শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২১

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক
মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দাফন করা হয়।
সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটির বাসভবন উজানে তার মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসান আজিজুল হকের মরদেহ তার কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা জানানো শেষে দুপুর ১২টায় মরদেহ নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হয়। প্রথমেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন। এ সময় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, রাজশাহী-৩ (পবা ও মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, হাসান আজিজুল হকের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার চেতনা ও মূল্যবোধ জাতির বিবেককে বহুকাল ধরে জাগ্রত রাখবে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সরকার সুজিত কুমার বলেন, তিনি শুধু একজন কবি ছিলেন না। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের জন্য একজন হীরকখণ্ড ছিলেন। আমি মনে করি, তিনি নোবেলের দাবিদার। মরণোত্তরও তাকে নোবেল দেওয়া যেতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তথা বাংলাদেশে প্রগতিশীল চিন্তার যে আন্দোলন তার অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন তিনি। তিনি অনবদ্য, অতুল্য। তার চলে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
শহীদ মিনারে শুভাকাঙ্ক্ষীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কিংবদন্তীতুল্য এই কথাসাহিত্যিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে দাফন করা হয়। জানাজার শুরুতে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘আগুন পাখি’ আজ আমাদের মাঝ থেকে চিরবিদায় নিলেন। এ শোক সইবার নয়। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
ছড়িয়ে দিন