সরকার ৩ বছর ধরে ধানের একই মূল্য নির্ধারণ করেছে ঃ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০

সরকার ৩ বছর ধরে ধানের একই মূল্য নির্ধারণ করেছে ঃ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি

“কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে” এ লক্ষ্যে আজ সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির মানববন্ধন হয়। দলীয় কার্যালয়ের ছাদের ওপর মানব বন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি । আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকের উৎপাদিত ধান ক্রয়ে লাভজনক মূল্য নিশ্চিত, খেতমজুরদের সারা বছর কাজ, রেশনিং ব্যবস্থা চালু, কৃষক ও বর্গাচাষীদের সুদমুক্ত ঋণের দাবিতে এই মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি । তিনি বলেন বাংলাদেশ এক কঠিন যুদ্ধে আবতীর্ন হয়েছে। যদিও এই শত্রুকে প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাচ্ছি না। যে প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে আজ তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন । গার্মেন্টস শিল্প বন্ধ। চিংড়ীতেও ধ্বস। এখন একমাত্র কৃষিই চালু আছে। এই মুহুর্তে প্রয়োজন কৃষি জমি, কৃষক ও বর্গাচাষীদের রক্ষা করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি সরকার যে ধান ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করেছে তা গত ৩ বছর ধরেই ওই একই মূল্য এবছরও নির্ধারণ করেছে। ৪০ কেজি ধান ১ হাজার ৪০ টাকা। আর উৎপাদিত ধানের মাত্র ২% কৃষকের কাছ থেকে নেওয়া হবে। এবছর সাপ্তাহিক মজুরি হয়েছে ৬ হাজার টাকা। গত বছর যা ছিলো ৫ হাজার টাকা। তারপরও মজুর পাওয়া যাচ্ছে না।

আমরা বলতে চাই উৎপাদিত ধানের ৫০% কৃষকের কাছ থেকে ১হাজার ২শ টাকা মূল্যে ক্রয় করতে হবে। কৃষক ও বর্গাচাষীদের সুদ মুক্ত ঋণ দিতে হবে। সারা বছর গ্রাম-শহরেরশ্রমজীবীদের রেশনিং ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষককে রক্ষা করতে পারলে এই মহামারীকে মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে। যদি কৃষক-খেতমজুরদের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা যায় তাহলে তাদের ত্রাণের কোন প্রয়োজন হবে না। কৃষক-খেতমজুর ত্রাণের জন্য ছুটবে না। ১৯৭১ সালে যেমন তারা ত্রাণ না নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধ করে দেশকে রক্ষা করেছিল আগামীতেও কৃষক-খেতমজুর দেশকে রক্ষা করবে, শহর কে রক্ষা করবে এবং দেশে দুর্বৃত্তায়ন প্রতিহত করবে।

আমরা ফটোসেশনে নেই। কৃষকের উদপাদিত ধান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের ২০ হাজার সদস্যরা ২ ঘন্টা করে ধান কেটে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়ল, সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি অধ্যাপক সাবীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ ময়নুল হাসান, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি অজিত কুমার রাজবংশী, সাধারণ সম্পাদক নির্মল সরকার, বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দ। উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সাতক্ষীরা জেলা শাখা সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফাহিমুল হক কিসলু, সম্পাদক ম-লীর সদস্য কমরেড আবেদুর রহমান, কমরেড স্বপন কুমার শীল প্রমুখ।
সাতক্ষীরার এক ব্যক্তি রবিবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার করণে সরকারি নির্দেশনা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর শ্রদ্ধা রেখে রাস্তায় মানববন্ধন না করে কার্যালয়ের ছাদে মানববন্ধন করে ওয়ার্কার্সপার্টির গণসংগঠন বা বন্ধু সংগঠন জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন। সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে শতাধিক কৃষক-খেতমজুর অংশ নেন।

ছড়িয়ে দিন