শ্রীমঙ্গলে একই বিল্ডিংয়ের তিনটি ফ্ল্যাটের মানুষ অচেতন, এক ফ্ল্যাটে চুরি

প্রকাশিত: ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১

শ্রীমঙ্গলে একই বিল্ডিংয়ের তিনটি ফ্ল্যাটের মানুষ অচেতন, এক ফ্ল্যাটে চুরি

 

পংকজ কুমার নাগ

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের শ্যামলী আবাসিক এলাকার মিলন মিয়ার বাসার একই বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে চুরি ও মোট তিন ফ্ল্যাটের মানুষ অচেতন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) রাত আনুমানিক ২ ঘটিকার পরে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। চুরেরা খালেদ আহাম্মদের লোকজনকে অচেতন করে জানালার গ্রীল ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকাসহ প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে ঘরে চেতনানাশক নেশা জাতীয় তরল দ্রব্য খাবারে মিশিয়ে অচেতন করে এই চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়ে থাকতে পারে। এতে ৩ টি পরিবারের মোট ১৬ জন নারী পুরুষকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ভিকটিম খালেদ আহমদ এর ফেইসবুকের ষ্ট্যাটাস ও ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচেতন অবস্থায় খালেদের পরিবার ও পরে বাকি ফ্ল্যাটের মানুষদের উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন শ্যামলী আবাসিক এলাকার খালেদ আহমদ(৩৫), তার স্ত্রী উম্মে জাহান উর্মি (২৬), খালেদের মা শামসুন্নাহার বেগম(৫০), বোন সাকেরা বেগম(৩৪), ভাই জাহেদ মিয়া(২০) ও কাজিন রাশেদ আহমেদ(২০), পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা টিউবওয়েল ঠিকাদার আব্দুল লতিফ(৫০), স্ত্রী রাহেলা বেগম(৪০), তার দুই কন্যা সীমা আক্তার(২৩) ও রীমা আক্তার(১৭), একই বাসার উপর তলার ফরিদ মিয়া(৫০), স্ত্রী ও ৪ জন ছেলেসহ মোট ষোলো জন।

খালেদ মিয়ার ভগ্নিপতি বাকের মিয়া জানায়, রাত ১২ টার দিকে পরিবারের লোকজন রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে ফজরের নামাজের এলার্ম শুনে ঘুম থেকে ওঠে খালেদ আহমদ কিছুটা সুস্থ অবস্থায় জেগে উঠেন। এরপর পরিস্থিতি বুঝে তার ফেইসবুকে বিষয়টি জানিয়ে একটি ষ্ট্যাটাস ও একই সাথে ৯৯৯ ফোন দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ এসে খালেদ আহমদ ও তার পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

বাকের মিয়া জানান ঘরের জানালার গ্রীল ভেঙ্গে ডাকাতরা ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙ্গে নগদ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ও প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। পুলিশের উদ্ধার কাজের সময় একই বাসার উপরের ফ্লাটের বাসিন্দারা জেগে চিৎকার করলে পরিবার দুটির আরো ১১ জন সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় পুলিশ। এর মধ্যে ভিকটিম আব্দুল লতিফ ও শামসুন্নাহার বেগমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে শ্যামলী আবাসিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও খালেদ আহাম্মদ এর প্রতিবেশী এম এ কাইয়ূম জানান খালেদ মিয়ার বাসা ছাড়া অপর দুই বাসার কোন কিছু খোয়া যায়নি।

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির জানান, সন্ধ্যার কোন এক সময় দুষ্কিৃতিকারীরা রান্নাঘরের জানালা দিয়ে খাবারে তরলজাতিয় চেতনানাশক পদার্থ মিশিয়ে থাকতে পারে। একটি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে রান্না ঘরের পেছন থেকে। রাতে সেই খাবার খেয়ে এই তিনটি পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়ার সুযোগে জানালার গ্রীল ভেঙ্গে খালেদ মিয়ার বাসার আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্নালঙ্কার চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে বাকি দুই পরিবারের কোন কিছুই খোয়া যায়নি। এ নিয়ে পুলিশ সক্রিয়। তদন্ত সাপেক্ষ অপরাধীদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

এদিকে ব্যবসায়ী খালেদ আহমদকে দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, অনলাইন, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা হাসপাতালে ছুটে যান। এসময় তারা ভিকটিম পরিবারগুলোর সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।