সংশোধনী এনে সংসদে পাস হয়েছে অর্থবিল ২০১৮

প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৮

সংশোধনী এনে সংসদে পাস হয়েছে অর্থবিল ২০১৮

কিছু সংশোধনী এনে সংসদে পাস হয়েছে অর্থবিল ২০১৮।

ইন্টারনেট সেবার উপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনাসহ কর প্রস্তাব এসেছে ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনার পর কিছু পরিবর্তন এনে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি সিগারেটের উপর বাড়তি কর আরোপ করেছেন, সেই সঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলির উপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

আগামী বছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ফর্দ ধরে গত ৭ জুন সংসদে বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন মুহিত।

টানা ১০টি জাতীয় বাজেট দেওয়া ৮৫ বছরের মুহিতের এবারের বাজেট নিয়ে তেমন সমালোচনা হয়নি। তবে ব্যাংক খাতের দুরবস্থা নিয়ে নিজ দলের সংসদ সদস্যসহ জাতীয় পার্টির সাংসদদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর মুহিত তার সংশোধিত প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “৭ জুন সংসদে উপস্থাপিত বাজেট প্রস্তাবে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিধিমালার উপর কতিপয় সংশোধন/সংযোজন/পরিমার্জন অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত কয়েকদিন এগুলোর উপর সংসদে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ব্যবসায়ী মহলও অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন।

“প্রাপ্ত মতামত আমরা পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করেছি। পর্যালোচনান্তে কতিপয় প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার ও কতিপয় নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে।”

বাজেটের উপর সমাপনী বক্তৃতা শেষে এ সব সংযোজন-বিয়োজনসহ অর্থমন্ত্রী অর্থবিল পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত (ফাইল ছবি)

সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত (ফাইল ছবি)
ইন্টারনেট সেবার উপর ভ্যাট কমানো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর সেবাকে অধিকতর সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট সেবার উপর প্রযোজ্য ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।”

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং ধূমপায়ীর সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি দশ শলাকার মূল্য ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা এবং অতি উচ্চস্তরের সিগারেটের প্রতি দশ শলাকার মূল্য ১০১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৫ টাকা করা হয়েছে।

গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণসহ দেশের সব মানুষ শীতের সময় ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম জেলির উপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

আরও যেসব পরিবর্তন

১, ব্যবসায়ী পর্যায়ে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের উপর পূর্বের ধারাবাহিকতায় মূসক অব্যাহতি প্রদান।

২,দেশীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল; শুধু স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান।
৩, জর্দা ও গুলে বর্তমানে শুল্ক-করসহ মূল্যের পূর্বের অভিঘাত অপরিবর্তিত রেখে প্রতি গ্রাম জর্দার ট্যারিফ মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা এবং প্রতি গ্রাম গুলের ট্যারিফ মূল্য ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪, ফিলামেন্ট বাল্বের উপর আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার।

৫,দেশীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট অব্যাহতি বহাল; শুধু স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৭ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রদান।

৬, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির বিপরীতে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে নিট ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

৭, এয়ারলাইন্সগুলোর বন্দর সেবার উপর ভ্যাট অব্যাহতি।

আমদানি পর্যায়ের শুল্ক-করের ক্ষেত্রে যে সব সংশোধনী আনা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-

১, বাল্ক গুড়োঁদুধ আমদানিতে শুল্ক আগের মতো ২৫% করা হয়েছে।

২, ব্যাটারি শিল্পের কাঁচামাল প্রাকৃতিক বেরিয়াম সালফেটের আমদানি শুল্ক ১০% হতে ৫% এ নামিয়ে আনা হয়েছে।
৩, হেপাটাইটিস-সি রোগের ওষুধের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য করা হয়েছে।

৪, মোবাইল সিম কার্ড ও স্মার্ট কার্ডের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত পিভিসি শিটের আমদানি শুল্ক ১৫% হতে কমিয়ে ১০% করা হয়েছে।

৫, ওষুধ শিল্প খাতের অন্যতম উপকরণ মোড়ক তৈরিতে পিভিসি ফিল্ম ও নাইলন ফিল্মের আমদানি শুল্ক ১০% হতে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে।

৬, লিফ ম্প্রিং আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক আগেড়র মতো ২০% করা হয়েছে।
৭, টেলিভিশনের এলসিডি ও এলইডি প্যানেল তৈরিতে ব্যবহৃত ওপেন সেল আমদানি শুল্ক ৫% করা হয়েছে।

৮, ডিজিটাল কার্ডের মডিউলের আমদানি শুল্ক ১০% হতে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে।
৯, ডাবল কেবিন পিকআপের বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি ২৫% হতে কমিয়ে ২০% করা হয়েছে।