সব অফিসে অযোগ্যদের লজ্জাহীণ নাচানাচি

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৭

সব অফিসে অযোগ্যদের লজ্জাহীণ নাচানাচি

অদিতি ফাল্গুনী

এ্যাকশন এইডে আমার প্রাক্তন সহকর্মীদের একজন, জার্মানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক পিএইচডি গবেষক গত পরশু মন খারাপ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। শিশুদের প্রাথমিক পরীক্ষায় ইংরেজিতে প্রশ্নপত্রে অসংখ্য ভুল। গতকাল বাংলা ট্রিবিউনের সংবাদে দেখা যাচ্ছে সেই প্রশ্নপত্রের একটি বাক্যে ২০টি বানান ভুল। কিন্ত…প্রিয়, প্রাক্তন সহকর্মীকে বলি: এটাই ত’ এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তাই না? শুধু কি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায়? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার এই রসাতল অবস্থা ত’ চলছে বহুদিন ধরেই। বাংলাদেশে খোদ ইউএন সিস্টেম সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কাগজ-পত্রেও বিভিন্ন সময় বিচ্ছিরি রকমের ইংরেজি ব্যকরণগত ভুল দেখা যায়- যদি বাংলাদেশীরা সেগুলো তৈরি করে। কোন বাংলাদেশী কর্মী- তার শেক্সপীয়র বা ভার্জিনিয়া উলফ হবার দরকার নেই- যে মোটামুটি ব্যকরণ শুদ্ধ করে একটি বাক্য লিখতে পারে- যদি লজ্জিত হয়ে ভুল বাক্য নির্ভুল করতে যায়- ব্যস, ঐ অফিসে সব বাঙ্গালীর সে ‘গণশত্রু।’ সরকারী-বেসরকারী সব অফিসে অযোগ্যদের লজ্জাহীণ নাচানাচি। ব্যতিক্রম নেই তা’ বলি না- তবে ব্যতিক্রমই। আপনি শিক্ষিত হলেই- সেটা এমনকি ফেসবুকে ওপার বাংলার হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে একজন স্কুলশিক্ষকও যতটুকু কোয়ালিটি ইংরেজি লেখেন বা লিখতে পারেন- আমাদের এখানে সমাজে-রাষ্ট্রে ছড়ি ঘোরানো মানুষগুলো- মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করা মানুষগুলোর ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ ন্যূণতম শুদ্ধ ইংরেজি লেখা-বলা দূরে থাকুক- প্রমিত বাংলা শুদ্ধ উচ্চারণে বলতে পারেন না সাংসদ, মন্ত্রী, বিচারপতি, সাংবাদিক, টিভি প্রতিবেদক, রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রায় কেউই। আপনি ন্যূণতম শুদ্ধ বাংলা-ইংরেজি জানলে ত’ আপনি ‘পিপলস এনিমি।’ বিদেশে প্রশিক্ষণ পাবেন না, বারবার চাকরি ছাড়তে হবে। সব পদোন্নতি, সব বিদেশে প্রশিক্ষণ ধূর্ত ও তেলবাজ মূর্খদের (ব্যতিক্রম সহই)। এ জাতির কি হবে? কিচ্ছু সম্ভব না। দিনের শেষে পাশের দেশ ভারত বা ঐ শ্রীলঙ্কা থেকেও পরামর্শক আনতে হবে কোটি কোটি টাকা দিয়ে। তবে, আমার পাশের ডেস্কের বাংলাদেশী শুদ্ধ বাংলা বা ইংরেজি লিখতে-বলতে পারে (আহা মরি মানের হবার দরকার নেই) এটুকু মানার আগে অনেকে ‘হারাকিরি’ করতে রাজি হন। শেষমেশ নিজে ত’ হারাকিরি করে না- মূূর্খদের সিন্ডিকেট মিলে (৮০ শতাংশ) যোগ্যদের (২০ শতাংশ) সব জায়গা থেকে তাড়ায়। কিছু যোগ্য কি তাই বলে টিঁকে থাকে না? থাকে। তারা মানুষ হিসেবে শক্ত। তবে, যে ছেলেটি বা মেয়েটি শৈশব-কৈশোর-যৌবনে এটা জেনে বড় হয়েছে যে নির্ভুল লেখা-পড়া শিখলে আর পরিশ্রমী হলেই ভাল  ক্যারিয়ার হবে তার মত ‘মিসফিট’ বর্তমান বাংলাদেশে নেই। কোন ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলা এদেশে আর থাকতে পারছে না। কেউ কেউ যারা আছে, তারা অসহ কষ্টে আর যোগ্যতার ১/১০০ ভাগ পেয়ে দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে আছেন।

এই রাষ্ট্রের সত্যিই কোন ভবিষ্যত আছে বলে মনে হয় না। সিডর-সুনামি সহ্য করা যায়, যুদ্ধ-দাঙ্গা বা হিরোশিমা-নাগাসাকি বিপর্যয়ের পরও গাছে আবার সবুজ পাতা দেখা দিলেও দিতে পারে, রসাতলে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কিছুই সম্ভব নয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

লাইভ রেডিও

Calendar

May 2024
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031