haldertapas80@gmail.com

ছড়িয়ে দিন