ঢাকা ১৪ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


সব কটি নদী আক্রান্ত হয়েছে দখলদারদের হাতে

redtimes.com,bd
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সব কটি নদী আক্রান্ত হয়েছে দখলদারদের হাতে

বাংলাদেশের প্রায় সব কটি নদী আক্রান্ত হয়েছে দখলদারদের হাতে । এই দখলদারদের বড় অংশই ভূমিদস্যু । জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন জানিয়েছে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা মোট ৪০৬টি । এর একটিও দখলদারদের হাত থেকে রেহাই পায়নি ।

হাই কোর্টের নির্দেশে সরকারের চিহ্নিত করা দখলকারদের একটি তালিকা সম্প্রতি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রকাশ করেছে। সেখানে সারা দেশে নদী, খাল-বিল, জলাশয়-জলাধার দখলকারীর সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার।ঢাকার আশেপাশের চারটি নদী, খাল, জলাধারের দখলকারী হিসেবে উঠে এসেছে বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ ও আবাসন প্রকল্পের নাম।
নদী রক্ষা কমিশনের দেয়া তালিকা অনুযায়ী অনেক চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে । গুলশান ভূমি অফিসের দেওয়া প্রতিবেদনে ভাটারা খালের বিশাল জমি দখলকারী হিসেবে কেবল ‘বসুন্ধরা হাউজিং কোম্পানি লিমিটেড’ এর নাম রয়েছে।

এছাড়া গুলশান সার্কেলের বাওথার তলনা খাল, ঢেলনা খাল, ডুমনী কাঁঠালদিয়া খাল, জোয়ার সাহারা কাঁঠালদিয়া খাল ও ভাটারা কাঁঠালদিয়া খালের জমি দখলেও রয়েছে বসুন্ধরা হাউজিংয়ের নাম।

মতিঝিল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দেওয়া তালিকায় উঠে এসেছে আভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিওটিএ)র নাম। কদমতলী মৌজায় বুড়িগঙ্গা নদীর জমি দখল করে বিআইডব্লিওটিএ ‘বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক’ গড়ে তুলেছে।

বুড়িগঙ্গার জমি দখলকারীর তালিকায় মেসার্স ম্যাক এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড, চান টেক্সটাইল মিল লিমিটেডসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম এসেছে।

আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলে বেগুনবাড়ি খালের জমি দখলকারীর তালিকায় স্থানীয় ব্যক্তিদের পাশাপাশি এসেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।

আর ধানমন্ডি সার্কেলের রামচন্দ্রপুর মৌজায় খালের জমি দখলে নবী নগর হাউজিং, মোহাম্মদী হাউজিংয়ের নাম রয়েছে অবৈধ দখলদারদের তালিকায়।

তবে এ তালিকা এখনও অসম্পূর্ণ এবং দখলদারদের চিহ্নিত করার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার।

তিনি বলেন, সারা দেশে যত নদী আছে, তার সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে। এসব দখল উচ্ছেদে বছরব্যাপী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।

নদীর জায়গা দখল করে আবাসন প্রকল্প ও শিল্প কারখানা গড়ে তোলার পাশাপাশি দোকানপাট ও বাজার হয়েছে। ঘড়বাড়ি করে স্থানীয়রাও নদী-খালের জমি অবৈধভাবে দখল করেছে। দখলে পিছিয়ে নেই সরকিারি বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠানও।

নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে নদী দখলকারীদের বিভাগভিত্তিক যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে ৬২ জেলায় নদী, খাল-বিল, জলাশয়-জলাধার দখলকারী হিসেবে ৪৬ হাজার ৮৩৯টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম এসেছে।

এই তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নদীর জমি অবৈধভাবে দখল করেছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৫৯। আর ২ হাজার ১৮৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী, বাকলিয়া ও চাক্তাই খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছে।

গত ১ জুলাই প্রকাশিত হাই কোর্টের এক রায়ে নদী দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে বলা হয়। দেশের সব নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণার পাশাপাশি নদ-নদীর সুরক্ষা ও সংরক্ষণে নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করা হয়।

সেই রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ীই নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে দখলকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে নোয়াখালী জেলায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৮৩ জন দখলকারীর নাম এসেছে। আর সবচেয়ে কম ১৪ জন দখলকারীর তালিকা এসেছে লালমনিরহাট থেকে।

কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ময়মনিসংহ ও পঞ্চগড় জেলা বাদে ৬২ জেলার তালিকা আমরা এ পর্যন্ত প্রকাশ করেছি। বাকিদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে। হাই কোর্টের রায়ে স্থানীয়ভাবেও দখলদারদের নাম-ঠিকানা উম্মুক্ত স্থানে টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031