সঙ্কট নিরসনে ১১ দফা দিল ছাত্র ইউনিয়ন

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৮

সঙ্কট নিরসনে  ১১ দফা দিল ছাত্র ইউনিয়ন

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সঙ্কট নিরসনে ১১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই প্রস্তাবাবলি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক প্রাবন্ধিক ও গবেষক আবুল মোমেন এবং অতিথি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদও বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে এর পরিবর্তনের উপর জোর দেন।

ছাত্র ইউনিয়নের ১১ দফা হচ্ছে-

অবিলম্বে প্রশ্নফাঁস রোধ ; পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িকতার দর্শনে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন; শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতে ডাকসুসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন; শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫% বরাদ্দ; শিক্ষকদের স্বতন্ত্র, যুগোপযোগী ও আধুনিক বেতনকাঠামো নিশ্চিত; শিক্ষা আইন ২০১৬ এর বাতিল ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধ; পিইসি পরীক্ষা বাতিল করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একই ধারার প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, সাত কলেজের সংকট নিরসন; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অভিন্ন টিউশন ফি নীতিমালা প্রণয়ন, ইউজিসি অনুমোদিত অভিন্ন গ্রেডিং বাস্তবায়ন, স্থায়ী ক্যাম্পাস ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত; ইউজিসির ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র বাতিল; একই ধারার গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, সর্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

‘রাষ্ট্রব্যাপী পণ্যদস্যু হাত, বাঁচাও আমার শিক্ষা ধারাপাত’ স্লোগানে ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন, যে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনের রেশ ধরে।

জাতীয় পতাকার সঙ্গে নীল জমিনে চার তারকা খচিত সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে আবুল মোমেন বলেন, “পরীক্ষা পদ্ধতি আমাদের শিক্ষার উপর এতই চেপে বসেছে যে সেখানে পড়াশুনা তেমন একটা নেই, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার্থী হিসেবে বড় হচ্ছে। পরীক্ষা শিক্ষার্থীকে এতই প্রেসারে রাখে যে শিক্ষার্থীরা আগের ক্লাসের পড়া রেখে ব্ল্যাঙ্ক অবস্থায় পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হচ্ছে।”

‘আমাদের শিক্ষা নির্জীব শিক্ষা, এতে প্রাণের সঞ্চার করতে হবে’ মন্তব্য করে এই গবেষক বলেন, “যে শিশু এই বর্ষাপ্রধান দেশে বৃষ্টিতে ভিজে না, যে গ্রীষ্মের রোদে কখনও দাঁড়ায় না, সে শিশু সত্যিকারের প্রাণশক্তি নিয়ে বড় হতে পারবে না। শিক্ষা ব্যবস্থা বিবর্ণ হলে আমরা ডিগ্রিধারী তৈরি করতে পারব, তবে সত্যিকারের মানুষ তৈরি করতে পারব না।”

শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের সমালোচনা করে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “আজকে যে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, তা বাণিজ্যিকীকরণেরই ফলাফল। প্রশ্ন ফাঁস অবশ্যই বন্ধ হবে যদি বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ হয়।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহত সংগঠনের নেতা মঈন হোসেন রাজুকে স্মরণ করে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, “আমরা সে রাজুর উত্তরাধিকার, যে রাজু ১০-১১জন নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মিছিল করে রাজপথে তার রক্ত ঢেলে দিয়েছিল।

“সে রাজুর উত্তরাধিকার হিসেবে বলতে চাই, অবিলম্বে ডাকসুসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। শিক্ষার যে বাণিজ্যিকীকরণ, তা বন্ধ করতে হবে।”

 

ছাত্র ইউনিয়নের এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সও যোগ দিয়েছিলেন তার সংগঠনের একদল নেতা-কর্মী নিয়ে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশসহ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতারা।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোভাযাত্রা বের করে ছাত্র ইউনিয়ন। বিকালে পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় দিনের আয়োজন।