সত্য মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে

প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৫

এসবিএন অনলাইন ডেস্ক:
‘সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত, নিশ্চয় মিথ্যা অপসৃত হওয়ার ছিল’ পবিত্র কোরআনের এ আয়াতটি সবসময় মনে রাখতে হবে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে সত্যকে আঁকড়ে ধরে এবং মিথ্যাকে পরিহার করে চলতে হবে। তাহলে আমরা উভয় জাহানে কামিয়াব হব। সফলতা লাভ করতে পারব। হাদিসের কিতাবগুলোতে সৎ ও সত্য পথে চলতে ব্যাপকভাবে উত্সাহিত করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা সত্যকে মজবুতভাবে ধর। কেননা সত্য পুণ্যের দিকে নিয়ে যায়। আর পুণ্য বেহেশতে পৌঁছে দেয়। আর যে ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বলে এবং সত্য কথা বলতে চেষ্টা করে আল্লাহর দরবারে তাকে সিদ্দিক (অর্থাত্ সত্যবাদী) বলে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বিরত থাক। কেননা মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপ-দোজখে পৌঁছে দেয়। যে ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা কথা বলে এবং মিথ্যা কথা বলার চেষ্টা করে, আল্লাহর দরবারে তাকে কায্যাব (অর্থাত্ মিথ্যাবাদী) বলে লিপিবদ্ধ করা হয় (বুখারি মুসলিম)। মুসলিম শরিফের অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, সত্যবাদিতা একটি পুণ্যজনক বস্তু। আর পুণ্য বেহেশতের দিকে নিয়ে যায়। মিথ্যা হলো মহাপাপজনক বস্তু। পাপ জাহান্নামে পৌঁছে দেয়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নাহক মিথ্যা বর্জন করে তার জন্য বেহেশতের এক প্রান্তে (বিরাট) প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। আর যে ব্যক্তি হক ও ন্যায়ের ওপর অটল থেকে বিবাদ-বিসম্বাদ পরিত্যাগ করে তার জন্য বেহেশতের কেন্দ্রস্থলে প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে উত্তমরূপে গঠন করে নেয়, তার জন্য বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থানে অট্টালিকা তৈরি করা হবে (তিরমিজি)। হজরত বেলাল ইবনে হারেস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসুলে আকরাম (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো লোক ভালো কথা বলে, কিন্তু সে তার মর্যাদা সম্পর্কে বেখবর। তার জন্য আল্লাহতায়ালা তার সঙ্গে সাক্ষাত্ লাভের দিন পর্যন্ত (অর্থাত্ মৃত্যু পর্যন্ত) নিজের সন্তুষ্টি লিখে রাখবেন। আবার কোনো লোক খারাপ কথা বলে, কিন্তু সে জানে না, তা তাকে কোথায় নিয়ে যাবে। তার জন্য আল্লাহতায়ালা তার সঙ্গে সাক্ষাতের দিন (অর্থাত্ মৃত্যু) পর্যন্ত নিজের অসন্তুষ্টি লিখে রাখবেন (শরহে সুন্নাহ)। প্রিয় পাঠক! কখনো কখনো আমরা মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা কথা বলি। চাঁপাবাজি করি, যা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠিনভাবে হারাম। হজরত বাহয ইবনে হাকিম তার পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, সে ব্যক্তির জন্য ধ্বংস, যে কথা বলে এবং মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা কথা বলে। তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ ও দারেমি)।