সংস্কৃতিবান মানুষের থাকে পৃথক রুচিবোধ

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৮

সংস্কৃতিবান মানুষের থাকে পৃথক রুচিবোধ

রাফেয়া আবেদীন

সংস্কৃতিই একটি দেশ ও জাতির সবচেয়ে বড় পরিচয়। সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে একটি দেশ বা জাতির সার্বিক পরিচয় মূর্ত হয়ে ওঠে। কেবল ভৌগোলিক পরিসীমার মধ্যে কতগুলো মানুষের খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার মধ্যে রাষ্ট্র বা জাতি হিসেবে মানুষের কোনো আলাদা পরিচয় গড়ে ওঠে না। যদিও জীবন যাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত সবই সংস্কৃতির অংশ। তবু মানুষের সংস্কৃতিবান হয়ে ওঠার কতগুলো ধাপ বা পর্যায় থাকে, একটা পরম্পরা থাকে। একটি এলাকার মানুষের ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, প্রতিবেশির সঙ্গে সম্পর্ক, মানবিকতার চর্চা, প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান, সর্বোপরি শিক্ষা মানুষের জীবন যাপনের সংস্কৃতিকে একটি রুচিশীল মানদ- দান করে।

আর সংস্কৃতিবান মানুষ এ কারণেই হয়ে ওঠেন মানবিক গুণের অধিকারী। সংস্কৃতিবান মানুষের থাকে পৃথক রুচিবোধ, ভিন্ন সৌন্দর্যচেতনা ও সংবেদনশীল মন। আর এসব বৈশিষ্ট্য মানুষ অর্জন করে একটা দেশের প্রকৃতি থেকে, শিক্ষা থেকে, সাহিত্য থেকে, ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে, প্রথা ও ঐতিহ্য থেকে। এসবের ভেতর দিয়ে একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি তৈরি হয়।

বাংলাদেশেরও রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি। পালিবাহিত উর্বর মাটির সমতল ভূমি, কোথাও পাহাড়, বনভূমি আর সবুজ প্রকৃতির মতোই এদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একত্রে বসবাস করে আসছে। এভাবে আমাদের তৈরি হয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, নিজস্ব সাহিত্য, নিজস্ব মানবিক মূল্যবোধ।

কিন্তু এদেশের মানুষ একই সঙ্গে গ্রহণ করেছে বিশ্ব সংস্কৃতির অনেক কিছু। রবীন্দ্রনাথ আমাদের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত। বিশ্ব সংস্কৃতির অনেক কিছু তিনি গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের জল-হাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘মিলিবে মেলাবে।’ এই মিলন বিশ্ব সংস্কৃতির সঙ্গে মিলন। এই মিলন না হলে বিশ্বমানব হয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

আজ নেপাল ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উৎসব। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। নেপাল অনেক উন্নত সংস্কৃতির দেশ। এই উৎসবের ভেতর দিয়ে নেপালের সাহিত্য, সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের মিলন ঘটল। এটা আমাদের অনেক বড় পাওয়া।