সবসময় কল্যাণমূলক কাজ করে গেছে কামাল: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২১

সবসময় কল্যাণমূলক কাজ করে গেছে কামাল: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল, দেশের  কল্যাণমূলক কাজ করে গেছে শেখ কামাল। ওই বেঁচে থাকলে যুব সমাজের জন্য অনেক অনেক কাজ করে যেতে পারতো।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) শহীদ শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ‌্যমে অনুষ্ঠানে তিনি যুক্ত হন। যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাবার স্নেহ থেকে আমরা বঞ্চিত ছিলাম। কামাল আর আমি পিঠাপিঠি ছিলাম। বাবা তাকে খুব আদর করতো। ওর মধ‌্যে ছোটবেলা থেকে কর্তব‌্যবোধ ছিলো। এমন কোনো খেলা নেই যে কামাল খেলতো না। সে চমৎকার নাটক করতে পারতো।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবাহনী ক্রীড়া চক্র প্রতিষ্ঠা করে কামাল। ওই অঞ্চলের লোকজন যাতে খেলাধুলা করতো পারতো এটাই তার উদ্দেশ‌্য ছিলো।’

তিনি জানান, সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলায় যে উৎকর্ষতা তাতে কামালের অবদান রয়েছে। প্রত‌্যেকটা আন্দোলনে সে অংশ নিতো। একটা অদ্ভুদ সাংগঠনিক দক্ষতা ওর ছিলো। তার প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ গড়ে ওঠে। সংগীত অঙ্গনেও ছিলো তার অবদান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কামাল অত‌্যন্ত সাদাসিদে জীবন-যাবন করতো। ব‌্যবসা-বাণিজ‌্যের প্রতি তার দৃষ্টি ছিলো না। সে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশি ব‌্যস্ত থাকতো। দেশের মানুষের জন‌্য কাজ করেছে।’

 

একটা জাতিকে গড়ার জন্য শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া পুরস্কারের মধ্যদিয়ে যেমন শেখ কামালের প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে, তেমনি ক্রীড়াঙ্গণে মানুষের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে, উৎসাহী হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিশ্বসভায় মর্যাদা বয়ে আনেব- সেটাই কাম্য।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছোট ভাই শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কামাল আমার ছোট ভাই। আমরা দুই ভাইবোন পিঠাপিঠি। এক সঙ্গে বড় হয়েছি, এক সঙ্গে চলতাম। খেলাধুলা, পড়ালেখা ও ঝগড়াও করেছি। ভালো বোঝাপড়া ছিল আমাদের মধ্যে। যে কোনো কাজে আমার সঙ্গে পরামর্শ করত। একরকম নির্ভর করত আমার ওপর। বাবার স্নেহ থেকে সে বঞ্চিত ছিল। যার কারণে মনে অনেক আক্ষেপ ছিল। আব্বা তাকে আদরও করতেন বেশি। কামালের অনেক গুণ ছিল। সে যে কাজেই হাত দিত, সেখানে তার মেধার স্বাক্ষর রেখে আসত। কামাল সেতার বাজানো শিখতো, সে চর্চা সে রেখে গিয়েছিল। পাশাপাশি চমৎকার নাটক করতে পারত। ঢাবিতে পড়তে অনেক নাটক করেছে। ক্রীড়া জগতে তার অবদান অনেক। আবাহনী ক্রীড়াচক্র গড়ে তোলে। ধানমণ্ডি অঞ্চলের শিশু ও কিশোরদের খেলাধুলার জন্য এই চক্র গড়ে তোলে কামাল।’

তিনি বলেন, ‘কামাল ঘরে ঢুকলে গান গাইতে গাইতে আসত। বোঝা যেত কামাল আসছে। স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী সে গড়ে তোলে। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করত। অদ্ভুত সাংগঠনিক দক্ষতা ওর মধ্যে ছিল। ঢাবিতে ছেলে-মেয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে চলতে পারায় কামালের অবদান আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাবাকে তো প্রায় গ্রেফতার করা হতো। ছয়দফা দেয়ার পর কামালের আন্দোলনের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আসলে আজকে আমাদের সঙ্গীতাঙ্গণে যে আধ্যাত্মিক বা ফোক গান আধুনিক সঙ্গীতের সঙ্গে সুর করে প্রচার করা হয়, এতে কামালের অবদান ছিল। আজকে যেটি প্রাসঙ্গিক। উপস্থিত বক্তৃতায়ও কামাল পারদর্শী ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমার দাদা, বাবা ফুটবল খেলতেন। খেলাধুলার প্রতি পারিবারিকভাবেই আমাদের আগ্রহ ছিল। কামালও খেলায় পারদর্শী ছিল। যুবসমাজকে সুসংগঠিত করার অনেক কাজ করে গেছে কামাল। বেঁচে থাকলে হয়তো যুবকদের জন্য আরও কিছু করত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে মানুষকে সম্পৃক্ত করা ও প্রচার প্রচারণা চালানোয়ও কামাল ভালো করেছে। সেসময় একজন একভোট ছিল, নির্বাচনে ভোটের প্রশিক্ষণ দিতে হতো। কামাল সে প্রশিক্ষণ দিত। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কামাল কাজগুলো করেছিল। ৭ মার্চের ভাষণের সময়ও মঞ্চে কামাল ছিল। সেখানেও সুসংগঠিত করার কাজ করেছে। ২৫ মার্চ সন্ধ্যা থেকেই ধানমন্ডি এলাকায় যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়ার কাজটি সে করে। আব্বাকে গ্রেফতারের পরে সে রাতেই সে ২৫টি বাড়ির ৫০টি দেয়াল টপকে বাসায় মাকে দেখতে আসে। আবার চলে যায়। সে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে। বাংলাদেশ সরকার কয়েকজনকে ওয়ার ট্রেনিং দেয়, সেখানেও কামাল ছিল। পরে তাকে ওসামনির এডিসি নিয়োগ দেয়া হয়।’

সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ক্রীড়া পুরস্কার দেয়া হয়।

রেডটাইমস/এমকে

ছড়িয়ে দিন

Calendar

September 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930