সদ্যঘোষিত রাজাকারের তালিকা নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

সদ্যঘোষিত রাজাকারের তালিকা নিয়ে বিতর্ক

সদ্যঘোষিত রাজাকারের তালিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে । বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর বাবা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা। ক্রমিক নম্বর ১১২, পৃষ্ঠা নম্বর ৪১১৩। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পেয়ে থাকেন। অথচ সদ্যঘোষিত রাজাকারের তালিকায় তিনি এখন ৬৫ নম্বর রাজাকার।

নিজের ফেইসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনাকে নিজের ‘রাজনীতির খেসারত’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশালের সদস্য সচিব এই মুক্তিযোদ্ধা-কন্যা।

তিনি লিখেন, ‘মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ কাজ করার পুরস্কার পেলাম আজ। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগকে। সদ্য প্রকাশিত রাজাকারদের গেজেটে আমার বাবা এবং ঠাকুমার নাম প্রকাশিত হয়েছে।’

‘আমার বাবা এড. তপন কুমার চক্রবর্তী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা, ক্রমিক নং ১১২ পৃষ্ঠা ৪১১৩। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পেয়ে থাকেন। আজ রাজাকারের তালিকায় তিনি ৬৫ নাম্বার রাজাকার!’

ডা. মনীষা বলেন, ‘আমার ঠাকুরদা এড সুধীর কুমার চক্রবর্ত্তীকে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তিনিও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর সহধর্মিণী আমার ঠাকুমা উষা রানী চক্রবর্ত্তীকে রাজাকারের তালিকায় ৪৫ নাম্বারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

মনীষা চক্রবর্তী ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পান। কিন্তু সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে এই চিকিৎসক রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত হন।

বিনা পয়সায় গরিব মানুষকে চিকিৎসা দেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে থাকেন তিনি।

ফেইসবুক পেজটি ডা. মনীষার বলে নিশ্চিত করে বরিশাল বাসদের আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এমন গর্হিত কাজটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডা. মনীষার গোটা পরিবার মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। কেবল রাজনৈতিক কারণে ওই পরিবারের মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাজাকারের তালিকায় দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ ছাত্রফ্রন্টের সদ্য সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘নগরীর সড়ক থেকে হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় প্রতিনিয়ত আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’