সব কুল হারিয়ে বিএনপি এখন দিশেহারা ঃ সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৮

সব কুল হারিয়ে বিএনপি এখন দিশেহারা ঃ সমাজকল্যাণমন্ত্রী

 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন ,”সব কুল হারিয়ে বিএনপি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।জাতীয় ঐক্যের নামে তারা জামাত ও দক্ষিনপন্থীদেরও হালাল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।তারা মুখে গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করে বেড়াচ্ছে অথচ গণতন্ত্রের কোন কাজ নিজেরাই করছেন না।আসলে বিএনপি বুঝে গেছে যে তাদের পায়ের তলায় আর মাটি নেই। তাই তারা মরিয়া হয়ে যা পারছে তাই করছে। তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এখন তারা শয়তানের সাথেও জোটে যেতে আপত্তি নেই বলে দাবী করছে। শয়তানের সাথে জোটে যেতে যাদের বিবেকে বাধে না তাদের মুখে আর যাই হোক অন্তত গণতন্ত্রের কথা মানায় না। বিএনপি’র গণতন্ত্রের মূলে হচ্ছে ফ্যাসিবাদী জনবিচ্ছিন্ন কোন গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা।অথচ গণতন্ত্রকে নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা,সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধিতা করা।বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষার মূল এই কাজগুলির ধারে কাছেও হাটছে না।কাজেই বিএনপি’র মুখে গণতন্ত্রের বুলি আর শোভা পায়না।”

আজ (০৪ অক্টোবর) বিকেলে যশোরের বাঘারপাড়ায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি যশোর জেলা ইউনিট আয়োজিত  জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলি বলেন তিনি ।
দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজনীতি করায় বিএনপি’র আজ এই পতন উল্লেখ করে মেনন আরো বলেন-“স্কুলের মাঠ দখল করে হাট বসানো,শিক্ষক নিয়োগে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়,স্কুল কলেজে এমপিও দেয়ার নামে টাকা আদায়,হাওয়া ভবনের নামে অদৃশ্য ১০% টাকা তোলার কথা এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি।পেট্রোল দিয়ে চলন্ত গাড়ীতে মানুষকে পুড়িয়ে মারার দৃশ্যও দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।দেশব্যাপী একযোগে সকল জেলায় কারা বোমা মেরেছে, একুশে আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যাকে কারা মেরে ফেলতে চেয়েছে তা আজ সকলের সামনে পরিষ্কার।বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আজীবন এসকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে,এখনও আছে,সামনেও থাকবে।কাজেই সকল ফ্যাসিবাদী,সাম্প্রদায়িক,জঙ্গীবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবেই।”
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দেশের ভবিষ্যত নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করছে উল্লেখ করে মেনন বলেন-“আজ দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু হয়েছে। এই মেলা দেখতে দেশের মানুষকে বিশেষ করে যুব সমাজকে যাওয়া উচিৎ। যুব সমাজের উন্নত ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে চলেছে।এই কাজের ফল আমরা খুব দ্রুতই দৃশ্যমান পাবো। বাংলাদেশ এখন এক অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এ বছর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।দেশের জিডিপি বেড়েছে কয়েকগুণ।দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের বিএনপি-জামাত শাসনের ৫৪০ ডলার থেকে এখন দাঁড়িয়েছে ১৭৫২ ডলারে।দারিদ্র্য কমে নেমে এসেছে ২২% শতাংশে৷রেমিট্যান্স বেড়েছে,বেড়েছে রপ্তানী আয়।বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার। মৎস্যচাষে বাংলাদেশ পৃথিবীর চতুর্থ ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়,গার্মেন্টস রপ্তানীতে দ্বিতীয় হয়েছে।অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সরকার পদ্মাসেতু নির্মাণের পাশাপাশি আরও বহু সেতু নির্মাণ,রেলপথ,মেট্রোরেল,এক্সপ্রেস ওয়ে,বহু সংখ্যক উড়াল সেতু,চার লেন বিশিষ্ট রাস্তা নির্মাণ,২০১৮ সালের মধ্যে সকল গ্রামকে বিদ্যুতের আওয়াতায় আনা,গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি হাসপাতাল,কৃষি,স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি বিষয় জানতে প্রতি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র ও সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মহাকাশের সাথে সংযুক্ত করার বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করেছে। সুতরাং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষের ভোটের মাধ্যমেই এই কাজের স্বীকৃতি চলে আসবে।”

বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবীর জাহিদ,কমরেড মোস্তফা লুৎফুল্লা এমপি,কমরেড হাফিজুর রহমান এমপি,কমরেড জাকির হোসেন,কমরেড নজরুল ইসলাম,কমরেড জিল্লুর রহমানসহ অন্যান্য ছাত্র যুব নেতৃবৃন্দ।