সরকার কি খুব নাজুক বোধ করছে

প্রকাশিত: ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০১৮

সরকার কি খুব নাজুক বোধ করছে

ফাহমিদুল হক

আমি শাহবাগে, অপরাজেয় বাংলায়, রাজু ভাস্কর্যে, প্রেসক্লাবে বা অন্য অনেক জায়গায় অনেক মানববন্ধন, অনেক প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছি। কিন্তু কখনোই পুলিশকে এরকম অ্যাগ্রেসিভ দেখিনি। আমার অংশ নেয়া সমাবেশগুলো প্রায় সবই নাগরিক-শিক্ষক-সংস্কৃতি কর্মী সমাবেশ, এধরনের সমাবেশ সাধারণত পুলিশ অনতিদূরে দাঁড়িয়ে থাকে, নোট-টোট নেয়। কিন্তু আজ ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ গিয়ে দেখি পুলিশ ব্যানার ছুঁড়ে ফুটপাতে ফেলছে, আর আশেপাশে প্রিজন ভ্যান, জলকামান ইত্যাদি। যখন বাকী বিল্লাহকে বেশ কয়েকজন পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে থাকে, তখন স্থির থাকতে পারি নি। বাকী বহুদিনের পরিচিত, বহু আন্দোলন-সমাবেশ একসাথে করেছি। আমি প্রিজন ভ্যানের দিকে এগুতে থাকি, দেখি রেহনুমা আপা ( নৃবিজ্ঞানী ও জাবির সাবেক অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ) আমার সামনে। তিনি বাকীকে খুঁজতে ভ্যানে উঠে পড়েন, আমিও উঠে পড়ি। তিনি ভেতরে এবং আমি ভ্যানের দরজায় দাঁড়িয়ে কনস্টেবলদের বলতে থাকি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে ডাকতে। তারপর অফিসারের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়, পরিচয় দেবার পরও তিনি বলতে থাকেন আপনি প্রিজন ভ্যান, সরকারি সম্পত্তি ভাঙতে এখানে আসছেন। এই উনাকে ধর। তারপর কয়েকজন পুলিশ আমাকে ধরে এবং আন্দোলনকারীরাও আমাকে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করে। ভ্যান স্টার্ট করার নির্দেশ দেয়া হয়, আন্দোলনকারীরা সামনে দাঁড়িয়ে যান, ভ্যান স্পিড বাড়িয়ে বাকী এবং রেহনুমা আপাকে নিয়ে চলে যায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, এই সমাবেশ করতে দেয়া হবে না, এটা প্রিডিসাইডেড ছিল। পরে বাসদ ও কমিউনিস্টি পার্টির সমাবেশ ঠিকঠাক হতে দেয়া হয়েছে।

আমার প্রশ্ন হলো, সরকার কি খুব নাজুক বোধ করছে, তাই নাগরিক সমাবেশকে এত ভয় পাচ্ছে? রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে, কিন্তু সাধারণ নাগরিক যে ক্ষোভে ফুঁসছে, তা জানার পর, আক্রমণকেই প্রতিরক্ষা হিসেবে ভাবছে?

লক্ষণগুলো খুব খারাপ ঠেকছে।

যারা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন, লিখে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, সবাইকে ধন্যবাদ।

ফাহমিদুল হক,শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়