সমবায় অধিদপ্তরের বাজেট বরাদ্দ প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে

প্রকাশিত: ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

সমবায় অধিদপ্তরের বাজেট বরাদ্দ প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে

কামরুজ্জামান হিমু

বাংলাদেশের বিশাল পল্লী অঞ্চল এবং অনগ্রসর পল্লীবাসির উন্নয়নকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে নিয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিভাগ পশ্চাৎপদ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ক্ষুদ্র্র উদ্যোক্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, পল্লি উন্নয়ন-এর সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে ব্যাপকভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার মানবসম্পদ উন্নয়ন, পশ্চাৎপদ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মর্কমসংস্থান, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, বাজার-সংযোগ সৃষ্টি, দুগ্ধ উৎপাদন ও বহুমুখী সমবায় কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার জনগণের অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

সমবায় একটি জণকল্যাণমূলক আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ১৯০৪ সালে কৃষিঋণ বিতরণের উদ্দেশ্যে এই উপ-মহাদেশে সমবায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ সালে তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে সমবায়ের উন্নয়নে ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে সমবায়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন ও সাধারণ জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে সমবায়কে মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমবায়কে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করে সমবায়ের প্রতি তাঁর সমর্থনকে আরও অর্থবহ করেন। জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান সরকার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সমবায় খাতকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সমবায় অধিদপ্তরের বাজেট বরাদ্দ প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭১৫.৬১ লক্ষ টাকা হতে ২৫৪৪৮.০৪ লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ হতে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সমবায় অধিদপ্তরের ১ম শ্রেণির ২৩টি, ২য় শ্রেণির ২টি, ৩য় শ্রেণির ৫১টি এবং ৪র্থ শ্রেণির ৪৭টি মোট ১২৩টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির শূণ্য পদে ১ম শ্রেণিতে ২৪ জন, ৩য় শ্রেণিতে ১১৪০ এবং ৪র্থ শ্রেণিতে ৪৩২ জনসহ মোট ১,৫৯৬ জনকে নতুন নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে এবং সিলেট, বরিশাল রংপুর বিভাগে বিভাগীয় সমবায় কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমবায় কার্যালয় স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বর্তমান সরকারের সমবায়ের প্রতি প্রত্যাশিত গুরুত্বারোপ ও অর্থবহ সমর্থনের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল হতে অদ্যবধি অর্থনীতির বিভিন্ন খাত উপখাতে ১,০৪,৩৯৫টি নতুন সমবায় সমিতি নিবন্ধন লাভ করেছে- যার ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৪৯ জন (পুরুষ ৮২,৯৮,১০২ জন ও মহিলা ২৩,৮৬,৬৪৭ জন)। এ সকল সমবায় সমিতির বর্তমান কার্যকরী মূলধন ১২৫৩০.৬৭ কোটি টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ ৫৬৪৬.৪৮ কোটি টাকা। সমবায় অধিদপ্তরের ১১টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমবায়ীদের নেতৃত্ব সৃষ্টি, ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং আয়বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক বিভিন্ন ট্রেডে (বেসিক কম্পিউটার, ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ার্ক, মোবাইল সার্ভিসিং, ব্লক ও বাটিক, ক্রিস্টালের কাজ, সেলাই, মৌ-চাষ, মাশরুম চাষ এবং মৃৎশিল্প) ২০০৯ হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭১,০৪৮ জন সমবায়ীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২০০৯ হতে মার্চ ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৫ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে (প্রত্যক্ষ ৪৮,০২৪ জন এবং পরোক্ষ ৪, ৪০,০৩১ জন)। সমবায়ের মাধ্যমে অদ্যাবধি সৃষ্ট মোট কর্মসংস্থান ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯১ জন।

দেশের দুগ্ধ ও মাংস, মাছ, ফলমূল, শাকসব্জী উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগে হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প জাত পণ্য উৎপাদন, ক্ষুদ্রব্যবসা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ, পরিবহণসেবা, আর্থিকসেবা, গৃহায়ন সেক্টরে সমবায়ের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে।

বাংলাদেশে তিনটি পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও সমতল ভূমিতে বসবাসরত বিভিন্ন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর (গারো, হাজং, সাঁওতাল, কোচ, মনিপুরী, খাসিয়া, রাখাইন, বর্মণ, ইত্যাদি) জন্য বিশেষ কোনো উন্নয়ন প্রচেষ্টা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারই প্রথম সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে গারো সম্প্রদায়ের জনগণের জন্য ২০১০ সালে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের মাধ্যমে গারো জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশায় দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সম্পূর্ণ জামানতবিহীন ও সুদবিহীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপকারভোগী গারোদের টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং আত্ম-নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল জেলার ৬টি গারো নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত উপজেলার (ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, ঝিনাইগাতি, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা এবং মধুপুর) গারো সম্প্রদায়ভুক্ত ৩,২৯২টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গারো পরিবার আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের আয় বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটায় গারো জনগোষ্ঠীভুক্ত জনপদে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। তাদের আত্নবিশ্বাস বৃদ্ধি, নেতৃত্ব প্রদানে দক্ষতা এবং দেশের জনগোষ্ঠীর মূলস্রোতের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করার জন্য সরকারের এ উদ্যোগ খুবই সফল হয়েছে। বর্তমানে উক্ত ৪টি জেলার ৬টি উপজেলায় গারো সম্প্রদায়ের জন্য ৪৮০.০০ লক্ষ টাকার আবর্তক তহবিল চালু রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবং ৩৯তম জাতীয় সমবায় দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের নির্দেশনার আলোকে সমতলে বসবাসরত অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশায় কর্মসংস্থান সৃজনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে “সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়েছে, যা ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কম্পোনেন্ট আকারে সমবায় অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটি টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, রাজশাহী , নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কক্সবাজার জেলার ২৯টি উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ১০৬০০ জন উপকারভোগীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাসির উন্নয়নকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে নিয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিভাগ পশ্চাৎপদ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ক্ষুদ্র্র উদ্যোক্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, পল্লি উন্নয়ন-এর সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে ব্যাপকভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার মানবসম্পদ উন্নয়ন, পশ্চাৎপদ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মর্কমসংস্থান, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, বাজার-সংযোগ সৃষ্টি, দুগ্ধ উৎপাদন ও বহুমুখী সমবায় কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার জনগণের অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

সমবায় একটি জণকল্যাণমূলক আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ১৯০৪ সালে কৃষিঋণ বিতরণের উদ্দেশ্যে এই উপ-মহাদেশে সমবায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ সালে তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে সমবায়ের উন্নয়নে ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে সমবায়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন ও সাধারণ জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে সমবায়কে মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমবায়কে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করে সমবায়ের প্রতি তাঁর সমর্থনকে আরও অর্থবহ করেন। জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান সরকার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সমবায় খাতকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সমবায় অধিদপ্তরের বাজেট বরাদ্দ প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭১৫.৬১ লক্ষ টাকা হতে ২৫৪৪৮.০৪ লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ হতে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সমবায় অধিদপ্তরের ১ম শ্রেণির ২৩টি, ২য় শ্রেণির ২টি, ৩য় শ্রেণির ৫১টি এবং ৪র্থ শ্রেণির ৪৭টি মোট ১২৩টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির শূণ্য পদে ১ম শ্রেণিতে ২৪ জন, ৩য় শ্রেণিতে ১১৪০ এবং ৪র্থ শ্রেণিতে ৪৩২ জনসহ মোট ১,৫৯৬ জনকে নতুন নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে এবং সিলেট, বরিশাল রংপুর বিভাগে বিভাগীয় সমবায় কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমবায় কার্যালয় স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বর্তমান সরকারের সমবায়ের প্রতি প্রত্যাশিত গুরুত্বারোপ ও অর্থবহ সমর্থনের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল হতে অদ্যবধি অর্থনীতির বিভিন্ন খাত উপখাতে ১,০৪,৩৯৫টি নতুন সমবায় সমিতি নিবন্ধন লাভ করেছে- যার ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৪৯ জন (পুরুষ ৮২,৯৮,১০২ জন ও মহিলা ২৩,৮৬,৬৪৭ জন)। এ সকল সমবায় সমিতির বর্তমান কার্যকরী মূলধন ১২৫৩০.৬৭ কোটি টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ ৫৬৪৬.৪৮ কোটি টাকা। সমবায় অধিদপ্তরের ১১টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমবায়ীদের নেতৃত্ব সৃষ্টি, ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং আয়বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক বিভিন্ন ট্রেডে (বেসিক কম্পিউটার, ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ার্ক, মোবাইল সার্ভিসিং, ব্লক ও বাটিক, ক্রিস্টালের কাজ, সেলাই, মৌ-চাষ, মাশরুম চাষ এবং মৃৎশিল্প) ২০০৯ হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭১,০৪৮ জন সমবায়ীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২০০৯ হতে মার্চ ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৫ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে (প্রত্যক্ষ ৪৮,০২৪ জন এবং পরোক্ষ ৪, ৪০,০৩১ জন)। সমবায়ের মাধ্যমে অদ্যাবধি সৃষ্ট মোট কর্মসংস্থান ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯১ জন।

দেশের দুগ্ধ ও মাংস, মাছ, ফলমূল, শাকসব্জী উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগে হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প জাত পণ্য উৎপাদন, ক্ষুদ্রব্যবসা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ, পরিবহণসেবা, আর্থিকসেবা, গৃহায়ন সেক্টরে সমবায়ের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে।

বাংলাদেশে তিনটি পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও সমতল ভূমিতে বসবাসরত বিভিন্ন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর (গারো, হাজং, সাঁওতাল, কোচ, মনিপুরী, খাসিয়া, রাখাইন, বর্মণ, ইত্যাদি) জন্য বিশেষ কোনো উন্নয়ন প্রচেষ্টা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারই প্রথম সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে গারো সম্প্রদায়ের জনগণের জন্য ২০১০ সালে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের মাধ্যমে গারো জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশায় দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সম্পূর্ণ জামানতবিহীন ও সুদবিহীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপকারভোগী গারোদের টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং আত্ম-নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল জেলার ৬টি গারো নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত উপজেলার (ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, ঝিনাইগাতি, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা এবং মধুপুর) গারো সম্প্রদায়ভুক্ত ৩,২৯২টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গারো পরিবার আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের আয় বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটায় গারো জনগোষ্ঠীভুক্ত জনপদে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। তাদের আত্নবিশ্বাস বৃদ্ধি, নেতৃত্ব প্রদানে দক্ষতা এবং দেশের জনগোষ্ঠীর মূলস্রোতের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করার জন্য সরকারের এ উদ্যোগ খুবই সফল হয়েছে। বর্তমানে উক্ত ৪টি জেলার ৬টি উপজেলায় গারো সম্প্রদায়ের জন্য ৪৮০.০০ লক্ষ টাকার আবর্তক তহবিল চালু রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবং ৩৯তম জাতীয় সমবায় দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের নির্দেশনার আলোকে সমতলে বসবাসরত অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশায় কর্মসংস্থান সৃজনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে “সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়েছে, যা ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কম্পোনেন্ট আকারে সমবায় অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটি টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, রাজশাহী , নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কক্সবাজার জেলার ২৯টি উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ১০৬০০ জন উপকারভোগীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।