সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারেন্ট জাল ব্যবসায়ীরা অপ্রতিরোধ্য

প্রকাশিত: ৬:২১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারেন্ট জাল ব্যবসায়ীরা অপ্রতিরোধ্য

মুন্সিগঞ্জে স্থায়ীভাবে কারেন্ট জাল (মনোফিলামেন্ট) উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ বা ব্যবহার বন্ধের ঘোষণা করলেও দিনে-দুপুরে নির্বিঘ্নে উৎপাদন করা হচ্ছে কারেন্ট জাল। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কারেন্ট জাল ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে উৎপাদন করছে এসব জাল।
গত ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসন কারেন্ট জাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। কারেন্ট জাল (মনোফিলামেন্ট) স্থানীয়ভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় জেলা-উপজেলার মৎস্য অধিদফতর, র‌্যাব এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা ২১ দিনের অভিযানে ৮৭ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে।
কারেন্টজাল জব্দ করার পড়েও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না কারেন্ট জাল উৎপাদন। যে যার মতো করে রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ কোস্টগার্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কারখানায় উৎপানের কাজ চালাচ্ছে। এদিকে সদর উপজেলা ও পঞ্চসার ইউনিয়নের প্রায় ছয় শতাধিক কারখানায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উৎপাদন করছে বলে জানা যায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধের অভিযান ধারাবাহিকতা না থাকায় অসাধু কারখানার মালিকরা বেশি মুনাফার আশায় অনেকটা প্রকাশ্যেই উৎপাদন করে চলছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। গত কয়েকদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চসার ইউনিয়নের নয়াগাঁও, মিরেশ্বরাই ও মুক্তারপুরসহ কয়েকটি গ্রামের বাড়ির উঠানে ও ঘরের বারান্দায়, চালের গুদামঘরে কারখানা বসিয়ে কারেন্ট জাল (মনোফিলামেন্ট) উৎপাদন করা হচ্ছে।
বেশির ভাগ কারখানার সামনে কোনো সাইনবোর্ড নেই। প্রতিটি কারখানার বাহির থেকে তালা বদ্ধ করে ভিতরে কারেন্ট জাল উৎপাদন করা হচ্ছে। কারখানার সামনের অংশে উৎপাদন করা হচ্ছে মাল্টিফিলামেন্ট এবং ভিতরে কারেন্ট জাল (মনোফিলামেন্ট)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুক্তারপুর, নয়াগাঁও, মিরেশ্বরাই ও দুর্গাবাড়ি, ফিরিঙ্গিবাজার, বিনোদপুর, মালির পাথর, চন্দনতলা, দয়াল বাজার, বিসিক, সরকার পাড়া, গোসাইবাগ, দেওয়ান বাজার, মন্তান বাজার, ডিঙ্গাবাঙ্গা, হাতিমারা, সিপাহীপাড়া ও রামপালের এমন ছয় শতাধিক জাল উৎপাদনের কারখানা রয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কারখানা মালিকরা এসব জাল উৎপাদন করলেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কারেন্ট জাল উৎপাদন।

প্রশাসনকে ম্যানেজ করে উৎপাদন করা হচ্ছে এসব অবৈধ জাল। সরকারি কাগজপত্র, লাইসেন্স ছাড়াই জাটকা ও সবধরনের মাছের মরণ ফাঁদ কারেন্ট জাল উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন কারখানায়। কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে মাছের উৎপাদন যেমন কমে যাচ্ছে, তেমন দেশীয় প্রজাতির মাছও বিলুপ্ত হচ্ছে।
পঞ্চসার ইউনিয়নের বাসীন্দা মো. জাহাঙ্গীর জানান, কারেন্ট জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও আমাদের এলাকার সকল কারখানাগুলো সচল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান না থাকায় এবং কোস্টগার্ড, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এখনো নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উৎপাদন করছে ব্যবসায়ীরা।
কারখানার একাধিক শ্রমিকেরা জানান, এলাকার সব কারখানাতেই উৎপাদন হচ্ছে কারেন্ট জাল। আমরা পেটের দায়ে এ কাজ করি। আমাদের পরিবার চালাতে, মালিকদের কথা মতো কাজ করতে হয়।
কারেন্ট জাল উৎপাদন কারখানা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্গাবাড়ি এলাকার কারেন্ট জাল ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের তো ছোট ছোট কারখানা। যাদের কারখানায় ৮ থেকে ১০টি মেশিন থাকে, তাদের কারখানায় প্রশাসনে লোক যাচ্ছেনা না কেন? মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের কারখানায় কেন প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে না?
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. অলিউর রহমান জানান, আমরা চাইলেও অনেক সময় অভিযান চালাতে পারি না। ম্যাজিস্ট্রেট সংকটের পাশাপাশি পুলিশের সমস্যা রয়েছে। এর ফলে সময় মতো চাইলে তাদের পাওয়া যায় না। কিন্তু তার পড়েও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমাদের মৎস্য বিভাগের লোকবল সংকট রয়েছে। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম (পিপিএম) বলেন, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বন্ধের জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের যে কোনো ধরনের সাহায্য করতে আমরা প্রস্তুত। জেলার সকল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কারেন্ট জাল বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে। কারেন্ট জাল বিরুদ্ধে সব সময় জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স।